ঋণ কমানোর কথা বলে পুঁজিবাজারে এসে উল্টো বেড়েছে ১,৮৮৪ কোটি টাকা প্রকাশিত: ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিনিধি : সুদ ব্যয় কমানো ও ঋণ পরিশোধের উদ্দেশ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছিল ইফাদ অটোস পিএলসি। কিন্তু তালিকাভুক্তির ১১ বছর পর দেখা যাচ্ছে, ঋণ কমার বদলে কোম্পানিটির ঋণ ও লিজ দায় বেড়েছে ১ হাজার ৮৮৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। একই সময়ে কমেছে কোম্পানির মুনাফা ও লভ্যাংশ। পণ্য বিক্রিতেও তেমন অগ্রগতি হয়নি। কোম্পানিটির প্রসপেক্টাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৩০ জুন ইফাদ অটোসের মোট ঋণ ও লিজ দায় ছিল ১ হাজার ৪০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯২৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকায়। অর্থাৎ ১১ বছরে কোম্পানিটির ঋণ ও লিজ দায় বেড়েছে ১ হাজার ৮৮৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বা ১৮১ শতাংশ। ঋণের সঙ্গে বেড়েছে সুদ ব্যয়ও। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে কোম্পানিটির সুদ ব্যয় ছিল ১৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৫০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ এই সময়ে সুদ ব্যয় বেড়েছে ২৩৯ শতাংশ। অথচ ঋণ কমানোর কথা বলে ২০১৫ সালে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ৬৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছিল ইফাদ অটোস। প্রতিটি শেয়ারে ২০ টাকা প্রিমিয়ামসহ ইস্যু মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩০ টাকা। আইপিওর অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশ ঋণ পরিশোধ এবং অ্যাসেম্বলিং ও বডি বিল্ডিং ইউনিট নির্মাণে ব্যবহারের কথা জানিয়েছিল কোম্পানিটি। তালিকাভুক্তির আগে কোম্পানিটির ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিও ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০০৯-১০ অর্থবছরে ইফাদ অটোসের পণ্য বিক্রি ছিল ৪৫৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। চার বছরের ব্যবধানে তা ৮০ শতাংশ বেড়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৮১৫ কোটি ২৮ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। তবে তালিকাভুক্তির পরের ১১ বছরে বিক্রি বেড়েছে মাত্র ৯ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটির পণ্য বিক্রির পরিমাণ ছিল ৮৯২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। বিক্রিতে স্থবিরতার প্রভাব পড়েছে মুনাফাতেও। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ইফাদ অটোসের শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৫ টাকা ১৬ পয়সা এবং নিট মুনাফা ছিল ৪৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটি ৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা নিট লোকসান করেছে। অর্থাৎ এক দশকের ব্যবধানে মুনাফার পরিবর্তে লোকসানে চলে গেছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে এ সময়ে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১৮৬ শতাংশ বেড়ে ২৬৮ কোটি ২৫ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সাধারণ শেয়ারধারীদের লভ্যাংশ কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটি মাত্র ২ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। আইপিওর ৩০ টাকা ইস্যু মূল্যের হিসাবে এই লভ্যাংশের হার মাত্র শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ। ইফাদ অটোসের ঋণ বৃদ্ধি ও আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, অধ্যাপক খায়রুল হোসেন ও অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বাধীন দুই কমিশনের সময়ে কৃত্রিম আর্থিক হিসাব দেখিয়ে অনেক কোম্পানিকে আইপিওর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানানো হলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে জানতে গত ৩০ জুন থেকে ইফাদ অটোসের কোম্পানি সচিব মো. সাজ্জাদ হোসাইন তালুকদারের সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। News PhotoCard SHARES অর্থনীতি বিষয়: