জীবন বীমার প্রিমিয়ামের ৭০ শতাংশই পাঁচ কোম্পানির দখলে প্রকাশিত: ৩:৪৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিনিধি : দেশের জীবন বীমা খাতে প্রিমিয়াম আয়ের বড় অংশ কয়েকটি কোম্পানির হাতে কেন্দ্রীভূত। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল–জুন) ৩৪টি জীবন বীমা কোম্পানির মোট গ্রস প্রিমিয়াম আয়ের ৭০ দশমিক ৫ শতাংশ এসেছে মাত্র পাঁচটি প্রতিষ্ঠান থেকে। শীর্ষ দুই কোম্পানি একাই সংগ্রহ করেছে প্রায় ৪৮ শতাংশ। বিপরীতে, কয়েকটি কোম্পানির আয় ১০ কোটি টাকারও কম। একটি কোম্পানির আয় ছিল মাত্র ২ লাখ টাকা। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে জমা দেওয়া কোম্পানিগুলোর অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া গেছে। আইডিআরএর তথ্য অনুযায়ী, ৩৬টি কোম্পানির মধ্যে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩৪টি কোম্পানির মোট গ্রস প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ৩ হাজার ২৬১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রথম বছরের প্রিমিয়াম আয় ৮১৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা। দুটি কোম্পানি তথ্য জমা দেয়নি। মোট প্রিমিয়াম আয়ে শীর্ষে রয়েছে মেটলাইফ বাংলাদেশ। কোম্পানিটির আয় ৯৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আয় ৫৭৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। দুই কোম্পানির সম্মিলিত আয় ১ হাজার ৫৬২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যা খাতটির মোট প্রিমিয়ামের প্রায় ৪৮ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আয় ২৬১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২৫৮ কোটি ২৪ লাখ এবং সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২১৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। পাঁচ কোম্পানি মিলে প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে ২ হাজার ২৯৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, যা মোট আয়ের প্রায় ৭০ দশমিক ৫ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মোট প্রিমিয়াম আয় মাত্র ২ লাখ টাকা; প্রথম বছরের আয় শূন্য। ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মোট আয় ১ কোটি ১৩ লাখ, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১ কোটি ৮৬ লাখ এবং সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আয় ৩ কোটি ২ লাখ, গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩ কোটি ১৮ লাখ, যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪ কোটি ৪৩ লাখ, শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৫ কোটি ১৬ লাখ, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৫ কোটি ১৮ লাখ এবং লাইফ ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন অব বাংলাদেশের ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এনআরবি ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আয় ৭ কোটি ৩৩ লাখ এবং প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। তবে এক প্রান্তিকের আয় দিয়ে কোনো কোম্পানির ব্যবসা সংকুচিত হচ্ছে বা আর্থিক সংকটে রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এ জন্য আগের সময়ের আয়, নতুন পলিসি বিক্রি, নবায়ন ও বীমা দাবি পরিশোধের তথ্যও প্রয়োজন। প্রথম বছরের প্রিমিয়াম সংগ্রহেও এগিয়ে মেটলাইফ বাংলাদেশ ও ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স। দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানি দুটির আয় যথাক্রমে ১৮১ কোটি ১৯ লাখ ও ১৬৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। সম্মিলিত আয় ৩৪৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, যা ৩৪টি কোম্পানির মোট প্রথম বছরের প্রিমিয়ামের প্রায় ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ। ন্যাশনাল লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাজিম উদ্দিন বলেন, যথাসময়ে বীমা দাবি পরিশোধের পাশাপাশি লাইফ ফান্ড ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা ইতিমধ্যে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। গ্রাহকদের এই আস্থার কারণেই আমাদের ব্যবসা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এ সূচকে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আয় ৮৪ কোটি ৫০ লাখ, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৫৯ কোটি ৮৪ লাখ এবং গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আয় ৪৫ কোটি ৪৫ লাখ, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩৮ কোটি, আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩১ কোটি ১৭ লাখ, প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২৭ কোটি ৮০ লাখ এবং জীবন বীমা করপোরেশনের ২০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও বেঙ্গল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আয় যথাক্রমে ১৩ কোটি ৯১ লাখ ও ১৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১০ কোটি ৩৯ লাখ, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৯ কোটি ৬৯ লাখ এবং আকিজ তাকাফুল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রথম বছরের প্রিমিয়াম আয় ৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৭ কোটি ৩০ লাখ, জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৫ কোটি ২৬ লাখ, মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪ কোটি ৬৮ লাখ এবং এনআরবি ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আয় ৩ কোটি ৮৮ লাখ, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩ কোটি ৬৪ লাখ, আস্থা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩ কোটি ২৮ লাখ, লাইফ ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন অব বাংলাদেশের ২ কোটি ১৩ লাখ এবং যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আয় ১ কোটি ৮৩ লাখ, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১ কোটি ৭৭ লাখ, গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১ কোটি ৫৪ লাখ এবং হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আয় ৯৮ লাখ, শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৫৮ লাখ, সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪৫ লাখ এবং ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩৬ লাখ টাকা। বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রথম বছরের প্রিমিয়াম আয় শূন্য। ব্যবসায় পিছিয়ে পড়ার বিষয়ে বায়রা লাইফের সিইও নুর মোহাম্মদ ভুইয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের নতুন পলিসি বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ফলে প্রিমিয়াম আয় কমেছে। সম্প্রতি আইডিআরএ পলিসি বিক্রির অনুমতি দিয়েছে। এখন আমরা নতুন করে ব্যবসার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি, সামনে ভালো ব্যবসা করতে পারব। ডায়মন্ড লাইফের সিইও মো. রফিকুজ্জামান বলেন, গত জুনে শ্রীলঙ্কার একটি কোম্পানি ডায়মন্ড লাইফের ৬০ শতাংশ মালিকানা কিনে নিয়েছে। এ ছাড়া এজেন্টদের কমিশন নিয়েও কিছু সমস্যা ছিল। মূলত এ দুই কারণে আমাদের ব্যবসা কমেছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি–মার্চ) ৩৬টি জীবন বীমা কোম্পানির মোট গ্রস প্রিমিয়াম আয় ছিল ২ হাজার ৯১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। প্রথম বছরের প্রিমিয়াম আয় ছিল ৬৪৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। বীমা বিশ্লেষক ও আইডিআরএর সাবেক সদস্য সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লা বলেন, শীর্ষ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অন্যদের ব্যবসার ব্যবধানের পেছনে মূলত সাংগঠনিক সক্ষমতা ও গ্রাহকের আস্থা বড় ভূমিকা রাখছে। শক্তিশালী নেটওয়ার্ক, দক্ষ জনবল, উন্নত ব্যবস্থাপনা ও সময়মতো বীমা দাবি পরিশোধের কারণে কয়েকটি কোম্পানি জীবন বীমা ব্যবসায় অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। News PhotoCard SHARES অর্থনীতি বিষয়: