অজিত চন্দ্র আইচের নেতৃত্বে যমুনা লাইফে নবযাত্রা

প্রকাশিত: ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৬, ২০২৬

নুরনবী সোহেল, বিশেষ প্রতিবেদনঃ যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডে অজিত চন্দ্র আইচের যোগদানের পর প্রতিষ্ঠানটি এক নতুন গতি ও দিকনির্দেশনা লাভ করেছে। দীর্ঘদিনের কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা, অনিয়ম এবং ব্যবস্থাপনাগত সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে কোম্পানিটি এখন একটি সুসংগঠিত, প্রযুক্তিনির্ভর এবং স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পথে এগিয়ে চলেছে।

প্রথমত, ব্যবসায়িক কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্বের “অ্যাডজাস্ট প্যাকেজ” নির্ভর ব্যবসা থেকে সরে এসে শতভাগ প্রিমিয়াম জমার ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনা শুরু হয়েছে। এর ফলে আর্থিক স্বচ্ছতা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি নবায়ন ব্যবসার ভিত্তিও শক্তিশালী হয়েছে। যেখানে আগে নবায়ন প্রিমিয়ামের হার ছিল মাত্র ৫%, সেখানে আগামী বছর তা কমপক্ষে ৬০%-এ উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রযুক্তির ব্যবহারেও এসেছে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। একটি আধুনিক ইন্টিগ্রেটেড সফটওয়্যার সার্ভিস চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে গ্রাহকরা এখন ঘরে বসেই প্রিমিয়াম জমা দিতে পারেন এবং সহজেই পলিসির স্ট্যাটাস যাচাই করতে পারেন। এই উদ্যোগ গ্রাহকসেবাকে আরও সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ করেছে।

এছাড়া, প্রতিটি পলিসি অনুমোদনের আগে কল সেন্টারের মাধ্যমে গ্রাহকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ফলে ফেইক পলিসি ও ভুয়া ক্লেইম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। দক্ষ কল সেন্টার চালুর ফলে গ্রাহকের আস্থা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অতীতের কিছু নেতিবাচক ধারণা কাটিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ইতিবাচক সুনাম অর্জন করতে শুরু করেছে।

অজিত চন্দ্র আইচের নেতৃত্বে কোম্পানির একটি বড় আর্থিক ঝুঁকি দূর করা হয়েছে। ঢাকা ইউনিভার্সিটি গ্রুপ বীমা প্রকল্প, যা প্রতিবছর প্রায় ৩ কোটি টাকার লোকসান তৈরি করছিল, তা যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বন্ধ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কোম্পানির আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
কোম্পানির ওভারহেড খরচ কমানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রতিটি ফাংশনাল ডিপার্টমেন্টে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এখন আর কেউই জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়, এই নীতির সফল বাস্তবায়ন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও কর্মদক্ষতা বাড়িয়েছে।

অতীতের অনিয়ম ও ব্যক্তিস্বার্থে গড়ে ওঠা কিছু অনৈতিক সুবিধা বন্ধ করা হয়েছে এবং পূর্ববর্তী কার্যক্রমের হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনার আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি একটি সুশাসিত কাঠামোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি হলো পরিচালনা পর্ষদের সক্রিয় নজরদারি। এখন প্রতি মাসে ব্যবসার অগ্রগতি, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং সংগঠনভিত্তিক পারফরম্যান্স বোর্ডে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও গতিশীল ও কার্যকর হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের সততা ও দূরদর্শিতা কোম্পানিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বর্তমানে কোম্পানির বয়স ১২ বছর হলেও প্রত্যাশিত লাইফ ফান্ড অর্জিত হয়নি। তবে নতুন নেতৃত্বের অধীনে সেই ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে অভিজ্ঞ ও দক্ষ নতুন সংগঠক নিয়োগ, পুরনো লিডারদের পুনরুজ্জীবন, এবং নতুন কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। কমিশন কাঠামোতেও প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হয়েছে।
অজিত চন্দ্র আইচের পূর্ববর্তী কর্মজীবনের সফল অভিজ্ঞতা-সোনালীতে সাত বছর এবং প্রগ্রেসিভে সিইও হিসেবে তিন বছরের দক্ষ নেতৃত্ব – বর্তমান কর্মপরিকল্পনায় প্রতিফলিত হচ্ছে। তার দূরদর্শী পরিকল্পনা ও কার্যকর নেতৃত্বে যমুনা লাইফ এখন একটি শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাঁড়াচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যেই কোম্পানিকে আইপিওতে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, অজিত চন্দ্র আইচের নেতৃত্বে যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে, যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, প্রযুক্তি এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে একটি টেকসই ও সফল ভবিষ্যৎ গড়ে উঠছে।