আইডিআরএ’র সার্কুলার জারি ১ জানুয়ারি থেকে নন-লাইফে কমিশন বন্ধ হচ্ছে প্রকাশিত: ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫ নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে নন-লাইফ বীমা ব্যবসায় কোনো ধরনের কমিশন ব্যবস্থা থাকছে না। একই সঙ্গে ব্যক্তি বীমা এজেন্ট থাকবে না। খাত সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘদিনের দাবীর মুখে নন-লাইফ ব্যবসায়ে অবশেষে এখন কার্যকর হতে যাচ্ছে শুন্য কমিশন ব্যবস্থা। বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। সার্কুলারটি ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। আইডিআরএ’র নির্বাহী পরিচালক (নন-লাইফ) মনিরা বেগম স্বাক্ষরিত এই সার্কুলারে এ সব নির্দেশনার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নন-লাইফ বীমা খাতে শৃঙ্খলা জোরদার, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে ব্যক্তি এজেন্ট নিয়োগ, কমিশন প্রদান এবং উন্নয়ন কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত সকল বিষয় সদ্য ঘোষিত নতুন সার্কুলার (নন-লাইফ:১০৯/২০২৫) অনুযায়ি বাস্তবায়ন হবে। এতে আরও বলা হয়েছে, নন-লাইফ বীমা খাতে ব্যক্তি বীমা এজেন্টদের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নন-লাইফ বীমা ব্যবসায় কোনো ব্যক্তি বীমা এজেন্ট থাকবে না। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের (বিআইএ) সুপারিশ, নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত এবং ব্যক্তি এজেন্ট লাইসেন্স স্থগিতের প্রস্তাবের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়, কোনো বৈধ ব্যক্তি এজেন্ট লাইসেন্স কার্যকর না থাকায় এখন থেকে কোনো নন-লাইফ বীমাকারী ব্যক্তি এজেন্টকে কমিশন দিতে পারবে না। একই সঙ্গে বীমা আইন, ২০১০-এর ধারা ৫৮(১) অনুযায়ী, বীমা এজেন্ট ছাড়া অন্য কাউকেও কমিশন বা অন্য কোনো নামে পারিশ্রমিক কিংবা পারিতোষিক প্রদান করা যাবে না। নতুন নির্দেশনায় উন্নয়ন কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা নিয়েও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, উন্নয়ন কর্মকর্তাদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা সংগৃহীত প্রিমিয়ামের শতকরা হারে নির্ধারণ বা প্রদান করা যাবে না। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ছাড়া অন্যান্য সব উন্নয়ন কর্মকর্তার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বীমা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা উল্লেখ করে নিয়োগপত্র দিতে হবে এবং সে অনুযায়ী নিয়মিত বেতন পরিশোধ করতে হবে। এ ছাড়া, সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা আইডিআরএ’র পূর্ববর্তী সার্কুলার (নন-লাইফ: ৬৪/২০১৯) অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব থেকে সরাসরি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে ট্রান্সফার বা একাউন্ট পে-চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। উন্নয়ন কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও সুবিধা প্রদান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংবলিত ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন নিয়মিতভাবে আইডিআরএ’র কাছে জমা দেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে (অক্টোবর ২০২৫-ডিসেম্বর ২০২৫ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনসহ) প্রতি ত্রৈমাসিক শেষ হওয়ার ১০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত ছকে এই প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। তবে, এ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ব্যাংকাসুরেন্স পরিচালনাকারী ব্যাংক ও ইন্স্যুরটেক পরিচালনাকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে পূর্বে জারি করা কয়েকটি সার্কুলার ও স্মারকের নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছে। আইডিআরএ বলছে, নন-লাইফ বীমা পলিসি গ্রাহকদের স্বার্থ সংরক্ষণ, বীমাকারীদের আর্থিক ভিত শক্তিশালী করা এবং সামগ্রিকভাবে বীমা খাতের বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যেই এ নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব নন-লাইফ বীমা কোম্পানিকে এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালনের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আইডিআরএ’র এই নতুন ব্যবস্থায় নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবসায়ে কমিশন নিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যার একটি গ্রহনযোগ্য সমাধান হতে যাচ্ছে। এর আগে নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবসায়ে ১৫ শতাংশ কমিশন প্রদান আইন সম্মত হলেও ব্যবসা ধরতে এই আইন লংঘন করে ক্ষেত্র বিশেষে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কমিশন দিয়েও অনেক বীমা কোম্পানি ব্যবসা করেছে। এতে এ সেক্টরে একটি অসুস্থ প্রতিযোগিতা গড়ে উঠে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিগুলো আর্থিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেক কোম্পানির বেতন ভাতা অনিয়মিত হয়ে যায়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে গত কয়েক বছর ধরে বীমা কোম্পানিগুলো নিজেদের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা করেও কোন সুফল বয়ে আনতে পারে নাই। তবে বীমা ব্যবসায়িদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের (বিআইএ) বর্তমান সভাপতি সাঈদ আহমেদ নির্বাচিত হবার পর থেকে এ বিষয়টি নিয়ে আন্তরিক ভাবে প্রচেষ্টা চালান। নিজেদের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা করা ছাড়াও নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ’র সঙ্গেও কয়েক দফা বৈঠক করে অবশেষে নন-লাইফ ব্যবসায়ে একটি সুখবর বয়ে আনতে সক্ষম হন। একাধিক নন-লাইফ বীমা কোম্পানির সিইও’র সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এই সিদ্ধান্তে সন্তষ্ট। তবে তারা পাশাপাশি এ কথাও বলেছেন, সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি কার্যকর করার জন্য মনিটরিং ব্যবস্থা রাখতে হবে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: