ক্রাইম রিপোর্টার: দেশের একটি স্বনামধন্য ইসলামী বীমা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো ইতোমধ্যে বীমা খাতের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং গ্রাহক আস্থাকে নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোঃ মইনুল হাসান চৌধুরী এবং কোম্পানি সেক্রেটারি চৌধুরী এহসানুল হকের বিরুদ্ধে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ উত্তোলন ও বিতরণের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা বিভিন্ন নামে-বেনামে বেতন ও ভাতা হিসেবে উত্তোলন করা হয়। পরে এই অর্থ পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্যের মধ্যে ‘ঈদ বোনাস’ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের লেনদেন প্রচলিত কর্পোরেট গভর্ন্যান্স ও বীমা খাতের নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এছাড়া, প্রায় ২৬ লাখ টাকার ভুয়া ক্লেইম সেটেলমেন্ট দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে, যা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের ১৩ কোটিরও বেশি টাকার বীমা পলিসি বিক্রয়ের বিপরীতে মাত্র ৩ কোটি টাকার চেক গ্রহণ করে বাকি প্রায় ১০ কোটি টাকা ‘কমিশন সমন্বয়’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এটি সরাসরি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)-এর নীতিমালা লঙ্ঘনের শামিল।
সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি কোম্পানির চেয়ারম্যানকে ঘিরে। অভিযোগ রয়েছে, তার ব্যক্তিগত সম্পদের ক্ষতির বিপরীতে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্লেইম নিজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আদায়ের অপচেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে ক্লেইম বিভাগের কিছু কর্মকর্তা যোগসাজশে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগে নাম এসেছে—
ক্লেইম ডিপার্টমেন্টের প্রধান জহিরুল ইসলাম,
ইন্স্যুরেন্স ইনচার্জ জিল্লুর রহমান,
শেয়ার বিভাগের প্রধান লুৎফর রহমানসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা অবৈধভাবে নিয়ম লঙ্ঘন করে চেয়ারম্যানকে বিপুল অঙ্কের ক্লেইম পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অপরদিকে, প্রকৃত ও বৈধ ক্লেইমধারীরা দীর্ঘদিন ধরেও তাদের প্রাপ্য অর্থ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। অনেক আইনগত পাওনাদার একাধিকবার কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হলেও এখনো তাদের পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। এতে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে হতাশা, ক্ষোভ ও আস্থাহীনতা বাড়ছে।
এ বিষয়ে কোম্পানির এমডি মোঃ মইনুল হাসান চৌধুরী এবং কোম্পানি সেক্রেটারি চৌধুরী এহসানুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। একইভাবে আইডিআরএ-এর লাইফ মেম্বার আবু বক্কর সাহেবের সঙ্গেও যোগাযোগ করে তেনার অফিসে গিয়ে অফিস টাইম শেষ হওয়ার আগেই বাসায় চলে যাওয়াই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবস্থাপনা পর্যায় এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কিছু ব্যক্তির যোগসাজশ ছাড়া এত বড় পরিসরের অনিয়ম সম্ভব নয়। তারা বলছেন, দ্রুত নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দেশের বীমা খাতের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
বীমা শিল্পে শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও গ্রাহক আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে।