
নূরনবী সোহেল, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে এক বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ইস্তানবুল ব্লকচেইন টেকনোলজি লিমিটেড-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে ০৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে।
আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরুকে ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপস্থিত অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী এমপি। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “বিশ্ব এখন দ্রুত ব্লকচেইন প্রযুক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই প্রযুক্তি স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও দক্ষতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বাংলাদেশও ডিজিটাল রূপান্তরের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, আর এ ধরনের উদ্যোগ সেই অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইস্তানবুল ব্লকচেইন টেকনোলজি লিমিটেড দেশের প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইস্তানবুল ব্লকচেইন টেকনোলজি লিমিটেড ও ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডি. এম. এমদাদুল হক। তিনি তাঁর বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কৌশল তুলে ধরে বলেন, “আমরা শুধু একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চাই না, বরং এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চাই যেখানে দক্ষ জনবল তৈরি হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।” তিনি আরও জানান, ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে উদ্ভাবনী সমাধান তৈরি করে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলাই তাদের মূল লক্ষ্য।
ডি. এম. এমদাদুল হক প্রতিষ্ঠানের চলমান ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী মানবসম্পদ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত পরিচালকবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আমন্ত্রিত অতিথিরা। তারা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও সম্ভাবনাময় উল্লেখ করে এর সফলতা কামনা করেন। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর এই প্ল্যাটফর্মকে এগিয়ে নিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। নতুন এই যাত্রাকে কেন্দ্র করে তাদের মাঝে ভবিষ্যৎ নিয়ে দৃঢ় আশাবাদ লক্ষ্য করা যায়। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে দেশের প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন সবাই।
সার্বিকভাবে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়, যা প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্নপূরণে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।