বিশেষ প্রতিনিধি : বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ)’র নির্বাহী কমিটির ২০ সদস্য পদে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সংগঠনটির নন-লাইফ খাতে ১০টি সদস্য পদে আজ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হয় । এর আগে লাইফ খাতে ১০টি সদস্য পদে বিনা প্রতিদ্বান্দ্বতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয় । নন-লাইফ খাতে আজ নির্বাচন শেষে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হয় । ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ি সর্বোচ্চ ৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান সাঈয়্যেদ আহমেদ । এ পদে ৪০ ভোট পেয়ে এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী ইমাম শাহীন এবং ৩৭ ভোট পেয়ে জনতা ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক বেলাল আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।
নন-লাইফ বীমার নির্বাহী সদস্য পদে বিজয়ী অপর প্রার্থীরা হলেন- ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (৩১ ভোট), বাংলাদেশ ন্যাশনালের পরিচালক তায়েফ বিন ইউসুফ (৩১ ভোট), সিটি ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান হোসেইন আখতার (৩১ ভোট), রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী ড. এ কে এম সরোয়ার জাহান জামিল (৩১ ভোট) এবং গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী ফারজানা চৌধুরী (২৯ ভোট), ২৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী দু’জন যথাক্রমে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান কাজী শাখাওয়াত হোসেইন লিন্টু এবং স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী মো. আব্দুল মতিন সরকার। ২৮ ভোট পেয়েছেন ৩ জন। একজন বেশি হওয়ায় তাদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে ২ জনকে বেছে নিয়ে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। নন-লাইফ খাতে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা শেষে একই সময়ে লাইফ খাতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করা হয়।
লাইফ খাতে সদস্য পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১০ জন হলেন, বেঙ্গল ইসলামি লাইফের ভাইস চেয়ারম্যান আমিন হেলালী, সন্ধানী লাইফের চেয়ারম্যান মুজিবুল ইসলাম, ফারইস্ট ইসলামী লাইফের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, এনআরবি ইসলামিক লাইফের পরিচালক আরিফ সিকদার, ডেল্টা লাইফের পরিচালক আদিবা রহমান, বেস্ট লাইফের পরিচালক সৈয়দ বদরুল আলম, পপুলার লাইফের মুখ্য নির্বাহী বি এম ইউসুফ আলী, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী মো. কাজীম উদ্দিন, জেনিথ ইসলামি লাইফের মুখ্য নির্বাহী এস এম নুরুজ্জামান, প্রগতি লাইফের মুখ্য নির্বাহী জালালুল আজিম।
আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুরে ১ ঘন্টার বিরতি দিয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। ৪ টার পরে ভোট গনণা শুরু হয়। বিপুল সংখ্যক প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের উপস্থিতিতে ভোট গণনা করা হয় ভোট গণনা শেষে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান মীর নাসির হোসেন ফলাফল ঘোষণা করেন। এ সময় বোর্ডের অন্যতম সদস্য বিআইএ’র সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহমেদ এবং বিআইএ’র বর্তমান প্রেসিডেন্ট নাসির উদ্দিন আহমেদসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনটির ৮০ সদস্যের মধ্যে ভোটার ছিলেন ৭৬ জন। নির্বাচনে ৭৬ জন ভোটারের মধ্যে ৫৩ ভোট দেন।
বিআইএ’র নির্বাচনে এবারের নন-লাইফ বীমা খাতের ১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ৯ জন চেয়ারম্যান-পরিচালক এবং ১০ জন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন। অপরদিকে লাইফ বীমা খাতে ১০ নির্বাহী সদস্য পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগ্রহীরা আজ রোববার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২ টা পযর্ন্ত মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে পরবেন।
নির্বাচনে নন-লাইফ বীমা খাতের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারি প্রার্থী ছিলেন অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান কাজী শাখাওয়াত হোসেইন লিন্টু, সিটি ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান হোসেইন আখতার, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান সাঈয়্যেদ আহমেদ, প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেইন, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের ভাইস চেয়ারম্যান কে এম আলমগীর, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সের ইনভেস্টমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন জামাল, বাংলাদেশ ন্যাশনালের পরিচালক তায়েফ বিন ইউসুফ, জনতা ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক বেলাল আহমেদ, এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী ইমাম শাহীন, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী আহমেদ সাইফুদ্দীন চৌধুরী, গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী ফারজানা চৌধুরী, বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী মো. নূর-ই-আলম সিদ্দিকী, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী এএনএম ফজলুল করিম মুন্সি, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী ড. এ কে এম সরোয়ার জাহান জামিল, ইসলামি কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কাজী মোকাররম দস্তগীর, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী হাসান তারেক, সাউথ এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী মোহাম্মদ নুরুল আলম চৌধুরী এবং স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী মো. আব্দুল মতিন সরকার।
কমিটি নির্বাচনে সবধরনের স্বচ্ছতা বজায় রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন। এক কথায় বলা চলে এ ক্ষেত্রে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন।
বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ৮২ বছর বয়সী শেখ কবির হোসেন শেখ মুজিবুর রহমানের চাচাতো ভাই। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচা। এছাড়াও তিনি ছিলেন গোপালগঞ্জ জেলা সমিতির সভাপতি। এ পরিচয়ে তিনি বীমা মালিকদের সংগঠন বিআইএ’সহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদ আকড়ে ধওে রেখেছিলেন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার পলায়ন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ২১ অক্টোবর বিআইএ’র প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করে সড়ে দাড়ান শেখ কবির হোসেন।
বিআইএ’র বর্তমান নির্বাহী কমিটির ২০২৩-২০২৪ মেয়াদ শেষ হবে ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল। স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন পদত্যাগ করায় প্রথম ভাইস-প্রেসিডেন্ট নাসির উদ্দিন আহমেদ (পাভেল) অবশিষ্ট সময়ের জন্য প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন কওে যাচ্ছেন। গত ২৮ অক্টোবর সংগঠনে ২১৮তম নির্বাহী কমিটির সভায় তিনি এ দায়িত্ব পান। তিনি বর্তমান নির্বাহী কমিটির বাকি সময় দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচিত নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে তিনি সম্মানের সাথে বিদায় নিবেন।