
মোঃ নুরনবী সোহেল, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এশিয়া পোস্টকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী।
শনিবার (২৩ মে) প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের পক্ষে এ নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানভীর আহমেদ আল-আমিন।
এশিয়া পোস্টের সম্পাদক ও প্রকাশক পলাশ মাহমুদ এবং প্রতিবেদক জাকারিয়া নূরীকে পাঠানো নোটিশে আগামী সাত দিনের মধ্যে সংবাদটি প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যথায় ১ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের মামলা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ১৯ মে এশিয়া পোস্টে ‘মাসুদ সাঈদীর ইস্তানবুল হোটেলে বিনিয়োগকারীদের ১৭৫ কোটি টাকা গেল কোথায়’ এবং ২০ মে ‘৬ বিঘার অনুমোদন নিয়ে ৩০ বিঘার শেয়ার বিক্রি করছে মাসুদ সাঈদীর ইস্তানবুল হোটেল’ শিরোনামে দুটি সংবাদ প্রকাশ হয়। ওই দুটি সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতেই এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে আইনজীবী বলেছেন, ‘ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লি. শেয়ার দ্বারা সীমাবদ্ধ একটি প্রাইভেট কোম্পানি, যা বাংলাদেশের আইনের অধীনে নিগমিত। আমাদের ২নং মক্কেল জনাব মাসুদ সাঈদী কোম্পানির চেয়ারম্যান। তিনি এই দেশের একজন শিক্ষিত এবং শান্তিপ্রিয় নাগরিক। তিনি একটি অত্যন্ত সম্মানিত এবং সুপরিচিত মুসলিম পরিবারের সন্তান। জনাব মাসুদ সাঈদী নিজে একজন প্রখ্যাত ব্যক্তি এবং তার শালীনতা, সততা, নিষ্ঠা এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে সম্মানিত। তিনি পিরোজপুর-১ আসন থেকে বর্তমান সংসদের একজন সদস্য। পিরোজপুর সদর, জিয়ানগর এবং নাজিরপুরের ভোটাররা গত সংসদ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে তাকে তাদের সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। এর আগে তিনি ইন্দুরকানী উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাই তিনি একজন সুপরিচিত জনপ্রতিনিধি (পাবলিক ফিগার)।’
‘২০২৫ সাল থেকে ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লি. কুয়াকাটায় একটি হোটেল প্রকল্প গ্রহণ করেছে এবং প্রকল্পের জমির শেয়ার বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছে। তুলনামূলকভাবে নতুন একটি প্রকল্প হওয়া সত্ত্বেও, মাসুদ সাঈদী এবং কোম্পানির অন্যান্য পরিচালকদের সুখ্যাতির কারণে এটি ক্রেতাদের কাছ থেকে খুব ভালো সাড়া পেয়েছে। উদ্যোক্তাদের স্বচ্ছতা ও সততার কারণে এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গায় পরিণত হয়েছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে কোম্পানিকে আস্থার এই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া আমাদের মক্কেলদের জন্য অত্যন্ত কঠিন একটি যাত্রা ছিল।’
নোটিশে মাসুদ সাঈদীর পক্ষে আইনজীবী লিখেছেন, “গত ১৯ মে আপনাদের ‘এশিয়া পোস্ট’-এর অনলাইন সংস্করণে ‘মাসুদ সাঈদীর ইস্তানবুল হোটেলে বিনিয়োগকারীদের ১৭৫ কোটি টাকা গেল কোথায়’ শিরোনামের একটি সংবাদ প্রতিবেদনের মাধ্যমে আপনারা আমাদের মক্কেলদের সততা এবং প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি করেছেন। আপনারা একই সংবাদ প্রতিবেদন ভিডিও ফরম্যাটেও প্রকাশ করেছেন। এর পরের দিন ২০ মে তারিখে ‘৬ বিঘার অনুমোদন নিয়ে ৩০ বিঘার শেয়ার বিক্রি করছে মাসুদ সাঈদীর ইস্তানবুল হোটেল’ শিরোনামে একটি ফলোআপ প্রতিবেদনে এবং আপনাদের এশিয়া পোস্ট অনলাইন সংস্করণের আরেকটি ভিডিও প্রতিবেদনে আপনারা আমাদের মক্কেলদের সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো অব্যাহত রেখেছেন।”
“কোম্পানির ব্যাংক হিসাবের উদ্ধৃতি দিয়ে, আপনারা ১ম সংবাদ প্রতিবেদনে মিথ্যাভাবে প্রচার করেছেন যে বিনিয়োগকারীদের ১৯০ কোটি টাকার মধ্যে ৯২% অর্থাৎ ১৭৫ কোটি টাকা হিসাব থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। আমাদের মক্কেলরা বিনিয়োগকারীদের জমা করা অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, এমন একটি ভ্রান্ত ধারণা তৈরির উদ্দেশ্যেই এটি করা হয়েছে। সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে ‘চমকপ্রদ’, ‘আকৃষ্ট করে’, ‘প্রতারণা’, ‘প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস রেখে’, ‘সন্দেহ সৃষ্টি’ বা ‘৯২ শতাংশেরও বেশি টাকা তুলে ফেলা হয়েছে’ শব্দগুলোর ব্যবহার কোম্পানির বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মারাত্মক অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে, যা আমাদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে ভুল ধারণা এবং বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ তোলে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, আমাদের মক্কেলরা এখনও ১৯০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেননি এবং বিনিয়োগকারীরা যা জমা দিয়েছেন তা ১০০% সুরক্ষিত রাখা হয়েছে এবং একটি টাকাও আত্মসাৎ বা অপব্যবহার করা হয়নি।”
নোটিশে আরও বলা হয়, ‘‘গত ১৯ মে তারিখের ১ম সংবাদ প্রতিবেদনে আপনারা বিনিয়োগকারীদের মনে যথাসময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে একটি সন্দেহের সৃষ্টি করেছেন, যদিও আমাদের মক্কেলরা বিনিয়োগকারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে প্রকল্পটি যথাসময়ে সম্পন্ন হবে। আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আপনারা মিথ্যা প্রতিবেদন করেছেন যে আমাদের মক্কেলরা বেআইনিভাবে জনসাধারণের কাছে কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করছেন। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, আমাদের মক্কেলরা কখনোই কোম্পানির শেয়ার কোনো জনসাধারণের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দেননি। ১ম সংবাদ প্রতিবেদনে ‘আইন না মেনেই শেয়ার বিক্রি, বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন’ উপ-শিরোনাম ব্যবহার করে, আপনারা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকল্পের বৈধতা নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি করেছেন। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করার জন্য, আপনারা প্রতিবেদন করেছেন যে ‘বেশিরভাগ মানুষ কাগজপত্র নয়, বিশ্বাসের ওপর ভর করেই বিনিয়োগ করছেন’। এটি প্রকল্প সম্পর্কে জনসাধারণের মনে একটি মিথ্যা ধারণা তৈরি করবে।”
সংবাদে ৬ বিঘা জমির তথ্যের বিষয়ে নোটিশে বলা হয়েছে, “২০ মে তারিখের ২য় সংবাদ প্রতিবেদনটি ‘প্রকল্পে কেবল আর্থিক গরমিল নয়, জমি নিয়েও রয়েছে নানা জটিলতা’ এমন একটি মিথ্যা ও মানহানিকর মন্তব্য দিয়ে শুরু হয়েছে, যেখানে মিথ্যা দাবি করা হয়েছে যে ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লি. প্রকল্পের মাত্র ৬ বিঘা জমির মালিক। আপনারা যদি সঠিকভাবে অনুসন্ধান করতেন, তবে দেখতে পেতেন যে ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লি. ইতোমধ্যে প্রকল্পের জন্য বিপুল পরিমাণ জমি কিনেছে এবং বিক্রয়যোগ্য অধিকার না থাকা সত্ত্বেও প্রকল্পের এক ইঞ্চি জমিও বিক্রির চুক্তি করেনি। তাছাড়া, আপনাদের ২য় সংবাদ প্রতিবেদনে যে আইনি বিরোধের উল্লেখ করা হয়েছে তা প্রকল্পের সংলগ্ন কোম্পানির জমি সংক্রান্ত, যা বিক্রির জন্য প্রস্তাব করা হচ্ছে না। যদিও কুয়াকাটা পৌরসভা থেকে ১ দশমিক ৯১৪৬ একর জমিতে হোটেল ভবন নির্মাণের প্রাথমিক অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল, তবে প্রকল্পের অন্যান্য সুবিধাগুলো প্রকল্পের অবশিষ্ট জমিতে পরিচালিত হবে। আমাদের মক্কেল কুয়াকাটা পৌরসভা কর্তৃক আরোপিত সকল শর্ত মেনে চলতে বদ্ধপরিকর এবং এখন পর্যন্ত কোনো শর্ত লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।”
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের বিষয়ে নোটিশে বলা হয়েছে, “২য় সংবাদ প্রতিবেদনে আপনারা আমাদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে ‘প্রতারণা’ এবং ‘বড় ধরনের অনিয়ম’-এর অভিযোগ এনেছেন এবং দাবি করেছেন যে ‘কয়েকজন ভুক্তভোগী এসব প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে এশিয়া পোস্টের কাছে অভিযোগ জানান’। দয়া করে জেনে রাখুন যে এগুলো কোনো বাস্তব ভিত্তি ছাড়াই আমাদের মক্কেলের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ। আপনারা প্রতিবেদনে আমাদের মক্কেলের বিরুদ্ধে ‘প্রতারণা’র অভিযোগকারী একজন ব্যক্তির নামও উল্লেখ করতে পারেননি। এ ছাড়া নিছক জল্পনা-কল্পনা ছাড়া আপনারা প্রকল্পে কোনো ‘বড় ধরনের অনিয়ম’ শনাক্ত করতে পারেননি।”
মাসুদ সাঈদী এই দেশের একজন সুপরিচিত ব্যক্তি উল্লেখ করে নোটিশে আরও বলা হয়, “যদিও জনাব মাসুদ সাঈদী এই দেশের একজন সুপরিচিত পাবলিক ফিগার এবং একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য, তিনি কখনই কোম্পানির ব্যবসার প্রচারণার জন্য তার রাজনৈতিক দলকে ব্যবহার করেননি। কিন্তু সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে সমাজে তাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য মিথ্যা তথ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং দলকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ‘প্রচারপত্রে মাসুদ সাঈদীর ছবি ছেপে তাকে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসাবে উপস্থাপন করা হয়েছে’, যদিও তিনি সর্বজনস্বীকৃতভাবে কোম্পানির চেয়ারম্যান এবং কোম্পানির ব্যবসার প্রচারণার জন্য চেয়ারম্যানের ছবি ব্যবহার করাতে কোনো ভুল নেই। এই সহজ বিষয়টি সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে আমাদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে একটি ভুল ধারণা তৈরি হয়। পুরো প্রতিবেদনটি একটি অসৎ আনুষঙ্গিক উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছিল। জনাব মাসুদ সাঈদী সংবাদটি প্রকাশের আগে প্রতিবেদককে তথ্যটি পুনরায় যাচাই করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন বলে জানা গেছে, কারণ তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, ‘আপনি কোথাও ভুল করছেন মনে হয়। আপনি আবার ভালোমতো চেক করুন। আমি এখন দেশের বাইরে আছি। আমি বাংলাদেশে আসার পর আপনি অফিসে আসবেন। ইনশাআল্লাহ আপনার সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেব এবং কাগজ দেখিয়ে দেব।’।
কিন্তু তা সত্ত্বেও আপনাদের কেউ তাকে তার অবস্থান এবং কোম্পানির পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থনের একটি ন্যায্য সুযোগ দেওয়া বেছে নেননি। সমাজের সঠিক চিন্তাধারার মানুষের কাছে আমাদের মক্কেলদের মানহানি করতে এবং কোম্পানির ব্যবসা ধ্বংস করার মাধ্যমে আপনাদের বেআইনি লাভের জন্য এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছিল। এটি হলুদ সাংবাদিকতার একটি চরম দৃষ্টান্ত।”
সংবাদের কারণে ইস্তানবুল কর্তৃপক্ষের ১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে দাবি করে নোটিশে বলা হয়, “আপনাদের উপরোক্ত সংবাদ প্রতিবেদনগুলো পক্ষপাতদুষ্ট, অসত্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মানহানিকর এবং ভিত্তিহীন। উক্ত সংবাদ প্রতিবেদনগুলো আপনাদের ‘এশিয়া পোস্ট’ অনলাইন নিউজ পোর্টালে মুদ্রিত এবং ভিডিও উভয় ফরম্যাটেই ব্যাপকভাবে অনলাইনে প্রচারিত হয়েছে এবং সমাজের বিপুলসংখ্যক মানুষ তা দেখেছে। এই সংবাদ প্রতিবেদনগুলো আমাদের মক্কেলদের মারাত্মকভাবে মানহানি করেছে এবং তাদের কষ্টার্জিত সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। সংবাদ প্রতিবেদনগুলো সমাজের সঠিক চিন্তাধারার মানুষের কাছে তাদের ছোট করেছে এবং নিশ্চিতভাবেই আমাদের মক্কেলদের ব্যবসা এবং সুনামের মারাত্মক ক্ষতি করবে। আপনাদের মিথ্যা, ভিত্তিহীন, মানহানিকর এবং পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ প্রতিবেদনের ফলে আমাদের উভয় মক্কেলের অন্তত ১,০০০ কোটি (এক হাজার কোটি টাকা) ক্ষতি হয়েছে।”
সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য নিয়ে নোটিশে বলা হয়েছে, “গত ২১ মে আমাদের মক্কেলদের প্রতিবাদলিপি প্রকাশের নামে, আপনারা ‘মনগড়া একটি শব্দও লেখা হয়নি’ বলে আপনাদের আগের দুটি প্রতিবেদনকে ন্যায়সঙ্গত করার মাধ্যমে একই মানহানিকর মিথ্যা মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন। এটি কেবলমাত্র আরও মানহানির জন্য আপনাদের দায়বদ্ধতা বাড়িয়ে তুলবে। আপনাদের ‘সঠিক তথ্য সরবরাহ করা হলে ... ... সংশোধনেরও সুযোগ রয়েছে’ বিবৃতির মাধ্যমেই দুটি প্রতিবেদনের অসারতা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। সুতরাং এটি স্পষ্ট যে আপনারা আমাদের মক্কেলদের কাছ থেকে গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করার জন্য ঢিল ছুড়ছিলেন এবং আপনাদের প্রতিবেদনগুলো নিছক অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। দয়া করে জেনে রাখুন যে আইন এটি অনুমোদন করে না এবং আপনারা সুষ্ঠু সাংবাদিকতার সব সীমা অতিক্রম করেছেন।
এক হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের মামলা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে নোটিশে বলা হয়েছে, “সুতরাং এটি প্রতীয়মান হয় যে আপনারা উভয়েই আমাদের মক্কেলদের মানহানি করার এবং তাদের সুনাম ও ব্যবসার ক্ষতি করার অভিন্ন উদ্দেশ্য সাধনে কাজ করেছেন, যা আপনাদেরকে দণ্ডবিধির ৫০০/৫০১/৫০২/১০৯ ধারার অধীনে ফৌজদারি অপরাধের জন্য দায়ী করে, যার শাস্তি ০২ (দুই) বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা। আপনারা আমাদের মক্কেলদের উপরোক্ত ১,০০০ কোটি টাকার (এক হাজার কোটি টাকা) ক্ষতির জন্যও দায়ী এবং আপনাদের উপরোক্ত বেআইনি আচরণের ফলে আমাদের মক্কেলদের বেদনা, ভোগান্তি এবং ক্ষতির জন্য আরও ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।”
এশিয়া পোস্টের সম্পাদক ও প্রতিবেদককে ৭ দিনের আলটিমেটাম দিয়ে মাসুদ সাঈদীর আইনজীবী নোটিশে লিখেছেন, “আমরা আপনাদের উভয়কে অবিলম্বে মানহানিকর সংবাদ প্রতিবেদন এবং ভিডিওগুলো সরিয়ে ফেলার আহ্বান জানাচ্ছি এবং ভিত্তিহীন ও মিথ্যা সংবাদ প্রতিবেদনগুলোর জন্য আমাদের মক্কেলদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে এবং এই নোটিশ প্রাপ্তির ০৭ (সাত) দিনের মধ্যে অনুরূপ গুরুত্ব সহকারে আপনাদের এশিয়া পোস্টে উক্ত ক্ষমাপ্রার্থনা প্রকাশ করার আহ্বান জানাচ্ছি। এটি করতে ব্যর্থ হলে, আপনাদের উভয় এবং এশিয়া পোস্টের সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের মক্কেলের কাছ থেকে আমাদের প্রতি নির্দেশনা রয়েছে এবং সেই ক্ষেত্রে আপনারা এর যাবতীয় ব্যয় এবং পরিণতির দায়ভার বহন করবেন।”