আইডিআরএ'র একপেশে সিদ্ধান্তে অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে ভুক্তভোগিদের।
বিশেষ প্রতিনিধিঃ নিয়োগ নবায়ন প্রস্তাব অনুমোদনের আদেশ চেয়ে হাইকোর্টে রীট করেছেন যমুনা লাইফের সাবেক সিইও কামরুল হাসান খন্দকার। রীট পিটিশনের পর বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) প্রতি রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। রুলে কামরুল হাসানের নিয়োগ অনুমোদনের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, তা ১৩ জুনের মধ্যে জানাতে বলেছে আদালত।
হাইকোর্টের বিচারপতি মুহম্মদ খুরশীদ আলম সরকার এবং বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের দ্বৈত বেঞ্চে রীটের শুনানি হয়। গত ৩ জুন কামরুল হাসান খন্দকার আইডিআরএর নিয়োগ না মঞ্জুরের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রীট পিটিশন দাখিল করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটোর্নী জেনারেল হুমায়ন কবির, মিসেস ফরজানা রহমান স্বপ্না, মাসুদ রানা মোহাম্মদ এবং সহকারি অ্যাটোর্নী জেনারেল আলী আকবর খান। বাদির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আশীস কর্মকার এবং ফয়সাল আহমেদ রুমি।

কামরুল হাসান খন্দকার আদালতে বলেন, আইডিআরএ সিইও পদে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের দেয়া নিয়োগ নবায়ন প্রস্তাব অনুমোদন না করায় তার অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে। তিনি আর্জিতে বীমা কর্তৃপক্ষের এই আদেশ বাতিল করে তার নিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদনে আইডিআরএকে নির্দেশ প্রদানের জন্য মহামান্য আদালতের প্রতি আবেদন জানান।
বিজ্ঞ আদালত বাদি ও বিবাদি পক্ষের আইনজীবির বক্তব্য শুনে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে কেন বাদির নিয়োগ অনুমোদন করা হয়নি- এর কারন ব্যাখ্যা করতে দশ দিনের সময় দিয়ে রুল জারি করে।
এর আগে ১৯ মার্চ আইডিআরএ যমুনা লাইফের সিইও কামরুল হাসান খন্দকারের নিয়োগ নবায়নের আবেদন না-মঞ্জুর করে। এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য IDRA তে রিভিউ আবেদন করেন তিনি। এরপর বিষয়টি আদালতে পর্যন্ত গড়ায়। হাইকোর্টে এই রিভিউ পিটিশনের উপর শুনানি হয়। কামরুল হাসানের নিয়োগ অনুমোদনে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা আগামী ১৩ জুনের মধ্যে জানতে চেয়েছেন আদালত।

উল্লেখ্য সকল শর্তপুরণ করেই ইতোপূর্বে আই.ডি আর.এ যমুনা লাইফে মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে কামরুল হাসানের নিয়োগ অনুমোদন দিয়েছিল। আইডিআরএ'র নিয়োগ অনুমোদন, স্মারক নং. ৫৩.০৩.০০০০.০৩২.১১.০১৩.২০.১৫ তারিখ ২১-৩-২০২২ মেয়াদ : ১-১২-২০২০ হতে ৩০-১১-২০২৩ তিন বছরের জন্যে।

পরবর্তীতে যমুনার বোর্ড তাকে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্যে পুনরায় নিয়োগ নবায়ন অনুমোদনের জন্যে প্রস্তাব পাঠালে কামরুল হাসানের IDRA কর্তৃক ইতোপূর্বে গৃহীত বিদেশী ডিগ্রীর সমতাকরনের ইস্যুতে নবায়ণ না মঞ্জুর করে।
আইডিআরএ'র নামঞ্জুর পত্র: স্মারক নং ৫৩.০৩.০০০০.০৩২.১১.০০২.২৩.৪২ তারিখ ১৯-৩-২০২৪
নামঞ্জুরের পরে কোম্পানির পক্ষে ২৫-০৩-২০২৪ তারিখ যমুনা লাইফ নিয়োগ অনুমোদনের জন্যে রিভিউ আবেদন করে যাহার পত্র সুত্র নং জেএলআইসিএল/প্রকা/চেয়ারম্যান /২০২৪-১৮৮, ২৫-০৩-২০২৪ ইং

কোম্পানির রিভিউ আবেদন করার পরে IDRA কর্তৃক রিভিউ শুনানি পত্র স্মারক নং ৫৩.০৩.০০০০.০৩২.১১.০০২.২৩.৫৫ তারিখ ১২-৫-২০২৪ ইস্যু করেন। যাহাতে রিভিউ শুনানির তারিখ ০২-০৬-২০২৪ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এছাড়াও কামরুল হাসানের ইবাইস বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হতে অর্জিত স্নাতক ও এমবিএ ডিগ্রীও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় হতে সনদের সত্যতা পায়নি ইস্যুতে IDRA গ্রহন করেনি।
ব্যাংকবীমা অর্থ নিউজ.বিডি এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, কামরুল হাসান মালিকানা মামলায় দ্বিবিভক্ত ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরা শাখা হতে ডিগ্রি অর্জন করেন। কিন্তু IDRA কোন এক রহস্যজনক কারনে মালিকানা মামলায় দ্বিবিভক্ত ইবাইসের ধানমন্ডি শাখা হতে তার সনদের সত্যতা যাচাই করেছে। স্বভাবতই কামরুল হাসান ধানমন্ডি শাখায় অধ্যয়ন না করার কারনে উক্ত শাখা তার সনদের সত্যতা প্রত্যায়ন করেনি। IDRA যেহেতু কামরুল হাসানের অর্জিত ডিগ্রির সত্যতা যাচাইয়ের জন্যে ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রেরণই করেছিল তাহলে কেন উত্তরা শাখায় না পাঠিয়ে ধানমন্ডিতে পাঠিয়েছে সে প্রশ্ন রয়েই গেল। অথচ হাউজ নং-১৬, রোড নং -৫, সেক্টর নং- ৪, উত্তরা, ঢাকা ইবাইসের ওয়েবপেইজে ঠিকানা দৃশ্যমান। আমরা ইউজিএস এর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয় ব্যান্ড করেছে মর্মে কোন তথ্য পাইনি, শুধু ইবাইসের ক্যাম্পাস ঠিকানা নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে মামলা আছে সেই তথ্য ও সতর্কতা উল্লেখ করা আছে।

ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তারা আমাদের জানান যে, মালিকানা দ্বন্দ্ব ইস্যুতে ইবাইস ধানমন্ডি হতে উত্তরায় ক্যাম্পাস স্থানান্তর করে আনে, উক্ত ঠিকানায় একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে ২০১৯ সালে রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে
মহামান্য হাইকোর্ট ইবাইসের উত্তরা ঠিকানা হতে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার আদেশ প্রদান করেন। ইবাইস রিট পিটিশন নং ৫৪৮৫/২০১৯ রিট শুনানির পরে মহামান্য হাইকোর্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিএসকে ইবাইসের বর্তমান ঠিকানা বাড়ি নং-১৬, রোড নং -৫, সেক্টর - ৪, উত্তরা, ঢাকা অনুমোদন এবং ইবাইসের দুইটি ওয়েবসাইট ইউজিএস এর ওয়েবসাইটে প্রকাশের আদেশ প্রদান করেন। ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয় আইনগত অনুমোদন নিয়েই একাডেমিক কার্যক্রম করছে। অথচ ইবাইস থেকে অর্জিত ডিগ্রি এবং সনদসমুহ ইবাইসের যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সত্যতা যাচাইয়ের পরেও কোন ক্ষমতাবলে IDRA কামরুল হাসানের সনদসমুহ বাতিল করেছে তা খতিয়ে দেখা দরকার। পেছনের রহস্য কি সেই প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে.?
উক্ত রিট আদেশের কপিও IDRA কে ০২-০৬-২৪ তারিখে "কোম্পানির সিইও নিয়োগ নবায়ন" রিভিউ শুনানির সময়ে প্রদান করা হলেও তা IDRA রহস্যজনক কারনে তা উপেক্ষা করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেদককে জানায় যে, IDRA চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে রিভিউ শুনানিতে আবেদনকারি যমুনা লাইফের চেয়ারম্যানের সাথে কামরুল হাসানকে অংশগ্রহনের কোন সুযোগ দেয়া হয়নি, এমন কি যমুনার পক্ষে ল'ইয়ারকেও শুনাতিতে যোগ দিতে দেয়নি।
IDRA কর্তৃপক্ষ একতরফাভাবে একপেশে কামরুল হাসানের বিপক্ষে রিভিউ শুনানি করে এবং যমুনা লাইফকে লাইসেন্স বাতিল, প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে দিবে ও বিভিন্ন বিষয়ে হয়রানির ভয় দেখিয়ে কোন কথা বলারই সুযোগ দেয়নি। বিমাশিল্পে যেখানে দক্ষ ও সৎ মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার অভাব সেখানে IDRA এর এধরনের একপেশে সিদ্ধান্ত ও বহুমুখী আচরন বিমাশিল্পকে কতটুকু নিরাপত্তা দিবে তা প্রশ্নের সম্মুখীন।আমাদের অনুসন্ধানে আমরা দেখতে পাই যে,

কামরুল হাসানের দুরশিক্ষনের মাধ্যমে ডিমড ইউনিভার্সিটি অব লক্ষ্ণৌ, ইন্ডিয়া হতে অর্জিত বিদেশি ডিগ্রি ও ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয় হতে অর্জিত দুটি ডিগ্রির সনদই সঠিক, ইবাইস কর্তৃপক্ষও তা সঠিক আছে বলে প্রত্যায়ন করে।

মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে ইতোপূর্বে অনুমোদন থাকার পরেও নবায়ণ অনুমোদনের সময়ে বিদেশি ডিগ্রি ইউজিসি হতে সমতাকরণ না করণের বাধ্যবাধকতা শীথিলের সুযোগ থাকা স্বত্বেও IDRA আইনের মারপ্যাঁচে তাকে নবায়ণ নামঞ্জুর করে।
আমরা জানতে পারি, ২০১৫ সালের পর থেকে ইউজিএস দুরশিক্ষনের মাধ্যমে অর্জিত বিদেশি ডিগ্রি সমতাকরণ করে না। বিদেশি ডিগ্রি ইউজিএস থেকে সমতাকরণ না হলে ডিগ্রি গ্রহণযোগ্য নয় এই আইন শিক্ষার্থীদের অধিকার পরিপন্থী। বিষয়টা সংশ্লিষ্টরা নিশ্চয় ভেবে দেখবেন।
আইডিআরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের স্বজন প্রীতিতে বিতর্কিত ও ভূয়া সনদ এবং অন্যান্য অনেক শর্তাবলি সঠিক না থাকা স্বত্বেও অনেক মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ অনুমোদন পেয়েছন ইতিমধ্যে।

বীমা বিষয়ক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোন এক রহস্য জনক কারনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বিষয়টির সঠিক দিকগুলো দেখেও না দেখার ভান করছেন। আর এসমস্ত কারণে এ খাত থেকে অনিয়ম দুর করা যাচ্ছে না। তারা বলছেন এমন একটি সমাধানযোগ্য বিষয় দায়িত্বশীল ব্যাক্তিদের দ্বারা উপেক্ষিত হয়ে সিইওর নবায়ন থেকে বঞ্চিত হলে আগামিতে বীমাপেশার প্রতি মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলবে। আর তা যদি খোদ IDRA ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা কতৃক দেখেও না দেখার ভান করা হয় তাহলে এ খাতের মেজর বা মাইনর আইনগুলো উপেক্ষা করতে কেউ আর দ্বিধান্বিত হবে না, বরং সজন প্রীতিকে প্রাধান্য দেবে যা এই শিল্পের জন্য ভয়ংকর রূপ নিবে। তাই কর্তৃপক্ষের এমন ভুমিকা রাখতে হবে যেন এ খাতের বিশৃঙ্খলা না বাড়িয়ে সুনামের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে নেয়া যায় ।