
নুরনবী সোহেল, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সমুদ্রকন্যা খ্যাত কুয়াকাটা-এ পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে বৃহৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ইস্তানবুল হোটেল এন্ড রিসোর্টস। প্রায় ১০ একর জায়গাজুড়ে আধুনিক হোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কুয়াকাটার পর্যটন খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির সূত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেনপাড়া এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি আধুনিক হোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটিতে পর্যটকদের জন্য উন্নত আবাসন ব্যবস্থা, আধুনিক বিনোদন সুবিধা, পরিবারবান্ধব পরিবেশ এবং পরিবেশসম্মত অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ ও নূরানী মাদ্রাসা নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাব-কবলা ও বায়না সূত্রে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ একর (৩০ বিঘা) জমি ক্রয় ও অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শুরুতে সীমিত পরিসরে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও পরবর্তীতে পর্যটন সম্ভাবনা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা বিবেচনা করে এর পরিধি আরও বাড়ানো হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ১০ হাজার শেয়ার বিক্রি (বুকিং) সম্পন্ন হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও ২৬ হাজার শেয়ার বিক্রি (বুকিং) এর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিনিয়োগকারীদের অর্থ প্রকল্পের ডিপিআর (ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট) প্রস্তুত, জমি অধিগ্রহণ এবং প্রশাসনিক ও পরিকল্পনাগত বিভিন্ন কার্যক্রমে ব্যয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, পূর্বের ১০ একর জমির ওপর বৃহৎ পরিসরে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে।
প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডি এম এমদাদুল হক বলেন, “প্রাথমিকভাবে কিছু জমির অনুমোদন সম্পন্ন হয়েছে এবং ধাপে ধাপে প্রকল্প সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কিছু জমি সরাসরি ক্রয় করা হয়েছে, আবার কিছু জমি বায়নার মাধ্যমে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা সব ধরনের কার্যক্রম আইনগত প্রক্রিয়া ও সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ করেই পরিচালনা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “এটি শুধু একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ নয়; বরং কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। ভবিষ্যতে এটি দেশের পর্যটন খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।”
প্রতিষ্ঠানটির অ্যাডমিন ডিরেক্টর হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, “কুয়াকাটার অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অনেকেই এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক হোসেন বলেন, “এ ধরনের বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যও বৃদ্ধি পাবে।”
পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তা আব্দুর রহিম বলেন, “আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও রিসোর্ট গড়ে উঠলে পর্যটকদের অবস্থানের সময় বাড়বে। এতে স্থানীয় পর্যটন শিল্প আরও গতিশীল হবে এবং কুয়াকাটা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করবে।”
তবে প্রকল্পের কিছু জমি নিয়ে বিরোধ ও অভিযোগের বিষয়ও সামনে এসেছে। এ প্রসঙ্গে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের কাছে প্রয়োজনীয় বৈধ দলিল, কাগজপত্র ও মালিকানা সংক্রান্ত নথি রয়েছে।
কোনো পক্ষের আপত্তি থাকলে বৈধ কাগজপত্র নিয়ে আলোচনায় আসার আহ্বানও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোকাবিলা করা হচ্ছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কুয়াকাটা শুধু দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্র পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছেও আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।