বিশেষ প্রতিনিধি :
গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান কার্যালয় বেশ কিছুদিন থেকে তালা মারা রয়েছে। জানামতে, এই বীমা কোম্পানিটি বীমা গ্রাহকের দাবি পরিশোধে বছরের পর বছর ধরে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে চলেছে।
অথচ বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না। এতে করে বীমা গ্রাহকের স্বার্থ ক্ষুন্ন হচ্ছে এবং তারা তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে চরমভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে।
এই পত্রিকায় সাম্প্রতিককালে এই ব্যাপারে একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় বীমা আইন ২০১০ অনুযায়ী বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা।
দৃশ্যত গ্রাহকের দাবি পরিশোধে সক্ষমতা হারিয়েছে গোল্ডেন লাইফ। এ অবস্থায় বীমা আইন ২০১০ এর ৫০ ধারা অনুযায়ী বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করলে গোল্ডেন লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অন্যান্যদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার ক্ষমতা রাখে।
দাবি পরিশোধে সক্ষমতা কেন হারালো তার সুষ্টু তদন্ত ও গ্রাহকের দায় পরিশাধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে বীমা আইন ২০১০ এর ৯৫ ধারা অনুযায়ী বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা রাখে।
একই সাথে বীমা আইন ২০১০ এর ১৩৬ ধারা অনুযায়ী বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক আত্মসাৎ ও তছরূপকৃত লাইফ ফান্ডের টাকা উদ্ধার ও দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে গোল্ডেন লাইফের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করতে পারে।
দৃশ্যত বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গোল্ডেন লাইফের বিরুদ্ধে উপরে বর্ণিত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে আমাদের জানা নাই।
আশাকরি বীমা গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষায় এ ব্যাপারে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) তাদের অবস্থান পরিস্কার করবে।