চেয়ারম্যানের সেচ্ছাচারিতায় হোমল্যান্ড লাইফে বেহাল অবস্থা : অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে

প্রকাশিত: ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৫

বিশেষ প্রতিনিধি : চেয়ারম্যানের একক সেচ্ছাচারিতায় হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সে পরিচালকদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া এবং চেয়ারম্যানের একক সিদ্ধান্তে কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সি.সি) মোহাম্মদ আব্দুল মতিন ও উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক লুৎফুন নাহার আলোকে অপসারন করায় পরিচালকদের মধ্যে নতুন করে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। চেয়ারম্যান পরিচালকদের দ্বন্দ্ব’ পুনরায় প্রকাশ্য রুপ নেয়ায় কোম্পানিটির গ্রাহকদের ভাগ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কোম্পানিটির বিপুল সংখ্যক গ্রাহক দীর্ঘদিন তাদের বীমা দাবী পাচ্ছে না। এ অবস্থায় কোম্পানিতে আবার নতুনকরে বিরোধ দেখা দেয়ায় বীমা গ্রাহকদের ভাগ্য আরও অনিশ্চিত হতে চলেছে।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ কোম্পানিটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সি.সি) মোহাম্মদ আব্দুল মতিনকে অব্যাহতি দিয়ে একইদিন জাকির হোসেন সরকারকে ডিএমডি ও হেড অব মার্কেটিং পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। জাকির হোসেন বিরুদ্ধে কোম্পানির ১০৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগসহ কোম্পানিটির অর্থ আত্মসাৎ মামলার আসামি। কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে মতিঝিল থানায় জাকির হোসেন বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বীমা কোম্পানিটির ২ কর্মকর্তা।
সুত্র অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে মোহাম্মদ আব্দুল মতিনকে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সি.সি) এবংএকই মাসে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (মার্কেটিং) পদে নিয়োগ দেওয়া হয় লুৎফুন নাহার আলোকে। কিন্তু কোন অজানা কারনে ৬ মাস না যেতেই গত ১৩ ফেব্রুয়ারি একক সিদ্ধান্তে তাদের দুজনকেই অব্যাহতি দেন চেয়ারম্যান মো. জামাল উদ্দিন। তার এই একক সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিচালনা পর্ষদে পুনঃবিরোধের সুত্রপাত সৃষ্টি হয়েছে।
কোম্পানির সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে আজ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন চেয়ারম্যান মো. জামাল উদ্দিন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কোম্পানিটির পরিচালক কামাল মিয়া, ডিএমডি ও হেড অব মার্কেটিং পদে নতুন নিয়োগ পাওয়া কোম্পানির ১০৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযুক্ত আসামি জাকির হোসেন সরকার প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জামাল উদ্দিন তাদেরকে অব্যাহতি দেয়ার কারন ব্যাখ্যা করে বলেন, ভারপ্রাপ্ত সিইও মোহাম্মদ আব্দুল মতিন ও উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক লুৎফুন নাহার আলো ব্যবসায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে না পারায় তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। পদস্থ দুই কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেয়ার ক্ষেত্রে বোর্ডের অনুমোদন ছিল কিনা -এমন প্রশ্নের জবাবে জামাল উদ্দিন বলেন, বোর্ডের অনুমোদন অনুসারে তিনি কাউকে নিয়োগ দিতে পারেন এবং অব্যাহতি দিতে পারেন। তবে দুই কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বাের্ডের কোনো অনুমোদন নেই বলেও স্বীকার করেন তিনি। তিনি বলেন, গত ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে কোম্পানির কোনো বোর্ড সভা হয়নি। ফলে অনুমোদন নেয়া সম্ভব হয়নি।

অর্থ আত্মসাতের দায়ে মামলার আসামিকে ডিএমডি পদে নিয়োগ দেওয়া সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে জামাল উদ্দিন বলেন, মামলা আছে এ কথা আমার জানা নেই। তবে তাকে নিয়োগ দেওয়ার সময় ৪ জন পরিচালকের সম্মতি ছিল। তাদের মতামত নিয়েই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্যে জামাল উদ্দিন বলেন, কোম্পানির স্বার্থে ওদের টার্মিনেট করেছি। যতদিন তারা ছিল- কোম্পানির যে ব্যবসা-বাণিজ্যের টার্গেট দেওয়া ছিল, তারা তা পূরণ করতে পারেনি। বর্তমানে আমাদের ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ। আমাদের অনেক গ্রাহক আছে তাদের টাকা দিতে পারছি না।
চেয়ারম্যান আরো বলেন, আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চাই। আমরা আমাদের কাজ করতে চাই। তারা অফিসে থাকায় আমাদের কাজে বিঘ্ন ঘটছে। বীমা গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা আরেকটু ধৈর্য ধরুন। একটু সময় দিন। আপনাদের সবার পাওনা পরিশোধ করে দিব।
এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি হোমল্যান্ড লাইফের ১৫১তম বোর্ড সভা সিলেটে আহ্বান ককরা হয়। কিন্তু সিলেটে বোর্ডসভা আহ্বানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট মামলা করেন কোম্পানিটির সাবেক চেয়ারম্যান ও পরিচালক পরিচালক মোহাম্মদ জুলহাস। মামলার শুনানি শেষে ৪ সপ্তাহের জন্য সকল সভা স্থগিত করে রুল জারি করেন আদালত। হাইকোর্টের বিচারপতি জাফর আহমেদ ২ ফেব্রুয়ারি এই আদেশ দেন।