জেবিএবি সোনালী ইউনিটে ঝড়: বাপ্পি বহিষ্কার, সভাপতির দয়িত্বে শাহজাহান সিরাজ

প্রকাশিত: ১২:২৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০২৫

নূরনবী সোহেল, স্টাফ রিপোর্টারঃ সোনালী ব্যাংক পিএলসির জাতীয়তাবাদী ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (জেবিএবি) ইউনিটে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে কেন্দ্রীয় কমিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সংগঠনের নীতিমালা ভঙ্গ, শৃঙ্খলাভঙ্গ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অভ্যন্তরীণ বিভক্তি সৃষ্টির অভিযোগে জেনারেল ম্যানেজারের পিএ মাহবুব সোহেল (বাপ্পি)-কে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে শূন্য হওয়া নেতৃত্বের স্থানে সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ শাহজাহান সিরাজ-কে সাময়িকভাবে সভাপতির দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে পাঠানো বহিষ্কারপত্র এবং সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাপ্পির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো দীর্ঘমেয়াদি, গভীর এবং সংগঠনের স্থিতি নষ্ট করার মতো ছিল।

কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও সংগঠনের নীতি লঙ্ঘন

বাপ্পি বারবার কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা অমান্য করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সংগঠনের নীতিমালা অনুযায়ী কমিটির কার্যক্রম পরিচালনার কথা থাকলেও তিনি উল্টো আচরণ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতেন। এতে ইউনিটে নেতাদের মধ্যে আস্থাহীনতা বাড়ে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় উসকানিমূলক আচরণ

বহিষ্কারপত্রে উল্লেখ আছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাপ্পি বিভ্রান্তিকর মন্তব্য, মতানৈক্য সৃষ্টিকারী পোস্ট এবং সংগঠনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো আচরণ করেন। অতীতে তিনি স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের ব্যানারে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিলেও পরবর্তীতে নিজেকে জাতীয়তাবাদী পরিচয়ে স্থাপন করার চেষ্টা সংগঠনের কাছে সুবিধাবাদী মনোভাব হিসেবে ধরা পড়ে।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও আর্থিক অসঙ্গতি

জেনারেল ম্যানেজারের পিএ পদকে ব্যবহার করে বদলি–তদবির, প্রোমোশন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করছিলেন বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জমা হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কার্যালয়ের কেনাকাটা, বিল যাচাই ও বিভিন্ন ব্যয়ে অনিয়ম করে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা হতো তার ঘনিষ্ঠ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে।
একজন সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসারের পক্ষে অস্বাভাবিক—আফতাবনগরে কোটি টাকার ফ্ল্যাট, দামী গাড়ি ও বিলাসী জীবনযাপন—এগুলো তার আর্থিক অসঙ্গতিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সহকর্মীদের সাথে সংঘর্ষ

বাপ্পির কারণে ইউনিটে দীর্ঘদিন অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করে। ইউনিয়ন নেতাদের সাথে বিরোধ চরমে ওঠে এবং সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে, যা সংগঠনের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ পরিস্থিতিতে জেনারেল ম্যানেজার পর্যন্ত কারণ দর্শানো নোটিশের মুখে পড়েন, যা সংগঠনের অস্বস্তি বাড়িয়ে দেয়।

উচ্চপর্যায়ের নেতাদের আস্থাহীনতা

গত রমজানে জেবিএবির ইফতার মাহফিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাপ্পির উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। এ ঘটনা কেন্দ্রীয়ভাবে বড় সংকট তৈরি করে, এবং তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপকে আরও দৃঢ় করে।

নতুন সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ কেন্দ্রীয় কমিটি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সংগঠনকে পুনর্গঠিত করতে মোঃ শাহজাহান সিরাজ-কে সাময়িকভাবে সভাপতির দায়িত্ব প্রদান করেছে। নেতারা আশা করছেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে ইউনিটে স্থিতি ফিরবে এবং প্রকৃত জাতীয়তাবাদী, ত্যাগী ও বঞ্চিত নেতাদের যথাযথ মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।