ট্রেজারি বিল, বন্ড ও সঞ্চয়পত্রঃ সরকারি ঋণের সুদের হার নিম্নমুখী

প্রকাশিত: ৩:১৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ব্যাংক ও নন-ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার উপকরণগুলোর সুদহার নিম্নমুখী। গত জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক থেকে দেড় শতাংশ কমেছে। সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমেছে গড়ে দেড় শতাংশ। এসব উপকরণের সুদহার কমায় ব্যাংকগুলোয় ঋণের সুদহারও কিছুটা কমতে পারে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। এছাড়াও ঋণের সুদহার কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দেওয়া কম সুদের বিশেষ তহবিলগুলোর ব্যবহার আরও বাড়ানো হবে। এতে বাজারে কম সুদের ঋণের জোগান বাড়বে। এছাড়াও রপ্তানি আয়, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও আমানত বাড়ার কারণে ব্যাংকগুলোয় তারল্যের জোগান বেড়েছে। এতে আমানতের সুদহার কিছুটা কমবে, যা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অন্যান্য ঋণেও সুদহার কমাতে সহায়ক হবে।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সুদের হার গত বছরের নভেম্বর থেকে ১০ শতাংশ বহাল রয়েছে। চলতি মাসের শেষদিকে ঘোষিতব্য মুদ্রানীতিতে এ হার কিছুটা কমতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। নীতি সুদহার কমলে ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানোর জন্য বাজারে আরও একটি ইঙ্গিত যাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, ট্রেজারি বিল, বন্ড ও সঞ্চয়পত্রের সুদহার কামনোর মাধ্যমে বাজারে ঋণের সুদহার কমানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। নীতি সুদহার কমানোয় এ বার্তা আরও জোরালো হবে।

 

এদিকে ব্যাংকগুলোয় তারল্য বেড়েছে। গত জুনে ব্যাংকে অতিরিক্ত তারল্য ছিল ৫ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকা। নভেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকায়। এক বছরের হিসাবে ব্যাংকে আমানত বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। এর মধ্যে স্থায়ী আমানত বেড়েছে ১১ শতাংশ। স্থায়ী আমানত বাড়ায় ব্যাংকগুলোয় তারল্যের প্রবাহ টেকসই হচ্ছে। এর বিপরীতে অভ্যন্তরীণ ঋণপ্রবাহ বেড়েছে ১০ দশমিক ২০ শতাংশ। তবে ঋণের বড় অংশই বেড়েছে সুদ যোগ করার কারণে। ফলে তারল্য প্রবাহ টেকসই রূপ নিচ্ছে। এতে আগামী দিনে আমানতের সুদহার কিছুটা কমবে। বিশেষ করে ভালো ব্যাংকগুলোয় আমানতের সুদ কমে যাবে। ফলে ঋণের সুদহারও কমবে।

ব্যাংকগুলোয় তারল্য বাড়ায় কলমানির সুদের হারও কমতে শুরু করেছে। আগে কলমানির সুদের গড় হার ছিল ১১ শতাংশ। এখন তা ১০ শতাংশে নেমেছে। সরকারি ঋণের বিভিন্ন উপকরণের সুদহারও কমছে। ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদহার জুনে ছিল ১১ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এখন তা কমে ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ হয়েছে। ৬ মাস মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদহার গত জুনে ছিল ১২ শতাংশ। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এক বছর মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদহার জুনে ছিল ১২ শতাংশ। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার গত জুনে ছিল ১১ দশমিক ২০ শতাংশ। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশে। ৫ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহার একই সময়ে ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৫ শতাংশে। ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহার আলোচ্য সময়ে ১২ দশমিক ২৮ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশে।

গত ১ জানুয়ারি থেকে সরকারি খাতের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার গড়ে কমানো হয়েছে প্রায় দেড় শতাংশ। এদিকে ব্যাংকগুলোয় ঋণ ও আমানতের মধ্যকার সুদের হারের ব্যবধান এখনো বেশি। এ ব্যবধান কমিয়ে ঋণের সুদহার কামনোর উদ্যোগ নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আমানতের গড় সুদহার জুনে ছিল ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। একই সময়ে ঋণের সুদহার ১২ দশমিক ০৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ দশমিক ১৬ শতাংশে উঠেছে। দুই খাতের সুদের ব্যবধান বা স্প্রেড হচ্ছে ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এ ব্যবধান ৪ শতাংশের নিচে নামাতে হবে। ফলে স্প্রেড কমিয়ে ঋণের সুদহার এক থেকে দেড় শতাংশ কমানো সম্ভব।

বর্তমানে বেসরকারি খাতে বিভিন্ন ধরনের ঋণের সুদহার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ। আলোচ্য খাতে সুদহার নিম্নমুখী প্রবণতার প্রভাব ব্যাংকগুলোয় পড়লে ঋণের সুদহার ১০ থেকে ১৬ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনা সম্ভব।

সূত্রঃ যুগান্তর