নিজস্ব প্রতিনিধি : বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষের নেয়া পদক্ষেপে স্থগিতাদেশ চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছেন তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পিএলসি’র চেয়ারম্যান তাহমিনা আফরোজ। কোম্পানিটির পরিচালক নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের ঘটনা উঠে আসে তদন্তে। তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে আইডিআরএ’র দেয়া নির্দেশনা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রীট করেছেন কোম্পানির চেয়ারম্যান তাহমিনা আফরোজ। কোম্পানিটির পরিচালক নির্বাচনে চলমান বিরোধ এখন উচ্চ আদালত পযর্ন্ত গড়িয়েছে।
জানা গেছে, তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের ২৫তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) পরিচালক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরিচালকদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন কোম্পানিটির চেয়ারম্যান তাহমিনা আফরোজ। ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ করায় আইডিআরএ বিষয়টি তদন্তের জন্য নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান মাহফিল হক অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসকে নিয়োগ দেয়। তদন্তে ভোট গণনায় অনিয়ম প্রমাণিত হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ৮ ডিসেম্বর আইডিআরএ একটি নির্দেশনা জারি করে। এতে অনিয়মিতভাবে বিজয়ী ঘোষিত পাঁচ পরিচালকের পরিবর্তে বিধিমালা অনুযায়ী প্রকৃত বিজয়ী প্রার্থীদের দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অনিয়মিতভাবে বিজয়ী ঘোষিত পরিচালকরা হলেন যথাক্রমে এ বি এম কায়কোবাদ, মো. মাসুদুর রহমান, তাহমিনা আফরোজ, জিয়াউদ্দিন পোদ্দার এবং মো. সাইফুল ইসলাম। অন্যদিকে, আইডিআরএ’র তালিকায় প্রকৃত বিজয়ী হিসেবে নাম রয়েছে— মো. মফিজ উদ্দিন, ফারজানা রহমান, আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, নাফিসা সালমা এবং মো. ওসমান গণি।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন কোম্পানির তিন পরিচালক। তারা হলেন মো. আবুল হাসেম, মো. হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী এবং মো. আবুল হাসেম। তাদের অভিযোগ, বোর্ডকে পাশ কাটিয়ে চেয়ারম্যান একক সিদ্ধান্তে এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।
অভিযোগকারী পরিচালকদের দাবি, আইডিআরএ’র ওই নির্দেশনার বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন (নম্বর ২৮৬/২০২৬) দায়ের করা হয়েছে, যা বোর্ড সভায় কখনও আলোচিত হয়নি। রিট দায়েরের জন্য যে ‘অথরাইজেশন লেটার’ বা ক্ষমতারপত্র জমা দেওয়া হয়েছে, তা চেয়ারম্যান এককভাবে প্রদান করেছেন। নথিতে বোর্ড অনুমোদনের কথা উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে এর কোনো ভিত্তি নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পরিচালক নির্বাচন সংক্রান্ত আইনজীবীদের মতামত, নির্বাচন কমিশনের প্রতিবেদন এবং আইডিআরএ’র গুরুত্বপূর্ণ চিঠিগুলো পর্ষদ সভায় উপস্থাপন করা হয়নি।এমনকি কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং সচিবও এ বিষয়ে বোর্ডকে অন্ধকারে রেখেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান তাহমিনা আফরোজের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।