পদ্মা ইসলামী লাইফে দাবী পরিশোধে বেহাল অবস্থা প্রকাশিত: ৮:০৩ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২৫ বিশেষ প্রতিনিধি : ’ভাবনাহীন নিরাপদ জীবনের প্রতিশ্রুতি’ শ্লোগান ধারন করে সারাদেশে বীমা ব্যবসা শুরু করে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। অথচ এই কোম্পানিতে বীমা করে এখন বীমা টাকার নিরাপত্তা নিয়ে ভাবনায় লাখ লাখ বীমা গ্রাহক। বীমা কোম্পানিটি বীমা ব্যবসার নামে এক ধরনের প্রতারনার ফাঁদ পেতে সাধারণ জনগনের কষ্টার্জিত টাকা লুটে পুটে খাচ্ছে। একদিকে গ্রাহকের বীমাদাবী পরিশোধ করা হচ্ছে না, অপরদিকে বীমা পলিসি বিক্রি করে জনগনের পকেটের টাকা ছিনিয়ে আনছে। গ্রাহকের এই টাকায় কোম্পানির মালিক ও কর্মকর্তাদের বিলাসী জীবন যপান চলছে। আর বীমা করে মেয়াদ শেষে নিজের টাকা ফেরৎ পেতে গ্রাহককে রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। সঠিক তদারকি ও দেখভালের অভাবে এই কোম্পানিটি এখন একটি ফটকাবাজির বীমা কোম্পানিতে পরিনত হয়েছে। বেসরকারি জীবন বীমা কোম্পানি পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে বীমা দাবী পরিশোধ না করার অসংখ্য গ্রাহকের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পত্রিকার পাঠকদের ও নিয়ন্ত্রক সংস্থান নজরে আনতে এ প্রতিবেদনে মাত্র দু’জন বীমা গ্রাহকের কষ্টের ও ক্ষোভের বর্ণনা তুলে ধরা হলো। কোম্পানিটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ ভূইয়া। এই এমডির অতিত রেকর্ড ভাল নয়। তিনি যে কোম্পানির এমডি হয়েছেন, সেই কোম্পানির বারোটা বাজিয়ে ছেড়েছেন। এমন অথর্ব ও অযোগ্য লোককে বীমা কোম্পানির এমডি নিয়োগ দিয়ে এবং সেই নিয়োগ অনুমোদন করে কোম্পানির পরিচালনা বোর্ড ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা উভয়ের দায়িত্ব পালন প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। কোম্পানিটির পরিচালনা বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান শরিয়ত উল্লাহ্। তিনিও সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণরুপে ব্যর্থ হয়েছেন। গ্রাহকের বীমা দাবী পরিশোধের বিষয়টি তার কাছে তেমন গুরুত্ব পাচ্ছে না। কোম্পানিটি ২০০০ সালের ৩০ এপ্রিল ব্যবসার জন্য লাইসেন্স পেয়েছে। নানা অনিয়মে ও দুনীর্তিতে জড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানিটি দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। কোম্পানির মোট ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৭৬ গ্রাহকের মৃত্যুদাবী ও মেয়াদোত্তর বীমা দাবী বকেয়া রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ি ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পযর্ন্ত ৯ মাসে কোম্পানিটির ২৩১ কোটি ৮ লাখ ৯ হাজার টাকার বীমা দাবী উত্থাপিত হয়। এর মধ্যে মাত্র ১ কোটি ৮৭ লাখ ৩৯ হাজার টাকার বীমা দাবী পরিশোধ করা হয়। এ সময়ে অনিষ্পন্ন দাবী রয়েছে ২২৯ কোটি ২০ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। তবে বছর শেষ নাগাদ এই টাকার পরিমান আরও বেশি হবে বলে জানা গেছে। বর্তমানে কোম্পানিটির লাইফ ফান্ড বলে কিছু নেই। কোম্পানির মালিক ও কর্মকর্তারা সব লুটে পুটে খেয়ে এটি শেষ করে দিয়েছে। কোম্পানির লাখ লাখ বীমা গ্রাহক মেয়াদোত্তর বীমা দাবী ও মৃত্যুদাবীর টাকা ফেরত পাচ্ছে না। প্রচলিত বীমা আইনে মেয়াদ পূর্তির তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে গ্রাহকের বীমা দাবীর টাকা পরিশোধ করার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ কোম্পানিটি মাসের পর মাস বছরের পর বছর ধরে গ্রাহককে তার দাবীর টাকা ফেরৎ না দিয়ে হয়রানি করে আসছে। ভূক্তভোগি অসংখ্য বীমা গ্রাহক কোম্পানিটির প্রধান কার্যালয়ে ধর্ণা দিয়ে তাদের টাকা পাচ্ছে না। এমনকি ভূক্তভোগি বীমা গ্রাহকেরা বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষে (আইডিআরএ) অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। মেয়াদ শেষে গ্রাহকের বীমা দাবী পরিশোধের ফাইল চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার পরও টাকা না দিয়ে দীর্ঘ সময় ফাইলটি আটকিয়ে রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে বলা হচ্ছে, এমডি স্যারের নির্দেশ ছাড়া কাউকে চেক দেয়া যাবে না। এমডি স্যার বললেই চেক দেয়া হবে। এ ভাবে এমডির নির্দেশের অজুহাত দেখিয়ে বীমা গ্রাহকের মেয়াদোত্তর বীমা দাবীর টাকা বছরের পর বছর আটকিয়ে রাখা হচ্ছে। ভূক্তভোগি একাধিক বীমা গ্রাহক অর্থবিজ পত্রিকা অফিসে এসে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন। সংস্থাকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, অথচ তারা সেই ক্ষমতার যথাযথ ব্যবহার করেন না। আইন না মেনে বীমা ব্যবসা করলে সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানির ব্যবসায়িক লাইসেন্স স্থগিত করা অথবা বাতিল করার বিধান রয়েছে আইনে। কিন্তু অনেক অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপিত হবার পরও এমন কঠোর কোন পদক্ষেপ নেয়ার দৃষ্টান্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে নেয়ার নজির চোখে পড়ে নাই। এ সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণীর বীমা নিবার্হী বীমা পলিসির টাকা বেতন ভাতা হিসাবে নিজেরা নিলেও বেচারা বীমা গ্রাহক মেয়াদ শেষে তার বীমাদাবীর টাকা ফেরৎ পা”্ছনে না। বীমা গ্রাহকের টাকায় কোম্পানির এমডি থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বেতন ভাতা নিয়মিত চলছে। এমনকি কোম্পানির বোড মিটিং ও বিভিন্ন কমিটির সভায় যোগদানকারি পরিচালকদের সম্মানি ভাতা ও রাজসিক খানা পিনার আয়োজনও করা হচ্ছে। কোন কোন দুর্বল কোম্পানিকে ঘটা করে কেক কেটে ইংরেজি নববর্ষ পালন করতে দেখা গেছে। এ ভাবে অপ্রয়োজনে গ্রাহকের টাকা খরচ করা হলেও বেল্লালের মতো একজন অসহায় বীমা গ্রাহকের ২৫ হাজার টাকার একটি বীমা দাবী পরিশোধে নানা টালবাহানা করা হচ্ছে। SHARES অভিযোগ বিষয়: