ফ্যাসিস্ট দোসর আসলাম আলম এখনো আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান! প্রকাশিত: ১:০৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিনিধি : ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দেশের আর্থিক খাতে নানা সংস্কার হলেও বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) হয়ে উঠেছে ফ্যাসিস্ট সহযোগীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বিগত সরকারের নিয়োগকৃত চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা হলেও সেই স্থান দখল করে বসে আছে ফ্যাসিস্টের আরেক সহযোগী সাবেক সিনিয়র সচিব এম. আসলাম আলম। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি হয়েও নানা ফন্দি-ফিকির করে বাগিয়ে নিয়েছেন আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানের পদ। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় তৎকালীন সরকার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে সরিয়ে ওএসডি করেছিল তাকে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছিলেন, আর্থিক খাতে যারা দুর্নীতি করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অথচ ফ্যাসিস্ট আমলে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ওএসডি হওয়া আসলাম আলম ঠিকই বসে আছেন বীমা খাতের নিয়ন্ত্রকের চেয়ারে। শুধু একা নন তিনি যোগদানের পর প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পদে পোস্টিং হয় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা আমলে জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করা রাতের ভোটের কারিগর প্রশাসন ক্যাডারের একাধিক কর্মকর্তারও। দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী-এমপি-আমলাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী একান্ত সচিবের দায়িত্ব পালনকারী একাধিক কর্মকর্তারও পোস্টিং হয় আইডিআরএতে। ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান সাবেক সিনিয়র সচিব ড. এম আসলাম আলম। ৫ আগস্টের পর ছাত্র জনতার রক্তের দাগ শুকানোর আগেই ফ্যাসিস্টের সুবিধাভোগী এমন একজনের এই পদে নিয়োগে অনেকেই বিস্মিত হন তখন। জানা যায়, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী আমলা আসলাম আলমের বিরুদ্ধে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র হত্যাচেষ্টার মামলা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে নির্বিচার গুলি চালিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে এই মামলা হয়। মামলার এজাহারে তাকে ‘ফ্যাসিবাদের সহযোগী, রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে । ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে মামলাটি করেছেন ছাত্রদলের সাবেক নেতা মোহাম্মদ জামান হোসেন খান। মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। এমনকি সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সংগঠন ‘অফিসার্স ক্লাবের’ সদস্যপদও স্থগিত করা হয়েছে এম আসলাম আলমের। ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সাধারণ সভায় এই সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শুধু তাই নয়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় আসলাম আলমের নামে বরাদ্দকৃত ফ্ল্যাটও বাতিল করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালা ভেঙে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ৬ নম্বর সড়কের ৬৩ নম্বর বাড়িটি মূলত সরকারের পরিত্যক্ত সম্পত্তি। সেখানে ১৪ তলা একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করেছে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। ওই ভবনের ১২টি ফ্ল্যাট নীতিমালা ভেঙে আসলাম আলমসহ শেখ হাসিনার স্বৈরশাসন টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা পালনকারী তৎকালীন আমলা ও বিচারকদের বরাদ্দ দেয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের ওই সব ফ্ল্যাট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়ে। তাতে বলা হয়, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘দিনের ভোট রাতে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত’ সচিব পদমর্যাদার ১২ কর্মকর্তাকে ‘পুরস্কৃত করতে’ শেখ হাসিনার আমলে পরিকল্পিতভাবে ফ্ল্যাট দেয়া হয়। এরপর এই অভিযোগ তদন্ত করে দুদক বলেছে, তারা ফ্ল্যাট বরাদ্দে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠন করে। দুদকের তদন্ত ও গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ২৭৪তম বোর্ড সভায় ওই সব ফ্ল্যাটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়। তবে বরাদ্দ বাতিল করেই ক্ষান্ত হয়নি দুদক। আইডিআরএ চেয়ারম্যান এম আসলাম আলমের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ‘গৃহায়ন ধানমন্ডি (১ম পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় বিধিবহির্ভূতভাবে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বরাদ্দ নেয়ার অভিযোগে এই নোটিশ দেবে দুদক। গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দুদক জানিয়েছে, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ‘গৃহায়ন ধানমন্ডি (১ম পর্যায়)’ প্রকল্পে অনৈতিক ও বিধিবহির্ভূতভাবে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট বরাদ্দের অভিযোগের অনুসন্ধানে আরও বড় পরিসরে অনিয়মের ইঙ্গিত মিলেছে। এই প্রেক্ষিতে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ১০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এ ছাড়াও অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে ঘোষিত সম্পদের বাইরে আরও সম্পদ অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে এমন প্রাথমিক ধারণা পাওয়ায় তাদের সম্পদের সঠিক হিসাব ও উৎস যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ ও উৎস যাচাই করার জন্য অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ১০ জন ব্যক্তির প্রতি দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান এম. আসলাম আলমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিজে কোনো উত্তর না দিয়ে একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে জবাব দেন। তবে সেই জবাব ব্যাংক বীমা অর্থনীতির প্রশ্নের সঙ্গে সুনির্দিষ্টভাবে সম্পৃক্ত ছিল না। SHARES অর্থনীতি বিষয়: