বিশেষ প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রীর দফতরের প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকিং সেক্টরে ক্ষমতার বলয় তৈরি করে নিয়েছিলেন। তিনি সব সময়ই বলতেন আমি শেখ মুজিবের সৈনিক। আমার কেউ কিছু করতে পারবে না। এসব বলেই সমস্ত অপকর্ম করে আসছিলেন মো নুরুন নেওয়াজ। ফ্যাসিস্ট সরকারের এমন একজন দোসর কি করে ৫ আগস্টের রজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হতে পারে। বিগত সময়ে মো নুরুন নেওয়াজের এসব অবৈধ কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় ব্যাংকের অন্যান্য পরিচালকরা হয়রানীর শিকার হন।
বর্তমান চেয়ারম্যান মো নুরুন নেওয়াজের বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ক্ষমতাসীনদের যোগসাজসে এনসিসি ব্যাংকের সমস্ত টেন্ডার জালিয়াতি ও ব্যাংকে জনবল নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগও কার হয়েছে এই অভিযোগ পত্রে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক হতে বর্তমান চেয়ারম্যান মো নুরুন নেওয়াজের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত করে এক সপ্তাহের মধ্যে একটি তদন্ত রিপোর্ট পাঠাতে প্রথমে গত ১৭ সেপ্টেম্বর এবং পরে ১৪ অক্টোবর চিঠি দেয়া হয় ব্যাংকটিতে। কিন্তু ব্যাংকটি তার অভিযোগের বিষয়ে কোন তদন্ত রিপোর্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠায়নি। উপরন্ত বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুন নেওয়াজ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশের তোয়াক্কা না করে ২৮ অক্টোবর ২০২৪ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত ব্যাংকের বোর্ড সভায় নিজেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করেন ও প্রস্তাবটি অনুমোদন করিয়ে নেন।
জানা যায়, ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় ব্যাংকের কয়েকজন পরিচালক কেন তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তের বিষয়টি এবং তদন্ত সম্পর্কে তাদেরকে জানানো হয়নি, তা জানতে চান। কিন্তু সে সময় নূরুন নেওয়াজের অন্যতম সহযোগি খায়রুল আলম চাকলাদার অন্যান্য পরিচালকদের বিষয়টি নিয়ে বেশী না ঘাটাতে বলেন। বোর্ড মিটিংয়ে দুর্নীতির তদন্ত রিপোর্টকে পাশ কাটিয়ে নুরুন নেওয়াজ নিজেকে চেয়ারম্যান এবং দেশের অন্যতম প্রধান ঋন খেলাপী আব্দুল মোনেম কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাইন উদ্দিন মোনেমকে ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষনা করা হয়। অথচ ব্যাংক কোম্পানী আইন অনুসারে এদের কেহই পরিচালক থাকার যোগ্য নন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত অনুসন্ধানে বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুন নেওয়াজ, তার ছেলে সাজ্জাদ উন নেওয়াজ,তাদের সহযোগি খায়রুল আলম চাকলাদার এবং অপর পরিচালক আব্দুস সালামের বিভিন্ন জালিয়াতি,দূর্নীতি,অনিয়ম সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। ভাইস-চেয়ারম্যান মইনউদ্দিন মোনেমের কোম্পানী ইগলুসহ বিভিন্ন কোম্পানীগুলো ইতিমধ্যে ব্যাংক ঋন খেলাপীতে পরিনত হয়েছে। ঋন প্রদানে ব্যর্থতায় তার অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান ব্যাংক সিলগালা করে দিলেও সে এখনো ব্যাংক পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে বহাল রয়েছেন। ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো নুরুন নেওয়াজের বিরুদ্ধে দুদকে করা অভিযোগ সম্পর্কে তার বক্তব্য জানতে তার ব্যাক্তিগত মোবাইলে হোয়াট্সঅ্যাপ নম্বরে কয়েকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেন নাই। এরপর এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তার হোয়াট্সঅ্যাপ নম্বরে ম্যাসেস অপশনে একটি ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। এতেও তিনি কোন সাড়া দেন নাই।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো নুরুন নেওয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে অনুমোদন দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য জানতে মুখপাত্র হুসনে আরা শিখার মোবাইলে হোয়াট্সঅ্যাপ নম্বরে ফোন ও ম্যাসেস অপশনে একটি ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। তবে তিনি এ ব্যাপারে কোন সাড়া দেন নাই।