বিশেষ প্রতিনিধি : আইডিআরএর পর্যবেক্ষণে আরো দাবি করা হয়, চার্টার্ড লাইফ সম্ভাব্য মুনাফার স্বপক্ষে একটি সাফাই প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানি ভাড়া বাবদ প্রতি বর্গফুট ৫০ টাকা বিবেচনায় নিয়ে ৬ হাজার ৪ শত ৭৪ বর্গফুট ফ্লোরের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। কোম্পানি কোন মানদণ্ডে ৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেছে তাও আইডিআরএর কাছে বোধগম্য নয়। কুমিল্লার মতো একটি জেলা শহরে প্রতি বর্গফুটে ৫০ টাকা ভাড়া বেশি মনে হয়েছে। এই ভাড়া হতে পারে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। কোম্পানি প্রস্তাবিত বিনিয়োগ নীতিমালা আমলে নিয়ে ক্রয় মূল্য নিবন্ধন ফি পৌরকর ও অন্যান্য খরচসহ প্রায় দুই কোটি ৯৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হলে- সেখান থেকে ‘অবচয়’ বাবদ আরো খরচ বাদ যাবে। চার্টাড লাইফের তথ্য মতে, ভবনটি ২০১৫ সালে অর্থাৎ ১০ বছর আগে নির্মিত হয়েছে। সতর্কতা স্বরূপ আরো দশ বছর বাদ দিয়ে আয়ুস্কাল যদি ৮০ বছর ধরা হয় তাহলে বিনিয়োগের মুনাফা আরো কমে যাবে। কিন্তু চার্টার্ড লাইফের বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় ‘অবচয়’ আমলে নেওয়া হয়নি। তাছাড়া জরুরি পরিস্থিতিতে এই ফ্লোর বিক্রি করতে হলে ২ কোটি ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৬ শত টাকা পাওয়া যাবে বলে তাদের নিয়োজিত একটি সার্ভেয়ার কোম্পানি প্রতিবেদন দেয়। এতে মোট বিনিয়োগের ৩০ শতাংশের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যা কোম্পানি ও বীমা গ্রাহকদের ক্ষতির মুখে ফেলবে।
চার্টার্ড লাইফ প্রদত্ত সার্বিক তথ্য বিবেচনায় আইডিআরএর কাছে এই প্রকল্পে বিনিয়োগ ‘লাভজনক ও ঝুঁকিমুক্ত’ মনে হয়নি। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ চার্টাডের এই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। কিন্তু আইডিআরএর এই নির্দেশনার বিরুদ্ধে আবারও বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য চিঠি পাঠায় চার্টাড।
এ বিষয়ে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বীমা খাতে টাকা লুটপাটের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে, জমি ক্রয়-বিক্রয় কিংবা আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগ। এসবের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লোপাটের নোংরা চিত্র এখন ওপেন সিক্রেট। রাজধানী কিংবা বিভাগ রেখে কেন জেলা শহরে ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহী হলো চার্টাড লাইফ- বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ফ্ল্যাট ক্রয় নিয়ে চার্টাড লাইফের সিইও এস এম জিয়াউল হক বলেন, বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে ব্যবসা বাড়ানোর জন্য ফ্ল্যাট কিনতে হবে। এজন্য সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। যদিও আইডিআরএ ‘না’ বলেছে; তবুও আমরা আবার সম্ভাবনার দিক তুলে ধরে চিঠি দিয়েছি।
লাভজনক খাত রেখে কেন ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন- এমন প্রশ্ন করা হলে, বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গেছেন এস এম জিয়াউল হক। বরং তিনি কোম্পানির নানান সুনাম তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইডিআরএর এক কর্মকর্তা বলেন, “সম্পত্তিতে বিনিয়োগে লুটপাটের আশঙ্কা থাকে। এখানে অতিরিক্ত দাম দেখানো হয়। অতীতে বিভিন্ন বীমা কোম্পানিতে আমাদের তদন্তে এই ধরনের জালিয়াতি, অনিয়ম-দুর্নীতি উন্মোচিত হয়েছে। এমনকি এসব সম্পদ যখন বিক্রি হয়েছে; দাম হওয়ায় তখনও কোম্পানি, গ্রাহক ও পলিসিহোল্ডাররা বেশিভাগ ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। অসাধু চক্র ব্যক্তি স্বার্থে লাখো গ্রাহককে কোরবান করে দেয়।”
তিনি আরও বলেন, “আবাসন খাতে বিনিয়োগে কোম্পানির স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে একাধিকবার। ব্যবসা বৃদ্ধির চেয়ে তাঁরা সম্পদ ক্রয়-বিক্রয়ে মনযোগী বেশি থাকে।”
এ সকল বিষয় নিয়ে বিভিন্ন বীমা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। অনেকের নামে মামলাও হয়েছে। একাধিক চেয়ারম্যান, পরিচালক, সিইও এবং সংশ্লিষ্টরা জেলেও গেছেন। তাই আমি মনে করি, বিনিয়োগকারী ও পলিসি হোল্ডারদের স্বার্থে চার্টার্ড লাইফের এই সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসা উচিত। এরপরও কেউ অতিউৎসাহী হলে- আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে আইডিআরএ। এসব নিয়ে কোন বীমা কোম্পানিকে অনৈতিক কর্মকান্ড বা সুবিধা গ্রহণের সুযোগ দেয়া হবে না।”
প্রিয় পাঠক চার্টাড লাইফ ইন্সুরেন্স নিয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধান করেছি আমরা, প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ থাকছে। আমাদের সঙ্গে থাকুন….