বীমা ও পেনশন তহবিলে তারল্যঝুঁকি নিয়ে আইএমএফের সতর্কতা

প্রকাশিত: ৩:০৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিশ্বের বীমা কোম্পানি ও পেনশন তহবিলগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনায় অসামঞ্জস্য বাড়ছে। এর সঙ্গে বেসরকারি ঋণবাজারে ঋণনির্ভরতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক বাজারে সম্ভাব্য অস্থিরতা যুক্ত হলে বীমা খাতসহ পুরো আর্থিক ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও আকস্মিক সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

সংস্থাটির অক্টোবর ২০২৬-এর বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক আর্থিক বাজার আপাতদৃষ্টিতে স্থিতিশীল থাকলেও আর্থিক খাতের বিভিন্ন অংশে ঝুঁকি রয়ে গেছে। বিশেষ করে বীমা কোম্পানি ও পেনশন তহবিলের তারল্য ব্যবস্থাপনায় বাড়তে থাকা অসামঞ্জস্য আর্থিক অস্থিরতার সময় সংকটকে আরও তীব্র করতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভালো মুনাফার কারণে বৈশ্বিক আর্থিক খাত এখনো সহনশীল অবস্থায় রয়েছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া, মূল্যস্ফীতির পুনরুত্থান, সরকারি ঋণ নিয়ে উদ্বেগ এবং সাইবার হামলার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি বাজারের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এসব ঝুঁকির প্রভাব বীমা খাতসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বীমা খাতে তারল্য ব্যবস্থাপনায় উদ্বেগ

আইএমএফের মূল্যায়নে বীমা কোম্পানি ও পেনশন তহবিলের তারল্য ব্যবস্থাপনার অসামঞ্জস্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা হিসেবে উঠে এসেছে। তারল্য ব্যবস্থাপনায় অসামঞ্জস্য তৈরি হলে কোনো প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ে দাবি পরিশোধ, অন্যান্য দায় মেটানো কিংবা আকস্মিক নগদ অর্থের চাহিদা পূরণে চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।

বিশেষ করে আর্থিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে সম্পদের মূল্য কমে যেতে পারে। একই সময়ে নগদ অর্থের চাহিদা বেড়ে গেলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পদ বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করতে হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে আর্থিক চাপ আরও বাড়তে পারে এবং বাজারের অস্থিরতা এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তবে প্রতিবেদনে বীমা কোম্পানিগুলোর দাবি পরিশোধে নির্দিষ্ট কোনো সংকট বা খেলাপির পরিসংখ্যান দেয়া হয়নি। বরং বীমা ও পেনশন তহবিলের তারল্য ব্যবস্থাপনায় অসামঞ্জস্য বৃদ্ধিকে বৃহত্তর আর্থিক স্থিতিশীলতার ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বেসরকারি ঋণবাজারেও বাড়ছে ঝুঁকি

প্রতিবেদনে বেসরকারি ঋণবাজারে ঋণনির্ভরতা বৃদ্ধি এবং আকস্মিক তারল্যচাহিদা মোকাবিলার ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে। ঋণনির্ভর বিনিয়োগ বাড়লে সম্পদের মূল্য কমে যাওয়া বা অর্থায়ন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার সময় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।

একই সঙ্গে হেজ ফান্ডগুলোর ঋণনির্ভর বিনিয়োগ এবং একই ধরনের লেনদেনে অতিরিক্ত অংশগ্রহণ বাজারের অস্থিরতা বাড়াতে পারে। শান্ত বাজারে এসব তহবিল আর্থিক লেনদেন সচল রাখতে ভূমিকা রাখলেও সংকটের সময় তাদের কার্যক্রমের প্রভাব বৃহত্তর আর্থিক ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর প্রভাব সংশ্লিষ্ট প্রধান ব্রোকারদের ওপরও পড়তে পারে।