
বীমা দাবি পরিশোধে তাদের কঠোর হওয়ার কথা।
লাইফ বীমায় অনিষ্পন্ন দাবির পরিমাণ:
তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ৩টি কোম্পানি শতভাগ বীমা দাবি পরিশোধ করলেও, ৩২টি জীবন বীমা কোম্পানির মোট অনিষ্পন্ন বীমা দাবির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৯০ কোটি ৩২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৮২ টাকা। আলোচ্য সময়ে মোট দাবি উত্থাপন করা হয় ৫ হাজার ৪৪৮ কোটি ৮১ লাখ ২৪ হাজার ৬০৮ টাকা। এরমধ্যে কোম্পানিগুলো পরিশোধ করেছে ২ হাজার ৫৮ কোটি ৪৮ লাখ ৭৮ হাজার ৯২৬ টাকা।
তবে ৩৬টি জীবন বীমা কোম্পানির মধ্যে ৩২টির কাছে প্রায় ১১ লাখ গ্রাহকের অনিষ্পন্ন বীমা দাবি জমেছে ৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। এরমধ্যে একটি কোম্পানির অনিষ্পন্ন দাবির পরিমাণই দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি অনিষ্পন্ন বীমা দাবি রয়েছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
নন-লাইফ বীমায় অনিষ্পন্ন দাবির পরিমাণ:
দেশে কার্যক্রম চালানো ৪৬টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানির অনিষ্পন্ন দাবি দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৮৮৬টি। টাকার পরিমাণে অনিষ্পন্ন রয়েছে ২ হাজার ৮২৫ কোটি ৮৪ লাখ ৮৪ হাজার ৮৮৬ টাকা। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিগুলোর দাবি উত্থাপন করা হয় ৩ হাজার ১৪০ কোটি ৪২ লাখ ৯৮ হাজার ৪৬৩ টাকা। দাবি পরিশোধ করা হয় ৩১৪ কোটি ৫৮ লাখ ১৩ হাজার ৫৭৭ টাকা। অর্থাৎ দাবি পরিশোধের পরিমাণ মাত্র ১০ দশমিক ০২ শতাংশ।
এই বিষয়ে জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্সুইরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি এস এম নুরুজ্জামান বিজনেস প্রতিদিনকে বলেন, বীমা খাতে ‘দাবি পরিশোধ’ নিয়ে একটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যার ফলে পুরো খাত নিয়ে মানুষের মধ্যে খারাপ ধারণা তৈরি হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অন্যান্য সংস্কারের সাথে সাথে এখনই এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
তিনি বলেন, ২৪’র নতুন বাংলাদেশে বীমা খাতকে শক্তিশালী করতে বীমা দাবি পরিশোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি মাথায় রেখে সংস্কার দরকার। এটা হতে পারে মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ফান্ড তৈরি করে কোম্পানিগুলোকে তারল্য সহায়তা দেওয়া; যার মাধ্যমে বিগত দিনের গ্রাহকের প্রাপ্য বীমা দাবি পরিশোধ করতে পারে।
ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাজিম উদ্দিন বলেন, বীমা খাতে নেতিবাচক ধারণা তৈরিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে লাইফ বীমা। অল্প কয়েকটি কোম্পানি সঠিকভাবে বীমা দাবি পরিশোধ না করায় পুরো সেক্টরে এই নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে শুরু করে সব বীমা কোম্পানির উচিত বীমা দাবি পরিশোধে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া।
আলফা ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও নুরে আলম ছিদ্দিকী অভি বিজনেস প্রতিদিনকে বলেন, কিছু কিছু কোম্পানি বীমা দাবি পরিশোধ না করায় পুরো খাতের উপর প্রভাব পড়েছে। আমার মনে হয়, সরকার ব্যাংকে যেমন নতুন টাকা ছাপিয়ে নগদ তারল্য সহায়তা দিয়েছে তেমনি বীমা খাতেও সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য এমন পদক্ষেপ খুবই প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বীমা খাতের প্রসার বাড়াতে বীমা দাবি পরিশোধ করে সবার মনে আস্থা তৈরি করার বিকল্প কিছু নেই। এছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা চাইলে খারাপ কোম্পানিগুলোর স্থায়ী সম্পদ বিক্রি কিংবা মালিক পক্ষ থেকে টাকা নিয়ে দাবি পরিশোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। নয়তো সম্ভাবনাময় খাতটি তার জৌলুস হারাবে।
বীমা দাবি নিষ্পত্তির বিষয়টি নিয়ে আইডিআরএ’র মুখপাত্র জাহাঙ্গীর আলম বিজনেস প্রতিদিনকে বলেন, বীমা দাবি পরিশোধের জন্য কোম্পানিগুলোকে নিয়মিত আইডিআরএ তাগিদ দিচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা কোম্পানিগুলোর আর্থিক অনিয়মে জড়িত পরিচালকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে টাকা উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছি।
তিনি বলেন, আমরা বীমা খাত সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সাথে বৈঠক করে এই বিষয়ে তাগিদ দিয়েছি। দাবি নিষ্পত্তির জন্য এর আগে স্থায়ী সম্পদ বিক্রির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।