
ব্যাংক প্রধান হতে যোগ্যতার বিভিন্ন মানদণ্ড এবং সুবিধা-শর্তাবলী ঠিক করে নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক; যাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সর্বোচ্চ পদ ব্যবস্থাপনা পরিচালক হতে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা ও ন্যূনতম বয়স ৪৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
এতদিন শুধু ১০ বছরের ব্যবস্থাপনা বা ব্যবসায়িক বা পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকলে ব্যাংকপ্রধানের এ পদে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ ছিল। ন্যূনতম বয়সের কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না।
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের এ নীতিমালা প্রকাশ করে বলেছে, এমডি পদে নিয়োগ ও বাতিল করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগবে। এ পদের নাম দেওয়া হয়েছে, ‘ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা’।
ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমোদন নিতে হবে। এতদিন শুধু বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করার বিধান ছিল।
ব্যাংকের পরিচালকের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা পরিবারের সদস্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডি হতে পারবেন না।
নতুন সিদ্ধান্তে এমডিদের চাকুরির নিরাপত্তা বাড়িয়ে দিলেও ব্যাংক থেকে নেওয়া নানা সুবিধাতেও লাগাম টেনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাংক থেকে নেওয়া সব ধরনের সুবিধার বর্ণনা চুক্তিপত্রে উল্লেখ রাখতে নির্দেশনা দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, প্রতি মাসে বেতনের সময় তার বিস্তারিত বিবরণও সংরক্ষণ করতে হবে।
ব্যাংকপ্রধানের এ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আগের সবগুলো সার্কুলার বা নীতিমালা বাতিল করে নতুন এ নীতিমালা করে দিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলেছে, ‘‘ব্যাংক-কোম্পানির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি ব্যবসায়িক ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকি মোকাবেলায় অধিকতর চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’’
বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমডি নিয়োগে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি ‘চারিত্রিক’ ও ‘নৈতিক বিশুদ্ধতায়’ গুরুত্ব দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ‘‘ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একজন উপযুক্ত, পেশাগতভাবে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ হওয়া আবশ্যক।’’
নতুন সংযোজন চারিত্রিক ও নৈতিক বিশুদ্ধতা
পেশাগত যোগ্যাতার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিকে এমডি হিসেবে নিয়োগ দিতে ‘চারিত্রিক’ ও ‘নৈতিক বিশুদ্ধতা’কে শর্ত হিসেবে যোগ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ফৌজদারী আদালত কর্তৃক দণ্ডিত, জাল-জালিয়াতি, আর্থিক অপরাধ বা অন্য কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তিনি অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। প্রার্থী সম্পর্কে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলায় আদালতের রায়ে কোনো বিরূপ পর্যবেক্ষণ বা মন্তব্য থাকা যাবে না।
কোনো নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের বিধিমালা, প্রবিধান বা নিয়ামাচার লঙ্ঘনজনিত কারণে দণ্ডিত হলেও প্রার্থী অযোগ্য বিবেচিত হবেন।
কখনও এমন কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় যুক্ত ছিলেন বা আছেন, তার নিবন্ধন অথবা লাইসেন্স বাতিল বা অবসায়িত হয়েছে এমন ব্যক্তি ব্যাংকের এমডি হতে পারবেন না।
কোনো কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা হিসেবে যুক্ত ছিলেন, যার নিবন্ধন অথবা লাইসেন্স তার সরাসরি বা পরোক্ষ অপরাধজনিত কারণে বাতিল করা হলেও তিনি এমডি হতে পারবেন না।
অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি, জাল-জালিয়াতি ও নৈতিক স্খলনজনিত কারণে কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বা পরিচালক বা কর্মকর্তা বা কর্মচারী থাকাকালীন স্বীয় পদ হতে অপসারণ/বরখাস্ত/অবনমিত হয়েছেন এমন ব্যক্তিকেও এমডি হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবে না ব্যাংক।
একইভাবে কোনো ব্যাংক-কোম্পানি বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী বা চেয়ারম্যান বা পরিচালক বা কর্মকর্তা বা অন্য কোনো পদে আসীন থাকা অবস্থায় তাকে ও পদ হতে অপসারণ/বরখাস্ত/অবনমিত করা হয়নি বা অব্যাহতি দেওয়া হয়নি; এমন ব্যক্তি এমডি হতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অফসাইট বা অনসাইট পরিদর্শনে কারও বিরুদ্ধে বিরূপ পর্যবেক্ষণ থাকলে তিনি এমডি হতে পারবেন না।