রাজস্ব ফাঁকি ও অর্থ আত্মসাতের যে অভিযোগ:

অনুসন্ধানে দেখা যায়, মেঘনা গ্রুপের ৭০টি প্রতিষ্ঠানের বীমা করে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি এবং আত্মসাতের এই অভিযোগ করেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের উদ্যোক্তা পরিচালক এম এফ কামাল। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বরাবর দফায় দফায় তিনি এই অভিযোগ করেন।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে এমএফ কামাল অভিযোগ করেন ২০১৪ সালে। সর্বশেষ তিনি অভিযোগ করেন ২০১৯ সালে। এই অভিযোগে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স রাজস্ব ফাঁকি এবং অর্থ আত্মসাৎ করেছে ১৩৭২ কোটি টাকা। প্রিমিয়ামে টাকা ও আমদানি মূল্য কম দেখিয়ে কোম্পানিটি এই বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেছে। এর আগে ২০১৪ সালের অভিযোগে তিনি দাবি করেছিলেন কোম্পানিটির রাজস্ব ফাঁকি ও আত্মসাতের পরিমাণ  ৪৭২ কোটি টাকা।

কমিটি হয়, তদন্ত হয় না:

বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের রাজস্ব ফাঁকির বিষয়ে তদন্ত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) কমিটি গঠন করে। এর মধ্যে এনবিআর ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। ২৫ মার্চ ২০১৯ সালে। অপরদিকে আইডিআরএ কমিটি গঠন করে ১২ জানুয়ারি ২০২১ সালে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ তদন্ত করতে ২ জানুয়ারি ২০১৮ সালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ আইডিআরএ’র কাছে একটি চিঠি পাঠায়। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপ-সচিব মো. সাইদ কুতুব স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের স্বঘোষিত চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান অপসারণসহ মূল উদ্যোক্তাদের কোম্পানিতে পুনর্বহাল এবং আত্মসাতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ এবং আত্মসাৎকৃত টাকা আদায়ের লক্ষে একজন প্রশাসক নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়। সেই সাথে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।

পরে ১৮ এপ্রিল ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ন্যাশনালের ১৩৭২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আইডিআরএ’কে চিঠি দেয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভা

এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই বছর পর ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ৪ সদস্যের একটি কমটি গঠন করে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ। চার সদস্যের ওই কমিটির প্রধান করা হয় সংস্থাটির তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক (আইন) এস এম শাকিল আখতারকে।