ফারজানা ফারাবী : দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ভোক্তা পর্যায়ে ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে সরকারের রাজস্ব আহরণে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকার বেশি।
বুধবার (২০ মে) এনবিআরের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪২১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আয়কর, মূসক ও শুল্ক মিলিয়ে আদায় হয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
যদিও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি, তবু গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব আদায়ে ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ২ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে শুল্ক, মূসক (ভ্যাট) ও আয়কর-তিন খাতেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। তবে এসব খাতে যথাক্রমে ৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ, ১১ দশমিক ১ শতাংশ এবং ১১ দশমিক ৫৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
এপ্রিল মাসেও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি এনবিআর। এ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৪৫ হাজার ৬০৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩৯ হাজার ৬০ কোটি টাকা।
গত অর্থবছরের একই মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৩৬ হাজার ৬০৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। সে হিসাবে চলতি বছরের এপ্রিলে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।
এপ্রিলেও শুল্ক, মূসক ও আয়কর খাত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। তবে শুল্কে ১৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং আয়করে ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অন্যদিকে মূসক বা ভ্যাট খাতে ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।