
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচলের স্থায়ী ভেন্যুতে আজ থেকে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। বিদেশী ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে এবারের আয়োজনে প্রথমবারের মতো চালু করা হচ্ছে ‘এক্সপোর্ট এনক্লেভ’। এতে ‘বেস্ট অব বাংলাদেশ’ শিরোনামে চামড়া, জুতা ও হালকা প্রকৌশল খাতসহ সাতটি রফতানিমুখী পণ্য প্রদর্শন করা হবে।
বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিসিএফইসি) ভবনে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় মেলার উদ্বোধন করবেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। পূর্বাচলে এবার পঞ্চমবারের মতো এ মেলার আসর বসতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
ইপিবি জানিয়েছে, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা প্রতি বছরের প্রথম দিন থেকেই শুরু হয়। তবে গত ৩০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করে সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে মেলার উদ্বোধনের তারিখ পরিবর্তন করে ৩ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।
৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এতে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এ মেলা একটি অনন্য উদ্যোগ, যা বিশ্ব মঞ্চে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা তুলে ধরবে।’
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘দেশীয় পণ্যের প্রচার ও বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাসব্যাপী আয়োজিত এ মেলা দেশে উৎপাদিত গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য দেশী-বিদেশী দর্শক, ভোক্তা, ক্রেতা ও আমদানিকারকদের সামনে তুলে ধরতে খুবই কার্যকর ভূমিকা পালন করে আসছে। পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ভোক্তারাও এ মেলার মাধ্যমে সহজেই বিদেশী পণ্যের মান, নকশা ও বৈশ্বিক প্রবণতা বিষয়ে সম্যক ধারণা পাচ্ছেন।’
প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। আমি আশা করি, এ মেলার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিদেশে বাংলাদেশী পণ্য রফতানি বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া দেশীয় পণ্যের প্রচার, পণ্য বহুমুখীকরণ, বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়নেও এ মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
আয়োজক সূত্র জানিয়েছে, এবার মেলার লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন, স্টল, রেস্টুরেন্ট ও দেশীয় উৎপাদক-রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশ এতে অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়া।
ইপিবির মেলা ও প্রদর্শনী বিভাগের পরিচালক (উপসচিব) ওয়ারিশ হোসাইন বলেন, ‘সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের কারণে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ১ জানুয়ারির পরিবর্তে ৩ জানুয়ারি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
দেশীয় পণ্যের প্রচার-প্রসার, বিপণন ও উৎপাদনে সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবির যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজন করা হচ্ছে।
বিদেশী ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে প্রথমবারের মতো এ বছর মেলায় চালু হচ্ছে ‘এক্সপোর্ট এনক্লেভ’। এতে ‘বেস্ট অব বাংলাদেশ’ শিরোনামে চামড়া, জুতা ও হালকা প্রকৌশল খাতসহ সাতটি রফতানিমুখী পণ্য প্রদর্শন করা হবে। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের স্মরণে স্থিরচিত্র প্রদর্শনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে বাংলাদেশ স্কয়ার। এছাড়া মেলায় খাতভিত্তিক সেমিনার ও ওয়ার্কশপ আয়োজন করা হবে প্রতিদিনই, যেখানে বাংলাদেশের পণ্যের গুণগত মান ও আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স তুলে ধরা হবে।
এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে।
ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে গতবারের মতো এবারো থাকছে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা। টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে ৫০ টাকা এবং ১২ বছরের নিচের শিশুদের জন্য প্রবেশমূল্য ২৫ টাকা।
মেলায় সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতায়াতের জন্য কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট (খেজুরবাগান বা খামারবাড়ি), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বাণিজ্য মেলার উদ্দেশে বিআরটিসির দুই শতাধিক ডেডিকেটেড শাটল বাস চলবে।