এবি ব্যাংকের মোট ঋণের ৮৪ শতাংশই খেলাপি প্রকাশিত: ৪:০৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৭, ২০২৫ নিজস্ব প্রতিনিধি : এবি ব্যাংকের বিতরনকৃত মোট ঋণের ৮৪ শতাংশই খেলাপি। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবি ব্যাংকের মোট বিতরণ করা ঋণ ছিল ৩৫ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩০ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা সময়মতো আদায় না হওয়ায় খেলাপি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হয়েছে। এবি ব্যাংকের দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকি আড়াল করার প্রবণতা অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছে। সর্বশেষ সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, দেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ নজিরবিহীনভাবে বেড়ে প্রায় ৮৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের একই সময়ে খেলাপি ঋণ ছিল ১০ হাজার ১১৫ কোটি, যা ছিল মোট ঋণের ৩১ শতাংশ। ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগে গোপন রাখা ২০ হাজার ২৩ কোটি টাকার মন্দ ঋণ এবার একসঙ্গে প্রকাশ করায় খেলাপির হার হঠাৎ বেড়ে গেছে। সরকারের ব্যাংকিং রিফর্ম টাস্কফোর্সের সুপারিশে এবি ব্যাংকে একটি বিদেশি অডিট ফার্ম ফরেনসিক অডিট করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, অডিটর ইতোমধ্যে সম্পদের গুণগত মান ও ঋণের শ্রেণিবিন্যাস সঠিকভাবে হয়েছে কি না তা পর্যালোচনা করেছে। প্রতিবেদন শিগগিরই জমা পড়বে। ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনিয়মিত ব্যবস্থাপনা ও বড় ঋণ আদায়ে ব্যর্থতার কারণে এবি ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত মন্দ ঋণ আড়াল করে আসছিল। প্রভিশন বিলম্বিত সুবিধা ও বিভিন্ন হিসাবপদ্ধতি ব্যবহার করে মন্দ ঋণকে সাময়িকভাবে ‘ব্যাংক বহির্ভূত সম্পদ’ দেখানো হতো, ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কম দেখাত। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার এমন সম্পদ পুনরায় খেলাপি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হয়েছে। ফরেনসিক অডিট ও খেলাপি বৃদ্ধির তথ্য প্রকাশের পর গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ায় ব্যাংক থেকে আমানত উত্তোলনের প্রবণতা দেখা দেয়। এতে তারল্য সংকটে পড়ে এবি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ২ হাজার কোটি টাকা জরুরি সহায়তা চেয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যাংকটি আগেই ৫০০ কোটি টাকা সহায়তা নিয়েছে। আরও আটটি ব্যাংক একই সহায়তা পাচ্ছে। সংকটের মধ্যে গত ১৯ নভেম্বর ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সৈয়দ মিজানুর রহমান পদত্যাগ করেন। তিনি জানান, বন্ধকি সম্পদ অনেক ক্ষেত্রে আইনি জটিলতার কারণে ব্যাংকের নামে মালিকানা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় সেগুলো পুনরায় খেলাপি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করতে হয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে এবি ব্যাংক দেখিয়েছে ৩,১১৩ কোটি টাকার নেট ক্ষতি, যেখানে গত বছর একই সময়ে লাভ ছিল ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ২০২৪ সালের শেষে ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ৪,২৯৮ কোটি টাকা। নেট ক্ষতি: ১,৯১৭ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে মানি লন্ডারিং কেলেঙ্কারিতে ১৬৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের ঘটনা প্রকাশের পর থেকেই ব্যাংকটির অবস্থার অবনতি শুরু হয়। তখন ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন উদ্যোক্তা এম. মোর্শেদ খানের পরিবার। পরবর্তীতে চেয়ারম্যান ও পরিচালকরা পদত্যাগ করেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে। এখনও একজন সমন্বয়কের মাধ্যমে ব্যাংকের কার্যক্রম তদারকি হচ্ছে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: