গভীর শোকের ছায়া: বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই

প্রকাশিত: ১২:৪৬ অপরাহ্ণ, মে ১৩, ২০২৬

নূরনবী সোহেল, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশের রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও উন্নয়ন অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর আমাদের মাঝে নেই। আজ বুধবার (১৩ মে ২০২৬) সকাল প্রায় ১০টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর Square Hospital-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের এক অভিজ্ঞ, প্রজ্ঞাবান ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তিনি চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক নগরায়ণ ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান আজও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মুক্তিযুদ্ধের একজন সাহসী সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি দেশপ্রেম, সততা ও নেতৃত্বের এক অনন্য উদাহরণ ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পথচলায় তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন তাঁর কর্ম, প্রজ্ঞা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে। উন্নয়নমুখী চিন্তাধারা ও দূরদর্শী নেতৃত্ব তাঁকে জাতীয় রাজনীতিতে একটি স্বতন্ত্র অবস্থানে নিয়ে যায়।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিশেষ করে যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর ভূমিকা সংশ্লিষ্ট মহলে অত্যন্ত সম্মান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি মানুষের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়িক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশ হারালো একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং জনমানুষের একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে। তাঁর কর্মময় জীবন, দেশপ্রেম, সততা ও নেতৃত্ব আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
আমরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। আমিন।