তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পরিচালক নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি, বোর্ড পুনর্গঠনের নির্দেশ প্রকাশিত: ৮:৫০ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০২৫ বিশেষ প্রতিনিধিঃ পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত বীমা খাতের কোম্পানি তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ২৫তম সাধারণ সভায় ‘পরিচালক নির্বাচন বিধিমালা ২০২৪’ লঙ্ঘন করা হয়েছে। একইসঙ্গে অবৈধভাবে কয়েকজনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান মাহফেল হক অ্যান্ড কোং-এর প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে আসার পর বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) কোম্পানির বোর্ড পুনর্গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) কর্তৃপক্ষের পরিচালক (আইন) মোঃ আব্দুল মজিদ (উপসচিব) স্বাক্ষরিত স্মারকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। স্মারকটি কোম্পানির চেয়ারম্যানকেও পাঠানো হয়েছে। স্মারকে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১৬ জুন তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ২৫তম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বীমাকারীর ‘পরিচালক নির্বাচন বিধিমালা ২০২৪’-এর বিধি ১১(২) লঙ্ঘন করে যথানিয়মে ভোট গণনা না করে উদ্যোক্তা পরিচালক অংশে এবিএম কায়কোবাদ, মোঃ মাসুদুর রহমান ও তাহমিনা আফরোজ এবং সাধারণ পরিচালক অংশে জিয়া উদ্দিন পোদ্দার ও মোঃ সাইদুল ইসলামকে অবৈধভাবে বিজয়ী ঘোষণার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি তদন্তের জন্য গত ২৭ আগস্ট নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান মাহফেল হক অ্যান্ড কোং-কে নিয়োগ করে আইডিআরএ। তদন্ত শেষে কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করেছে। প্রতিবেদনে অভিযোগে বর্ণিত বিজয়ী ঘোষিত পরিচালকদের বীমাকারীর ‘পরিচালক নির্বাচন বিধিমালা ২০২৪’-এর বিধি ১১(২) লঙ্ঘন করে যথানিয়মে ভোট গণনা না করে অবৈধভাবে পরিচালক পদে বিজয়ী ঘোষণা করার বিষয়টি তথ্য-প্রমাণসহ প্রমাণিত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে উপস্থাপিত প্রকৃত ভোটের ফলাফল এবং ঘোষিত ফলাফলে গরমিল পাওয়া গেছে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রকৃত ভোটের সঙ্গে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের ঘোষিত ভোটে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লিখিত ‘পরিচালক নির্বাচন বিধিমালা ২০২৪’ অনুযায়ী প্রাপ্ত প্রকৃত ভোট সংখ্যা উদ্যোক্তা পরিচালক অংশে—মোহাম্মদ মফিজউদ্দিন ৯,৬৯৫,৭৬৬; ফারজানা রহমান ৯,৬৯৫,৭৬৬; আনোয়ার হোসাইন চৌধুরী ৯,৬৯৫,৬০০; এবিএম কায়কোবাদ ৮,৬৬৯,৩৮০; মোঃ মাসুদুর রহমান ৮,৬৬৯,৩৮০ এবং তাহমিনা আফরোজ ৮,৬৬৯,৩৮০ ভোট পেয়েছেন। তবে বীমাকারী কর্তৃক ঘোষিত প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা উদ্যোক্তা পরিচালক অংশে—মোহাম্মদ মফিজউদ্দিন ৭,৫৩৫,২১১; ফারজানা রহমান ৭,৫৩৫,২১১; আনোয়ার হোসাইন চৌধুরী ৭,৫৩৫,২১১; এবিএম কায়কোবাদ ৮,৮১২,৮০৫; মোঃ মাসুদুর রহমান ৮,৬৫১,৮২০ এবং তাহমিনা আফরোজ ৮,৬৫১,৮২০ ভোট পেয়েছেন। ‘পরিচালক নির্বাচন বিধিমালা ২০২৪’ অনুযায়ী প্রাপ্ত প্রকৃত ভোট সংখ্যা জনসাধারণ পরিচালক অংশে—নাফিসা সালমা ১০,৯৪১,০৪৯ ভোট (ঘোষিত ফল ৯,২৯০,৪২৫), মোহাম্মদ ওসমান গণি ১০,৯৪১,০৪৯ ভোট (ঘোষিত ফল ৯,২৯৩,৪২৫), জিয়া উদ্দিন পোদ্দার ৯,৪১৬,৫৫৪ ভোট (ঘোষিত ফল ৮,৮৬০,৫৪৫), মোঃ সাইদুল ইসলাম ৯,৪১৬,৫৫৪ ভোট (ঘোষিত ফল ৮,৮৬০,৫৪৫) পেয়েছেন। স্মারকে আইডিআরএ বলছে, তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যের আলোকে এটি স্পষ্ট যে, বিধিমালা অনুযায়ী ভোট গণনা করলে প্রকৃতভাবে নির্বাচিত বিজয়ীরা উদ্যোক্তা পরিচালক অংশে—মোহাম্মদ মফিজউদ্দিন, ফারজানা রহমান ও আনোয়ার হোসাইন চৌধুরী এবং জনসাধারণের পরিচালক অংশে—নাফিসা সালমা ও মোহাম্মদ ওসমান গণি। কিন্তু বিধি ১১(২) লঙ্ঘন করে অপেক্ষাকৃত কম ভোট পাওয়া সত্ত্বেও উদ্যোক্তা পরিচালক অংশে এবিএম কায়কোবাদ, মোঃ মাসুদুর রহমান ও তাহমিনা আফরোজ এবং জনসাধারণের পরিচালক অংশে জিয়া উদ্দিন পোদ্দার ও মোঃ সাইদুল ইসলামকে বেআইনিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। পরিচালক নির্বাচনের ক্ষেত্রে এমন বেআইনি কার্যক্রম বীমাকারীর সুশাসন, বীমা পলিসি গ্রাহকদের স্বার্থ, বীমাকারীর স্বার্থ, শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ এবং সর্বোপরি জনস্বার্থের জন্য হানিকর। আইডিআরএ আরও বলেছে, এ অবস্থায়, বীমাকারীর ‘পরিচালক নির্বাচন বিধিমালা ২০২৪’-এর বিধি ১১(২) লঙ্ঘন করে বেআইনিভাবে বিজয়ী ঘোষিত উদ্যোক্তা পরিচালক অংশে—এবিএম কায়কোবাদ, মোঃ মাসুদুর রহমান ও তাহমিনা আফরোজ এবং জনসাধারণের পরিচালক অংশে—জিয়া উদ্দিন পোদ্দার ও মোঃ সাইদুল ইসলামকে পরিচালনা পর্ষদ থেকে অপসারণ করে তাদের স্থলে প্রকৃতভাবে নির্বাচিত উদ্যোক্তা পরিচালক—মোহাম্মদ মফিজউদ্দিন, ফারজানা রহমান ও আনোয়ার হোসাইন চৌধুরী এবং জনসাধারণের পরিচালক—নাফিসা সালমা ও মোহাম্মদ ওসমান গণিকে অন্তর্ভুক্ত করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের আইনি ক্ষমতাবলে বোর্ড পুনর্গঠন করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান তাহমিনা আফরোজের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। SHARES অভিযোগ বিষয়: