শিগগির প্রজ্ঞাপন জারি হচ্ছে:বীমা কোম্পানির নিবন্ধন নবায়ন ফি বাড়ছে! প্রকাশিত: ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ বিশেষ বিজ্ঞপ্তিঃ সংশ্লিষ্টদের আপত্তির মুখেই দেশের বীমা কোম্পানিগুলোর নিবন্ধন নবায়ন ফি বাড়ছে। এ সপ্তাহে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) বীমা কোম্পানিগুলোর নিবন্ধন নবায়ন ফি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। এ বিষয়ে স্টেকহোল্ডারদের মতামতও নেয়া হয়। বীমা খাতে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ মুহূর্তে নবায়ন ফি না বাড়ানোর মতামত দেয় খাত সংশ্লিষ্টরা। ইতোপূর্বে বীমা ব্যবসায়িদের প্রতিনিধিত্বকারি সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ) এবং বীমা মুখ্য নির্বাহীদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের সঙ্গে পৃথক বৈঠক হয়। উভয় বৈঠকে নবায়ন ফি না বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়। যুক্তি হিসাবে বলা হয়, এতে ম্যানেজমেন্ট খরচ আরও বেড়ে যাবে। অধিকাংশ বীমা কোম্পানি অর্থ সংকটে রয়েছে। কোন কোন বীমা কোম্পানি সময় মতো গ্রাহকের দাবী পরিশোধ করতে পারছে না। এ অবস্থায় নবায়ন ফি বাড়নো হলে কোম্পানিগুলোর উপর চাপ আরও বেড়ে যাবে। বীমা কর্তৃপক্ষ স্টেকহোল্ডারদের এ দাবী আমলে না নিয়ে ফি বাড়ানোর পথেই হাটছে। বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পযার্য়ে রয়েছে। এ সপ্তাহের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) বীমা কোম্পানিগুলোর মোট প্রিমিয়াম আয়ের ওপর ফি বাড়াতে চাইছে। এ বছর থেকে দেড় গুণ, ২০২৮ সালে আড়াই গুণ ও পাঁচ বছর পর ২০৩০ সালে এই ফি পাঁচ গুণ করতে চাইছে। আইডিআরএ থেকে নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিয়ে দেশের যে ৩৫টি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও ৪৫টি নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ব্যবসা করছে। প্রতি বছর এ কোম্পানিগুলোকে নবায়ন ফি বা মাশুল দিয়ে নিবন্ধন নবায়ন করাতে হয়। আইডিআরএর ফি বৃদ্ধির জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ‘বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বিধিমালা, ২০১২’ সংশোধনের কাজ করছে আট মাস আগে থেকে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বলছে, প্রথমে বৃদ্ধির হার ৪ গুণ বাড়িয়ে খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে ২০২৫ সালের ১ জুলাই। পরে অবশ্য বছরওয়ারি হার নির্ধারণ করা হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গত মাসে এ খসড়া ভেটিং বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। আইন মন্ত্রণালয় ভেটিং শেষে কোনো কিছু না বদলে গত সপ্তাহে সেটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে ফেরত পাঠিয়েছে। এ বিভাগ এখন আইন মন্ত্রণালয়ে আবার পাঠালেই জারি হবে প্রজ্ঞাপন। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেছেন, ভেটিং যেহেতু শেষ হয়েছে, সেহেতু এখন প্রজ্ঞাপন জারি হবে। চলতি সপ্তাহেই এটি হতে পারে। বিদ্যমান বিধিমালা ২০১২ সালে জারি হওয়ার সময় নিবন্ধন নবায়ন মাশুল ছিল প্রতি হাজার মোট প্রিমিয়ামের বিপরীতে ৩ দশমিক ৫ টাকা। ২০১৮ সালের ১১ জুন তা সংশোধন করে ১ টাকায় নামিয়ে আনা হয়। এখন আবার তিন স্তরে এ হার বাড়িয়ে বিধিমালা সংশোধন করা হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত হচ্ছে, ২০২৬ ও ২০২৭ সালে বিমা কোম্পানিগুলোর মোট প্রিমিয়ামের বিপরীতে নিবন্ধন নবায়ন ফি হবে প্রতি হাজারে ২ দশমিক ৫ টাকা। ২০২৮ ও ২০২৯ সালে হবে ৪ টাকা এবং ২০৩০ সাল থেকে পরবর্তী সময়ের জন্য হবে ৫ টাকা। আইডিআরএর কাছ থেকে নিবন্ধনের নবায়ন ছাড়া কেউ বীমা ব্যবসা করতে পারে না। নিবন্ধন নবায়নের আবেদন করতে হয় প্রতিবছরের ৩০ নভেম্বরের আগে। আইডিআরএ সংশ্লিষ্ট বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নবায়নের অনুমতি দিলে ১ জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর হয়। আইডিআরএ সূত্রে জানা গেছে, বেশির ভাগ বীমা কোম্পানি গত ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন নবায়নের জন্য মাশুল ও ভ্যাট জমা দিয়েছে। কিন্তু সংস্থাটি নতুন মাশুলের প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত নিবন্ধন নবায়ন করা বন্ধ রেখেছে। নতুন প্রজ্ঞাপন কবে থেকে কার্যকর হবে, এ বিষয়টি এখনো জানা যায়নি। পাশাপাশি ২০২৬ সালের মাশুল আগের মতো ১ টাকা হারে থাকবে, নাকি নতুন করে ২ দশমিক ৫ টাকা নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়েও স্পষ্টতা নেই। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের জন্য হার কত হবে, তা নিয়েও অস্পষ্টতা আছে। আইডিআরএর এমন সিদ্ধান্তে বীমা কোম্পানিগুলো অসন্তুষ্ট হলেও কেউই নাম প্রকাশ করে মন্তব্য করতে রাজি হননি। একটি জীবনবীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, এমনিতেই বীমা কোম্পানিগুলোর অবস্থা ভালো নয়। ব্যবসার প্রবৃদ্ধি নেই। তার ওপর বাড়তি হারে নিবন্ধন নবায়নের মাশুল দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক হতে পারে না। নাম না প্রকাশ করার শর্তে একটি বীমা কোম্পানির চেয়ারম্যান বলেন, বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে কিছু বাড়াতে পারে, তবে বাড়ানোর হার খুব বেশি হচ্ছে। এত বীমা কোম্পানিগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হবে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: