বিনিয়োগই দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২৬

ফারজানা ফারাবী : চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে আনোয়ারায় চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রমের সূচনা হয়। ৮০০ একর জায়গা জুড়ে প্রায় ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই শিল্পাঞ্চলে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ৩০টি চীনা প্রতিষ্ঠান এখানে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বিনিয়োগ, কারণ বিনিয়োগই অর্থনীতিকে এগিয়ে নেবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে নিয়মকানুন সহজ করছে এবং চীনা বিনিয়োগকারীদের শুধু বিনিয়োগ নয়, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নেও সহযোগিতার আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, কর্ণফুলী টানেল ও জাতীয় মহাসড়কের সংযোগ থাকায় আনোয়ারা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাল্টিমোডাল হাব। তিনি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীল বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, এ প্রকল্প বাংলাদেশ-চীনের অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। অন্যদিকে, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, শিল্পাঞ্চলটি বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে নতুন সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করবে। নিজের বক্তব্যে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থান শিল্পায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ অঞ্চলে আরো অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চট্টগ্রামের এই চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতার একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প। ২০১৪ সালে প্রাথমিক আলোচনা শুরু, ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় সংশ্লিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষর, ২০২২ সালে সমঝোতা স্মারক সই এবং আজকের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন—সব মিলিয়ে এটি এক দশকেরও বেশি সময়ের যৌথ প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক আস্থার প্রতীক। এটি আমাদের দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতির উজ্জ্বল সাক্ষ্য।

অন্যদিকে, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) প্রেসিডেন্ট ওয়াং বেনকিয়ান বলেন, নতুন বিনিয়োগ আইন বাংলাদেশকে আরো ব্যবসাবান্ধব করেছে এবং বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। সিআরবিসির ভাইস চেয়ারম্যান লি চাংগে জানান, প্রথম ধাপের উত্পাদন কারখানার নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে এবং এ শিল্পাঞ্চল আঞ্চলিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বারে পরিণত হবে।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, কাঁচামাল উত্পাদন দেশে শুরু হলে সরবরাহের সময় ও উত্পাদন ব্যয় কমবে, ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত আরো প্রতিযোগিতামূলক হবে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ১৮ মাসের মধ্যে এই জোনে প্রথম কারখানার উত্পাদন শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এসময় সংসদ সদস্যদের মধ্যে আবু সুফিয়ান, এরশাদ উল্লাহ, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, শাহজাহান চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবুর রহমান শামীমসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে সাব-লিজ চুক্তি স্বাক্ষর, সিইআইজেডের স্লোগান ও ওয়ান-স্টপ সার্ভিস উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিসহ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।