সম্পদের চেয়ে দায় বেশি আইএফআইসি ব্যাংকের, ঘাটতি ১,০৯৯ কোটি টাকা

প্রকাশিত: ৬:৩৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি :

সম্পদের চেয়ে দায় বেশি, সুদ আয় ঋণাত্মক, আর নিয়মিত কার্যক্রম থেকেও আসছে না নগদ অর্থ। খেলাপি ঋণের চাপ ও আয় কমে যাওয়ায় গভীর আর্থিক সংকটে পড়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির লোকসান হয়েছে ১ হাজার ৬৬৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। একই সময়ে মোট সম্পদের তুলনায় দায় বেড়েছে ১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। ফলে ব্যাংকটির নিট সম্পদমূল্য ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে।

ব্যাংকটির ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট সম্পদের পরিমাণ ৫৮ হাজার ৮০০ কোটি ৬২ লাখ টাকা। বিপরীতে মোট দায় ৫৯ হাজার ৮৯৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ সম্পদের তুলনায় দায় বেশি ১ হাজার ৯৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এ ব্যবধানই ব্যাংকটির ঋণাত্মক নিট সম্পদমূল্য নির্দেশ করছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ব্যাংকটির লোকসান হয়েছে ১ হাজার ৬৬৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ১ হাজার ১২৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে লোকসান বেড়েছে ৫৪১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসানও ৫ টাকা ৮৭ পয়সা থেকে বেড়ে ৮ টাকা ৬৯ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

ব্যাংকের প্রধান আয়ের উৎস সুদ। কিন্তু এ খাতেই পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির নিট সুদ আয় ঋণাত্মক হয়েছে ১ হাজার ৫৩৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল প্রায় ৯৬৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নিট সুদ আয়ের ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ৫৬৫ কোটি টাকা।

ব্যাংকটির আর্থিক প্রতিবেদনে লোকসানের পেছনে সম্পদের মানের অবনতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। খেলাপি ঋণ আদায় না হওয়ায় একদিকে প্রত্যাশিত সুদ আয় কমছে, অন্যদিকে এসব ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণের চাপ বাড়ছে। এতে আয় ও আর্থিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

আদায় না হওয়া ঋণের বিপরীতে স্থগিত সুদের পরিমাণও বাড়ছে। গত ৩০ জুন শেষে ব্যাংকটির স্থগিত সুদ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৪০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৭৩৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসে স্থগিত সুদ বেড়েছে ৬০৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

নগদ অর্থের প্রবাহেও বড় অবনতি হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে পরিচালন কার্যক্রম থেকে ব্যাংকটির নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক হয়েছে ৮২২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এ প্রবাহ ছিল ইতিবাচক ৯৬৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পরিচালন নগদ প্রবাহের অবনতি হয়েছে ১ হাজার ৭৮৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহও ৫ টাকা ১ পয়সা থেকে কমে ঋণাত্মক ৪ টাকা ২৮ পয়সায় নেমেছে।

এদিকে, গত ৩০ জুন শেষে ব্যাংকটির ঋণ ও অগ্রিমের বিপরীতে মোট সঞ্চিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে শ্রেণীকৃত ঋণের বিপরীতে নির্দিষ্ট সঞ্চিতি রয়েছে ৭৯২ কোটি ৯০ লাখ টাকা।