৮০ লাখ টিআইএনধারীর রিটার্ন নেই, শনাক্তে উদ্যোগ এনবিআরের প্রকাশিত: ৬:৩২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) রয়েছে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষের। তাদের মধ্যে গত অর্থবছরে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন প্রায় ৫০ লাখ। অর্থাৎ, প্রায় ৮০ লাখ টিআইএনধারীর রিটার্ন জমা পড়েনি। তাদের মধ্যে কতজন মারা গেছেন, কতজনের করযোগ্য আয় নেই আর কতজন ইচ্ছাকৃতভাবে রিটার্ন দিচ্ছেন না, সেই তথ্য নেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে। ফলে প্রকৃত করদাতা শনাক্ত করা এবং রিটার্ন দাখিল বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে সংস্থাটির জন্য। এ পরিস্থিতিতে মৃত ও নিষ্ক্রিয় টিআইএনধারীদের শনাক্ত করতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ইসি) এবং জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে এনবিআর। পাশাপাশি রিটার্ন জমা না দেওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা মনে করেন, টিআইএনধারীদের একটি অংশ মারা গেছেন। আবার অনেকে বিশেষ প্রয়োজনে টিআইএন নিলেও বর্তমানে তাঁদের করযোগ্য আয় নেই। তাদের শনাক্ত করে আলাদা করা গেলে প্রকৃত করদাতাদের রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করা সহজ হবে। এনবিআরের কর্মকর্তারা জানান, রিটার্ন জমা না দেওয়া করদাতাদের ঠিকানায় পাঠানো চিঠির প্রায় ৪০ শতাংশ ফেরত আসছে। ঠিকানা ভুল বা হালনাগাদ না থাকায় এমনটি হচ্ছে। অন্যদিকে, চিঠির জবাব দিচ্ছেন মাত্র ১০ শতাংশ করদাতা। জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকটের কারণে নজরদারি বাড়ানোও কঠিন হচ্ছে। পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, করজাল সম্প্রসারণের পাশাপাশি রিটার্ন দাখিলের কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। মৃত ব্যক্তিদের নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি এবং এনবিআরের বিদ্যমান ডেটাবেজ হালনাগাদ করা জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে রিটার্ন জমা না দেওয়া টিআইএনধারীদের মধ্যে মৃত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে ভোটার তালিকা থেকে মৃত্যুজনিত কারণে বাদ পড়া ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে এনবিআরের। এসব তথ্যের সঙ্গে সংস্থাটির টিআইএন ডেটাবেজ মিলিয়ে মৃত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে। একই উদ্দেশ্যে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে মৃত ব্যক্তি বা অপ্রয়োজনীয় টিআইএন অনলাইনে সরাসরি বাতিলের সুযোগ নেই। মৃত ব্যক্তির টিআইএন বাতিল করতে তার উত্তরাধিকারীকে সংশ্লিষ্ট কর অফিস বা সার্কেলে আবেদন করতে হয়। সমন্বিত তথ্যভান্ডার না থাকায় মৃত ব্যক্তিদের টিআইএন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার কাজেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে। মৃত ব্যক্তিদের পাশাপাশি দীর্ঘদিন রিটার্ন জমা না দেওয়া নিষ্ক্রিয় টিআইএনধারীদের শনাক্ত করতেও কর অঞ্চলগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য হালনাগাদ না থাকায় প্রত্যাশিত সাড়া মিলছে না। এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, বিপুলসংখ্যক টিআইএনধারী থাকলেও তাদের সবাইকে কার্যকরভাবে করজালের আওতায় আনা যাচ্ছে না। আবার রিটার্ন জমা দেওয়া অনেক করদাতাও শূন্য রিটার্ন দিচ্ছেন। ফলে শুধু টিআইএনধারীর সংখ্যা বাড়ানো নয়, রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা কার্যকর করা এবং করদাতাদের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করাও জরুরি। কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, টিআইএনধারীদের রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। যেসব ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র বা ‘প্রুফ অব সাবমিশন’ বাধ্যতামূলক, সেখানে নিয়মটির যথাযথ প্রয়োগ প্রয়োজন। পাশাপাশি করব্যবস্থা সহজ করা এবং যৌক্তিক কর-সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে করদাতাদের রিটার্ন জমায় উৎসাহিত করা যেতে পারে। চলতি অর্থবছরে আয়কর খাত থেকে ২ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এনবিআর। তবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এ খাতে আদায় হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। News PhotoCard SHARES অর্থনীতি বিষয়: