সানলাইফের বকেয়া দাবি পরিশোধের দাবিতে আইডিআরএতে গ্রাহক-মাঠকর্মীদের স্মারকলিপি প্রকাশিত: ৬:৫৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বীমা দাবি পরিশোধ না করার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছেন গ্রাহক ও মাঠকর্মীরা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শতাধিক গ্রাহক ও মাঠকর্মী রাজধানীতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন। পরে তারা আইডিআরএ চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে গ্রাহক ও মাঠকর্মীরা অভিযোগ করেন, বীমা খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবি পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাধারণ গ্রাহক ও মাঠকর্মীরা এখনো তাদের প্রাপ্য অর্থ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তাদের দাবি, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স ২৪৩ জন গ্রাহকের মধ্যে যে বীমা দাবি পরিশোধ করেছে, তার বড় একটি অংশ মামলাজনিত বিষয় অথবা মালিকপক্ষের বিশেষ সুপারিশের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ গ্রাহকদের বকেয়া দাবির অর্থ এখনো পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। স্মারকলিপিতে আরও দাবি করা হয়, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সে আনুমানিক প্রায় ২০০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এছাড়া গ্রাহকদের হাতে প্রায় ৬ কোটি টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ চেক থাকলেও তারা ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন না। অভিযোগ রয়েছে, অনেক গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া তাদের বীমা দাবি থেকে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ এফডিআর হিসেবে কর্তন করা হয়েছে। কিন্তু অবশিষ্ট প্রাপ্য অর্থের চেকও এখনো দেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের। গ্রাহকদের অভিযোগ, কোম্পানির বর্তমান সিএফও (অর্থ ও হিসাব) রফিকুল ইসলাম দায়িত্বে থাকার পরও অনেক গ্রাহককে নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ না করে একের পর এক নতুন তারিখ দেওয়া হচ্ছে। এতে গ্রাহক ও মাঠকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের চাটখিল শাখার জেনারেল ম্যানেজার জান্নাতুল ফেরদৌস অশ্রু বলেন, “২০০০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমরা মাঠকর্মী ও গ্রাহকরা কোম্পানিতে প্রায় ২৪-২৫ লাখ টাকা জমা দিয়েছি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জমাকৃত ও নবায়নের অর্থের অনেকটাই গ্রাহকরা ফেরত পাচ্ছেন না।” তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সে বিভিন্ন অনিয়ম চলে আসছে। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি ‘গ্রীন ডেল্টা’র কাছে বিক্রি করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন। তার অভিযোগ, প্রধান কার্যালয় পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সময়ে দায়িত্বে থাকা এমডি ও সিএফও পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রাহক ও কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, হয়রানি এবং ঘুষের বিনিময়ে পক্ষপাতমূলকভাবে চেক দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, গুলশানের কার্যালয়ে নিরাপত্তাকর্মী বসিয়ে কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হতো এবং কোনো কোনো সময়ে লিফট বন্ধ রাখায় কর্মীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। দীর্ঘদিন টাকা না পেয়ে কয়েকজন গ্রাহক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন। মানববন্ধনে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের সালমা বেগম বলেন, “পলিসির মেয়াদ শেষ হলেও গ্রাহকের টাকা না পাওয়ার দায় মাঠকর্মীদের ওপর দেওয়া হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের কাছে আমাদের অপমান-অপদস্থ হতে হচ্ছে।” বরিশাল থেকে আসা গ্রাহক মায়া বলেন, ২০২১ সালে তার বীমা পলিসির মেয়াদ শেষ হলেও এখনো প্রায় ৬ লাখ টাকা পাননি। স্বামী মারা যাওয়ার পর সন্তানকে নিয়ে তিনি আর্থিক সংকটে রয়েছেন বলেও জানান। গ্রাহক ও মাঠকর্মীরা আইডিআরএর কাছে দ্রুত বকেয়া দাবি পরিশোধ, মেয়াদোত্তীর্ণ চেকের অর্থ প্রদান এবং অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা জানান, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন, অর্থ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগসহ আরও কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। News PhotoCard SHARES অর্থনীতি বিষয়: