ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স’এ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ—দোষীদের দ্রুত বিচার ও অর্থ উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ২:০১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২৫

খবর বিজ্ঞপ্তিঃ ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড’র হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ, দুর্নীতি ও গ্রাহক ভোগান্তির প্রতিবাদে শুক্রবার ২৪ অক্টোবর ২০২৫ রাজধানীর দুর্নীতি দমন কমিশনের সামনে দুপুর ১২ ঘটিকায় এক বিক্ষোভ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে কোম্পানির বর্তমান বোর্ড সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী, মাঠপর্যায়ের বীমাকর্মীসহ ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা অংশগ্রহণ করেন। তারা গ্রেপ্তারকৃত সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।

বক্তারা জানান, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লি. ২০০০ সালের ২৯ মে যাত্রা শুরুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই দক্ষিণ এশিয়ার আলোচিত, গ্রাহকবান্ধব ও আস্থাশীল ইসলামী জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে। দেশের ধনী, সাধারণ ও নিম্নবিত্ত গ্রাহকদের শতভাগ বিশ্বাস ও আস্থার উপর দাঁড়িয়ে কোম্পানিটি কোটি মানুষের স্বপ্ন রক্ষা করে এসেছে। এই সফলতার পিছনে ছিল গ্রাহকদের নিরন্তর ভালোবাসা এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সহযোগিতা।

তবে দুঃখজনকভাবে, আওয়ামী লীগ সরকারের ছত্রছায়ায় কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এম এ খালেক, হেমায়েতসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন অপকৌশলের মাধ্যমে প্রায় ৪০ লাখ গ্রাহকের কষ্টার্জিত প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার অধিক আত্মসাৎ করে। এই লোমহর্ষক দুর্নীতির কারণে কোম্পানির ভাবমূর্তি ভয়াবহভাবে ক্ষুণ্ণ হয়, গ্রাহকদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। বর্তমানে কোম্পানির কর্মকর্তা, ডেস্ক কর্মী ও মাঠপর্যায়ের বীমাবিক্রেতারা সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও প্রশ্নের মুখে পড়ছেন, যা তাদের পেশাগত জীবনে বিরাট চাপ সৃষ্টি করছে।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা দাবি জানান—দুদকের হাতে ইতোমধ্যে গ্রেফতার নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তার সম্পদ অনুসন্ধান করে আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সঙ্গীদেরও চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে। বক্তারা অভিযোগ করেন, নজরুল ও তার চক্র বিভিন্ন সময় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে হিসাব-নিকাশ, আর্থিক প্রতিবেদন ও অডিট সংক্রান্ত তথ্য জালিয়াতি করে জনগণের অগাধ আস্থা-বিশ্বাস প্রতারিত করেছে।

এদিকে মানববন্ধনে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ও ম্যানেজমেন্টকে সাধুবাদ জানানো হয়। বক্তারা বলেন, নতুন বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারে নানা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে চিঠি প্রেরণ করে সহযোগিতা চাওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন—যে প্রতিষ্ঠানে লাখো পরিবার তাদের ভবিষ্যৎ সঞ্চয় করেছে, সেখানে এমন দুর্নীতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দেশের আর্থিক সুরক্ষা কাঠামোর জন্য বীমা একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। তাই সরকারের উচিত এই মামলা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা, দ্রুত তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।

মানববন্ধন থেকে সর্বশেষ এক দফা দাবি জানানো হয়—

গ্রেফতারকৃত নজরুল ইসলামের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি

আত্মসাৎকৃত হাজার কোটি টাকা দ্রুত উদ্ধার

সংশ্লিষ্ট সহযোগীদেরও গ্রেফতার

গ্রাহক নিরাপত্তা ও আস্থা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ

বক্তারা সতর্ক করে বলেন, অর্থ ফেরত ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে এবং প্রয়োজনে জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা স্লোগান তোলেন—
“গ্রাহকের টাকা ফেরত চাই!”
“দুর্নীতিবাজদের শাস্তি চাই!”

শেষে সবাই বর্তমান বোর্ডের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেন এবং গ্রাহকদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।