বীমা শিল্পের আধুনিকায়নে বেঙ্গল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অঙ্গীকার প্রকাশিত: ৩:৪৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৫ নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশের বীমা শিল্পকে আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর করার লক্ষ্যে রাজধানীর মতিঝিলে বেঙ্গল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ অনুষ্ঠিত হলো এক বিশেষ আলোচনা সভা। এ সভায় বক্তারা বীমা খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং প্রযুক্তি নির্ভর সেবা চালু করে গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সভায় আলোচনা করেন বেঙ্গল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এম এম মনিরুল আলম তপন। তিনি বলেন, বীমা শিল্পকে সময়োপযোগী ও গ্রাহক বান্ধব করতে হলে শতভাগ তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। গ্রাহকরা যেন তাদের ম্যাচুরিটির টাকা নির্ধারিত দিনে সরাসরি ব্যাংক একাউন্টে পেয়ে যান, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি মনে করেন, দক্ষ কর্মী বাহিনী গড়ে তোলা এবং সেবার মানোন্নয়ন ছাড়া বীমা শিল্পে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা সম্ভব নয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে “দৈনিক এই আমার দেশ” ও “দৈনিক গড়ব বাংলাদেশ” পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক এম হোসাইন আহমদ বলেন, বীমা শিল্পের উন্নয়ন কেবল কোনো একটি কোম্পানির দায়িত্ব নয়। সকল কোম্পানির মালিক পক্ষকে আন্তরিক হতে হবে, সরকারকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে এবং গণমাধ্যমকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে বীমা সম্পর্কে আস্থার সংকট এখনো রয়েছে। তাই সময়মতো দাবি নিষ্পত্তি করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সেই সংকট কাটাতে হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন “ব্যাংক বীমা অর্থ নিউজ”-এর নির্বাহী সম্পাদক নুরনবী সোহেল, কোম্পানির চিফ অপারেটিং অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর এবং অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর হুমায়ুন কবির। আলোচনায় নুরনবী সোহেল বলেন, বাংলাদেশের বীমা খাতের সম্ভাবনা বিশাল। কিন্তু কিছু সীমাবদ্ধতা ও সেবার ঘাটতির কারণে মানুষ আস্থা হারায়। মানোন্নয়ন হলে মানুষের আগ্রহ বাড়বে। চিফ অপারেটিং অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, গ্রাহকরা যেন অফিসে না এসে মোবাইল অ্যাপ বা অনলাইনের মাধ্যমে সব সেবা নিতে পারেন সেই ব্যবস্থা দ্রুত সময়ে সকল কোম্পানিকে চালু করতে হবে। অ্যাডিশনাল এমডি হুমায়ুন কবির বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ছাড়া বীমা শিল্প এগোতে পারবে না। প্রশিক্ষিত ও নৈতিকতায় দৃঢ় কর্মী বাহিনী তৈরি করতে পারলেই গ্রাহকের আস্থা ফিরে আসবে। বক্তারা একমত হন যে, সরকারের সহযোগিতা ছাড়া বীমা শিল্প এগোতে পারবে না। রাষ্ট্রীয়ভাবে এ খাতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে, গণমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা জোরদার করতে হবে এবং জনগণের মাঝে বীমা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে হবে। আলোচনায় আরও উঠে আসে, দেশের বীমা শিল্প নানা চ্যালেঞ্জের মুখে থাকলেও এখানে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহৎ জনসংখ্যা, ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি এবং মানুষের আয় বৃদ্ধি বীমার বাজার বিস্তারে সহায়ক হবে। তবে এর জন্য প্রয়োজন গ্রাহকবান্ধব সেবা, স্বচ্ছতা এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার মানসিকতা। আলোচনা শেষে সিইও এম এম মনিরুল আলম তপন আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, মালিক পক্ষের আন্তরিকতা, সরকারের সহায়তা এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতার মাধ্যমে বীমা শিল্পকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও আস্থাভাজন খাতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, মানুষকে বুঝতে হবে বীমা কেবল একটি কাগজ নয়, বরং জীবনের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার অন্যতম ভরসা। সভায় উপস্থিত সকলে মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশে বীমা শিল্প শিগগিরই অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারবে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: