১৫ অক্টোবর থেকে চাহিদামতো টাকা তুলতে পারবেন ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকেরা প্রকাশিত: ৭:০৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিবেদক : তারল্যসংকটে দীর্ঘদিন ধরে ভুগতে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকেরা আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে চাহিদামতো টাকা তুলতে পারবেন। একই দিন থেকে ব্যাংকটির সব শাখা ও এটিএম বুথে পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং সেবা চালু হবে। এ জন্য ১১ অক্টোবর থেকে বড় অঙ্কের আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। গ্রাহকদের টাকা পরিশোধে শুরুতে ৩ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা প্রস্তুত রাখছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা প্রয়োজনে ১০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল হক। বৈঠকে ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি ও আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। গ্রাহকেরা যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা তুলতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন গভর্নর। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ন্যাশনাল ব্যাংকের সব শাখায় সেবা চালু করতে শুরুতে ৩ হাজার কোটি টাকার সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হবে। প্রয়োজনে এ সহায়তা প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে এই অর্থের ব্যবস্থা করা হবে। এর গ্যারান্টর থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংক। ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেলিতা মেহজাবীন বলেন, ‘আমরা আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে সব সেবা চালু করব। সব শাখা ও এটিএম বুথে পর্যাপ্ত তারল্য রাখা হবে, যাতে কোনো গ্রাহক খালি হাতে ফিরে না যান। এ জন্য ১১ অক্টোবর থেকে বড় অঙ্কের আমানতকারীদের আবেদন নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ১৫ অক্টোবর থেকে গ্রাহকেরা চেক, আরটিজিএস ও এনপিএসবির মাধ্যমে টাকা তুলতে পারবেন। পাশাপাশি সব ধরনের ঋণপত্র বা এলসি খোলার সেবাও চালু হবে। ব্যাংকটির ২২১টি শাখা ও ৫৩টি এটিএম বুথে স্বাভাবিক সেবা দিতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান চেয়ারম্যান। ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল হকও বলেন, নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে সব শাখা ও এটিএম বুথে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, গ্রাহকেরা যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ তুলতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর। আমানত ফেরত দিতে সহযোগিতার প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সহায়তা দেবে। উচ্চ খেলাপি ঋণ, তারল্যসংকট ও ধারাবাহিক লোকসানে বেশ কয়েক বছর ধরে চাপে রয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির মোট ঋণের ৫৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ বর্তমানে খেলাপি। এর পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। ঋণের বিপরীতে প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটি প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা লোকসান করেছে। ২০২৪ সালে লোকসান হয় ১ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা। সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির লোকসান হয়েছে ২ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৭ টাকা ১০ পয়সা। দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সহায়তার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ৮৪ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক পেয়েছে ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা। News PhotoCard SHARES অর্থনীতি বিষয়: