২০২৬ সালের নিবন্ধন নবায়ন ও গেজেট সংশোধনে ​আইডিআরএ’কে বিআইএ’র চিঠি

প্রকাশিত: ৫:০৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩০, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি: ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বরের ফি জমা দেয়া কোম্পানিগুলোর নিবন্ধন অবিলম্বে নবায়ন করে দেয়ার পাশাপাশি ২০২৬ সালের অবশিষ্ট নবায়ন ফি পরিশোধ নিয়ে উদ্ভূত জটিলতা নিরসনের প্রয়োজনে গেজেট সংশোধনের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ)।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদ, এমপি স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন ফি জমা দেয়া সত্ত্বেও ২০২৬ সালের লাইসেন্স নবায়ন না হওয়ায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

বিআইএ’র চিঠিতে জানানো হয়, বীমা আইন, ২০১০-এর ১১(২) ধারা অনুযায়ী কোম্পানিগুলোকে ৩০ নভেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে নবায়ন ফি জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। অনেক কোম্পানি আইন মেনে নির্ধারিত সময়ে ফি জমা দিলেও এখন পর্যন্ত তাদের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি।

২৭ এপ্রিল( সোমবার) অনুষ্ঠিত বিআইএ’র ২২৭তম নির্বাহী কমিটির সভায় বীমা মালিকরা বিষয়টি উত্থাপন করেন। আইন মেনে সময়মতো অর্থ জমা দেয়ার পরেও কেন লাইসেন্স ঝুলে আছে, তা নিয়ে সভায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

​চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, গত ১ মার্চ ২০২৬ তারিখে বিআইএ’র একটি প্রতিনিধি দল আইডিআরএ’র তৎকালীন চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সেই বৈঠকে ২০২৬ সালের বর্ধিত নবায়ন ফি ছাড়াই লাইসেন্স প্রদানের অনুরোধ জানানো হলে তিনি ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছিলেন।

​এই প্রেক্ষিতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে- ৩০ নভেম্বর ২০২৫ এর মধ্যে যারা ফি জমা দিয়েছেন, সেই কোম্পানিগুলোকে অবিলম্বে লাইসেন্স নবায়ন করে দেয়া এবং ​২০২৬ সালের অবশিষ্ট নবায়ন ফির বিষয়ে উদ্ভূত জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনে সরকারি গেজেট সংশোধন করার অনুরোধ জানিয়েছে বিআইএ।

এর আগে রোববার (২৬ এপ্রিল) দেশের বেসরকারি বীমা কোম্পানিগুলোর ২০২৬ সালের নিবন্ধন নবায়ন ফি নির্ধারণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে আইডিআরএ। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকে পাঠানো এ সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়, ২০২৬ সালে বীমা কোম্পানির নিবন্ধন নবায়ন ফি প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে কত টাকা হারে প্রযোজ্য হবে সে বিষয়ে নির্দেশনা বা আইনগত মতামত প্রয়োজন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১০ সালের বীমা আইন এবং ২০১২ সালের বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বিধিমালা অনুযায়ী, বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো নিবন্ধন নবায়নের জন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে বাধ্য। বিশেষত, বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১.০০ টাকার ফি প্রদান করে ২০২৬ সালের নিবন্ধন নবায়ন ফি জমা দিয়েছে।

তবে, ২০২৬ সালের নিবন্ধন নবায়ন ফি সংক্রান্ত সংশোধন প্রজ্ঞাপন কার্যকর হওয়ার পরেও ৬৭টি বীমা প্রতিষ্ঠান ফি পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে, ফলে তাদের নিবন্ধন নবায়ন সম্ভব হয়নি।