বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দরপতন

প্রকাশিত: ৭:২৮ অপরাহ্ণ, জুন ৫, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি : যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধের অবসানে বৃহত্তর সমঝোতা হতে যাচ্ছে—এমন আশাবাদে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর কমেছে। একদিকে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পরিস্থিতি পরিবর্তন নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৪জুন) সকালের লেনদেনে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে ৯৭ দশমিক ১৪ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দর দাঁড়ায় ৯৫ দশমিক ৪০ ডলারে; যা আগের তুলনায় ৬২ সেন্ট বা দশমিক ৬৫ শতাংশ কম।

এর আগে বুধবার উভয় বেঞ্চমার্ক তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া, কুয়েতে ইরানের হামলা এবং হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন সামরিক অভিযানের খবরে বাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় এ ঊর্ধ্বমুখিভাব তৈরি হয়।

ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়। তবে এটি কার্যকর হতে হলে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভেটো অতিক্রম করতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন লাগবে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় আগামী সপ্তাহান্তের মধ্যেই অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি। তবে আলোচনায় এখনো কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। উভয় পক্ষ বিনিময় করা প্রস্তাবনাগুলো পর্যালোচনা করছে বলেও তিনি জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত হ্রাসের তথ্যও জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসন এনার্জি ইনফর্মেশন অ্যাডমিনেস্ট্রেশন (ইআইএ) জানিয়েছে, ২৯ মে সমাপ্ত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত ৮০ লাখ ব্যারেল কমে ৪৩ কোটি ৩৭ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকরা গড়ে ৪০ লাখ ব্যারেল মজুত কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান হাইটং ফিউচার্স এক প্রতিবেদনে বলেছে, বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বিদ্যমান ভারসাম্যহীনতা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে তেলের দাম আগামীতে বর্তমান স্তর থেকে বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।