দেশে আসছে পেপ্যাল, ডিজিটাল অর্থনীতিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১২:১৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি : তরুণ প্রজন্মের জন্য ডিজিটাল অর্থনীতির নতুন দুয়ার খুলে দিতে আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম পেপ্যালসহ কয়েকটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ফ্রিল্যান্সার ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিদেশি আয় দেশে আনার প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ ও বাধামুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর গ্রিন রোডে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘সংখ্যার বাইরে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়া: প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস)।

অর্থমন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্মের জন্য এই বাজেটে আমরা সবকিছু দিয়েছি। স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিদেশ থেকে টাকা আনার প্ল্যাটফর্মগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত রেমিট্যান্স আনতে কোনো ফরম পূরণ করতে হবে না এবং এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

তিনি আরও জানান, পেপ্যালসহ বিশ্বের বড় বড় ট্রানজেকশন প্ল্যাটফর্মগুলোকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং অনেকেই আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এতে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির চিত্র বদলে যাবে।

ডিজিটাল অবকাঠামো প্রসারে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা কেবল মুখে ডিজিটাল হওয়ার কথা বলছি না, সত্যিকার অর্থে ডিজিটাল হতে চাই। পুরো ব্যবস্থাকে অনলাইনে রিয়েল টাইমে নিয়ে আসা হচ্ছে। সরকারি অফিসে সশরীরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা যত কমবে, দুর্নীতিও তত কমে আসবে। আমরা একটি শক্তিশালী ইন্টারনেট ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছি।

বাজেটের দর্শন ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত দেড় দশকে দেশের অর্থনীতি একটি বিশেষ গোষ্ঠীর ‘পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতিতে’ (পেট্রোনাইজড ইকোনমি) পরিণত হয়েছিল। সাধারণ ব্যবসায়ীদের সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত।

তিনি বলেন, আমরা সেই পুরোনো মডেল থেকে বেরিয়ে এসে অর্থনীতির গণতান্ত্রায়ন করতে চাই। অর্থনীতিতে যদি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ না থাকে, তবে গ্রোথ বা রপ্তানির সংখ্যার কোনো মূল্য নেই।

মূলধারার অর্থনীতির বাইরে থাকা কামার, কুমার, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের কারিগর এবং বাউল-পালাগান সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। এ সময় তিনি পূর্বাচলে ১৬০ একর জায়গায় একটি ‘থিয়েটার ডিস্ট্রিক্ট’ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।

পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জেপি মরগানের মতো বড় বড় বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও ফান্ড ম্যানেজাররা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আশা করছি, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজার শক্ত অবস্থানে ফিরবে।

সিজিএসের চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান। তিনি বলেন, বাজেটের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত মানুষ। উন্নয়ন কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনমানে কতটা প্রভাব ফেলছে, সেটিই বড় বিষয়।

অনুষ্ঠানে বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ ও ট্রান্সকম লিমিটেডের সিইও সিমিন রহমানসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।