ডিজিটাল লেনদেন বাড়লেও ব্যাংকের বাইরে নগদ টাকা রেকর্ড ৩.৮ লাখ কোটি

প্রকাশিত: ১২:১৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও কার্ডভিত্তিক লেনদেন দ্রুত বাড়লেও নগদ টাকার ব্যবহার কমার কোনো লক্ষণ নেই। বরং ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে শেষে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জুন ও জুলাইয়ে এ অঙ্ক আরও বেড়ে ৩ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির ব্যাপকতা, নগদনির্ভর ব্যবসা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সীমিত আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ব্যাংকিং খাতের প্রতি আস্থার ঘাটতির কারণে ডিজিটাল লেনদেন বাড়লেও নগদের চাহিদা কমছে না।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যাংকের বাইরে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ থাকলে তা আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থেকে যায়। এতে ব্যাংকের আমানত সংগ্রহ ও ঋণ বিতরণের সক্ষমতা কমে। একই সঙ্গে কর ফাঁকি, অপ্রদর্শিত আয় এবং অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির বিস্তারের ঝুঁকিও বাড়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১১ সালে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ৫৮ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। এরপর তা ধারাবাহিকভাবে বেড়ে ২০২১ সালের জুনে ২ লাখ ৯ হাজার কোটি, ২০২২ সালে ২ লাখ ৩৬ হাজার কোটি, ২০২৩ সালে প্রায় ২ লাখ ৯২ হাজার কোটি এবং ২০২৪ সালের জুনে প্রায় ২ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছে। চলতি বছরের মে মাসেই তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, জুনে ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে সৃষ্ট অস্থিরতার সময় বিপুলসংখ্যক গ্রাহক আমানতের অর্থ তুলে নেন। একই সময়ে আরও কয়েকটি ব্যাংক থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ উত্তোলন হয়। এর ফলে জুনে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থ ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। জুলাইয়ে তা আরও বেড়ে ৩ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায়।

তবে একই সময়ে ব্যাংক খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধিও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ব্যাংকগুলোতে নতুন আমানত বেড়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫২২ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। মে শেষে ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৪১ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ইন্টারনেট ব্যাংকিং, কার্ডভিত্তিক লেনদেন এবং বাংলা কিউআরের ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও নগদ টাকার চাহিদা প্রত্যাশিত হারে কমছে না। বিষয়টিকে আর্থিক খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।