একের পর এক প্রতিষ্ঠান বন্ধ, বিপাকে শেয়ারহোল্ডাররা প্রকাশিত: ৮:৪২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিনিধি : একীভূতকরণের কারণে পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারমূল্য শূন্য ঘোষণার পর এবার অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে (এনবিএফআই)। এর মধ্যে তিনটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত। ফলে নতুন করে এসব প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের আর্থিক দুরবস্থা, অনিয়ম ও পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় গত ৯ আগস্ট আভিভা ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফাস ফাইন্যান্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংকে অকার্যকর ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। এর মধ্যে আভিভা ফাইন্যান্স ছাড়া বাকি তিনটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত। পরদিন এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। এখন প্রশ্ন উঠেছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতকারী ও অন্যান্য পাওনাদারের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা হলেও সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা তাদের বিনিয়োগের কোনো অংশ ফেরত পাবেন কি না। পাঁচ ব্যাংকের অভিজ্ঞতা গত বছরের নভেম্বরে একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় থাকা ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়। পরে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তাদের সম্পদের তুলনায় দায় অনেক বেশি। ফলে শেয়ারহোল্ডারদের নিট সম্পদমূল্য ঋণাত্মক হয়ে যাওয়ায় শেয়ারের মূল্য শূন্য ঘোষণা করা হয়। এতে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন। তবে পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়টি এখন পুরোপুরি অমীমাংসিত নয়। ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণের মডেল তৈরি করতে সময় লাগবে এবং হিসাব-নিকাশ করে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে। পুরো ক্ষতির দায় একতরফাভাবে শেয়ারহোল্ডারদের ওপর চাপানোও যৌক্তিক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। তবে এখনো ক্ষতিপূরণের পরিমাণ, পদ্ধতি ও সময়সীমা চূড়ান্ত হয়নি। ফলে বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। তিন এনবিএফআই নিয়ে নতুন উদ্বেগ নতুন করে অকার্যকর ঘোষণা করা তিন তালিকাভুক্ত এনবিএফআই হলো ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফাস ফাইন্যান্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। এসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক সংকটে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অবসায়ন উদ্যোগে থাকা কয়েকটি এনবিএফআইয়ের খেলাপি ঋণও অত্যন্ত বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকটের পেছনে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও ঋণ আদায়ে ব্যর্থতার বিষয় উঠে এসেছে। ফাস ফাইন্যান্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংসহ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। এখন এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ও দায়ের হিসাব করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ নিয়মে কোনো প্রতিষ্ঠান অবসায়নে গেলে প্রথমে তার সম্পদ বিক্রি করে পাওনাদারদের অর্থ পরিশোধ করা হয়। এরপর অর্থ অবশিষ্ট থাকলে শেয়ারহোল্ডাররা তা পাওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সম্পদ বিক্রি করে দায় পরিশোধের পর সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য অর্থ অবশিষ্ট থাকবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, অবসায়নের পর প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোক্তা-পরিচালকেরা কিছু পাবেন না। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কিছু পাবেন কি না, তা শিগগিরই ঘোষিত স্কিমে স্পষ্ট করা হবে। আমানতকারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা মুখে পড়েছেন এসব প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শেয়ারহোল্ডারেরা। এখন অবসায়ন বা পুনর্গঠনের পর এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদ থেকে তাঁদের জন্য কতটা অর্থ অবশিষ্ট থাকে এবং রাষ্ট্র বা নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কোনো বিশেষ সুরক্ষা দেয় কি না—তার ওপরই নির্ভর করছে তাঁদের বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ। প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় যাদের কোনো ভূমিকা ছিল না, তাদের বিনিয়োগের সুরক্ষা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—ব্যাংক ও এনবিএফআই সংকটের মধ্যে এখন সেটিই শেয়ারবাজারের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। News PhotoCard SHARES অর্থনীতি বিষয়: