সরকারি ২০ কোম্পানির ১২টিই লোকসানে

প্রকাশিত: ৩:৫০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

ফারজানা ফারাবী : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত ২০টি সরকারি ও সরকার-নিয়ন্ত্রিত কোম্পানির ১২টিই লোকসানে রয়েছে। সর্বশেষ প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ অর্থবছরের আর্থিক হিসাব অনুযায়ী, এসব কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশও দেয়নি।

শেয়ারবাজারে সরকারি কোম্পানির সংখ্যা বাড়ানোর পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে। এতে বাজারে ভালো কোম্পানির সংখ্যা বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। তবে তালিকাভুক্ত সরকারি কোম্পানিগুলোর সাম্প্রতিক আর্থিক চিত্রে এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে।

বর্তমানে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ৩৬০টি। এর মধ্যে সরকারি কোম্পানি ২০টি। এসব কোম্পানির মধ্যে অবশ্য কয়েকটি নিয়মিত ভালো মুনাফা করছে এবং বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিচ্ছে।

সর্বশেষ অর্থবছরে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৬১ টাকা ৩৯ পয়সা। কোম্পানিটি ২০০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ২০৬ টাকা ৩০ পয়সা।

যমুনা অয়েলের ইপিএস হয়েছে ৫৮ টাকা ৭০ পয়সা। কোম্পানিটি ১৮০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর শেয়ারটির দর ছিল ১৭৬ টাকা ৩০ পয়সা। পদ্মা অয়েলের ইপিএস ৫৭ টাকা ৩০ পয়সা এবং লভ্যাংশ ১৬০ শতাংশ। ওই দিন কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১৯৩ টাকা ৮০ পয়সা।
এ ছাড়া বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ইপিএস হয়েছে ২০ টাকা ১০ পয়সা এবং লভ্যাংশ ২৫ শতাংশ। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলের ইপিএস ১১ টাকা ১ পয়সা ও লভ্যাংশ ৪০ শতাংশ। ন্যাশনাল টিউবসও ১ টাকা লভ্যাংশ দিয়েছে।

অন্যদিকে কয়েকটি সরকারি কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরেই লোকসানে রয়েছে। এর মধ্যে জিলবাংলা সুগার মিলস, শ্যামপুর সুগার মিলস, উসমানিয়া গ্লাস, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, বিডি সার্ভিসেস ও ন্যাশনাল টির আর্থিক অবস্থা বেশি নাজুক। এসব কোম্পানির ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া নিয়েও নিরীক্ষকেরা সংশয় প্রকাশ করেছেন।

সর্বশেষ অর্থবছরে জিলবাংলা সুগার মিলসের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৭৮ টাকা ৮৭ পয়সা। ন্যাশনাল টির লোকসান ১০৭ টাকা ৪৯ পয়সা এবং শ্যামপুর সুগার মিলসের ৫০ টাকা ৭৭ পয়সা। এসব কোম্পানি কোনো লভ্যাংশ দেয়নি।
এ ছাড়া পাওয়ার গ্রিডের শেয়ারপ্রতি লোকসান ২ টাকা ৩০ পয়সা, ডেসকোর ৩ টাকা ১৫ পয়সা, ইস্টার্ন কেবলসের ৪ টাকা ৪৩ পয়সা, উসমানিয়া গ্লাসের ৫ টাকা ৩৪ পয়সা, রেনউইক যজ্ঞেশ্বরের ৭ টাকা ৭৬ পয়সা, তিতাস গ্যাসের ৭ টাকা ৮০ পয়সা এবং বিডি সার্ভিসেসের ৮ টাকা ৯৪ পয়সা। আইসিবির লোকসান হয়েছে ১৪ টাকা।

সরকারি কোম্পানিগুলোর লোকসানের অন্যতম কারণ দুর্বল ব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা ও দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যা বলে মনে করেন ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন।
তিনি বলেন, লোকসানি প্রতিষ্ঠানকে সংস্কার না করে বছরের পর বছর সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল রাখা হয়েছে। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন পাচ্ছেন না। শেয়ারবাজারে আনার আগে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বিবেচনা করা জরুরি।

বর্তমান বাস্তবতায় শুধু সরকারি কোম্পানির সংখ্যা বাড়ানোর বদলে লাভজনক ও দক্ষভাবে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান বাছাই করে শেয়ারবাজারে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে দুর্বল কোম্পানিগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।