একনেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প অনুমোদন

প্রকাশিত: ৯:১১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

ফারজানা ফারাবী : জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকী।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৪৮ হাজার ২৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। প্রকল্প ঋণ থেকে পাওয়া যাবে ১ লাখ ২০ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। আর সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ৫৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাঁচটি রয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের। এগুলো হলো—ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫) সাউদার্ন রুট, রাজশাহী সড়ক জোনের জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ, চট্টগ্রাম সড়ক জোনের জেলা মহাসড়ক মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (তৃতীয় পর্যায়), ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫) নর্দার্ন রুট (প্রথম সংশোধিত) এবং ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-১) (প্রথম সংশোধিত)।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। এগুলো হলো নারায়ণগঞ্জ–ঢাকা–জয়দেবপুর সেকশনে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন চালু এবং বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত)।

এ ছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরিশাল সেনানিবাস স্থাপন (দ্বিতীয় পর্যায়) এবং খুলনা নৌ অঞ্চলে নৌ সদস্যদের আবাসন সুবিধাসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের টেক্সটাইল ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পও অনুমোদিত হয়েছে।

পাশাপাশি খুলনা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত) এবং মনপুরা দ্বীপাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

একনেক সভায় ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ১৫টি প্রকল্প সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়। এসব প্রকল্পের ব্যয় ৫০ কোটি টাকার কম হওয়ায় পরিকল্পনামন্ত্রী নিজস্ব ক্ষমতাবলে সেগুলো অনুমোদন করেছেন। পরে একনেক সভায় অনুমোদনের বিষয়টি অবহিত করা হয়।

এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন (দ্বিতীয় সংশোধিত), বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তর নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত), ভাসানচরে গ্রিন বেল্ট প্রতিষ্ঠা ও কক্সবাজারে রোহিঙ্গা প্রভাবিত এলাকায় পুনর্বনায়ন (প্রথম সংশোধিত), দেশি মুরগি গবেষণা, সংরক্ষণ ও উন্নয়ন জোরদারকরণ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন (প্রথম পর্যায়, প্রথম সংশোধিত)।

এ ছাড়া রংপুর জোনে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ও অন্যান্য সেতু প্রতিস্থাপন (প্রথম সংশোধিত), আরডিএ ভবনের পঞ্চম থেকে দশম তলা নির্মাণ, জালালাবাদ সেনানিবাসে এসআইঅ্যান্ডটির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কোয়ার্টার গার্ড নির্মাণ এবং সিলেট বিভাগে বন্যা পূর্বাভাসের জন্য ত্রিমাত্রিক (৩ডি) মডেল প্রস্তুতকরণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প রয়েছে।

সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও খুলনা মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদারকরণ (এসএসপিআরআইটি) (প্রথম সংশোধিত), বরগুনা ও দিনাজপুর জেলা স্টেডিয়ামের উন্নয়ন এবং সিলেট-১০ নম্বর অনুসন্ধান কূপ খনন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প সম্পর্কেও একনেককে অবহিত করা হয়।