নগদ লেনদেনে বছরে অর্থনৈতিক ক্ষতি ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা প্রকাশিত: ২:০২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলাদেশে নগদ অর্থের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে বছরে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ব্যয় ও সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। এই অঙ্ক দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ২৪ শতাংশের সমান। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ‘দ্য কস্ট অব ক্যাশ স্টাডি ইন বাংলাদেশ: আ কমপারেটিভ অ্যানালাইসিস অব ক্যাশ অ্যান্ড ডিজিটাল পেমেন্ট’ শীর্ষক গবেষণায় নগদ ও ডিজিটাল লেনদেনের ব্যয় তুলনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে একজন মানুষের নগদ ব্যবহারের বার্ষিক অর্থনৈতিক খরচ গড়ে ৯ হাজার ৯৩৮ টাকা। ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে এই খরচ মাত্র ৩৪৮ টাকা। তবে ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার পুরোটা সরাসরি নগদ ব্যবস্থাপনার ব্যয় নয়। এর মধ্যে নগদভিত্তিক অপ্রকাশিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সম্ভাব্য কর রাজস্ব হারানো, ব্যাংকের নগদ ব্যবস্থাপনা, ভোক্তার সময়ের মূল্য, হাতে নগদ রাখায় সুদ না পাওয়া এবং চুরি বা অর্থ হারানোর ঝুঁকিও রয়েছে। গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, মোট ক্ষতির মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ৯৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, যা ছায়া অর্থনীতির কারণে সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব হারানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। এই অঙ্ক মোট অর্থনৈতিক ক্ষতির ৫৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ফলে এই অংশকে সরাসরি নগদ অর্থ ছাপানো বা ব্যবস্থাপনার খরচ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ছায়া অর্থনীতির কারণে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি বাদ দিলেও নগদ ব্যবহারের বার্ষিক অর্থনৈতিক খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৭৭ হাজার ৮৭ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। গবেষণায় বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নগদ ব্যবস্থাপনায় বছরে ব্যয় হয় প্রায় ৩৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। শাখা পরিচালনা, নিরাপত্তা, নগদ পরিবহন ও অর্থ ব্যবস্থাপনা এই ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, ভোক্তাদের অর্থনৈতিক বোঝা প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা। নগদ তুলতে সময় ব্যয়, হাতে টাকা রাখায় সুদ না পাওয়া এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি এই হিসাবের অংশ। এত ব্যয় সত্ত্বেও দেশের খুচরা লেনদেনের প্রায় ৭৫ শতাংশ এখনো নগদে হয়। নগদ ব্যবহারের এই প্রবণতার পেছনে রয়েছে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের পারস্পরিক নির্ভরতা। ক্রেতারা নগদ ব্যবহার করেন, কারণ ব্যবসায়ীরা তা গ্রহণ করেন। আবার ব্যবসায়ীরাও নগদে লেনদেন করেন, কারণ তাঁদের সরবরাহকারী ও পাইকারি বিক্রেতারা একই পদ্ধতিতে লেনদেন করেন। ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তারেও রয়েছে নানা বাধা। মার্চেন্ট ফি, অর্থ নিষ্পত্তিতে বিলম্ব, পেমেন্ট ব্যবস্থার মধ্যে দুর্বল সংযোগ, অনির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট, প্রতারণার ঝুঁকি এবং ডিজিটাল আর্থিক জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা এর অন্যতম কারণ। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ডিজিটাল লেনদেনের অর্থ দ্রুত হাতে না পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের চলতি মূলধন ব্যবস্থাপনায় সমস্যা হয়। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য লেনদেনের ফি মুনাফার ওপর চাপ তৈরি করে। বিশ্লেষকদের মতে, নগদের ওপর নির্ভরতা কমাতে ডিজিটাল লেনদেনের খরচ কমানো, অর্থ নিষ্পত্তি দ্রুত করা এবং নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে লেনদেনের ব্যয় কমার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং কর ফাঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। News PhotoCard SHARES জাতীয় বিষয়: