হুমকির মুখে এজেন্ট ব্যাংকিং, ডাচ্-বাংলার ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ

প্রকাশিত: ৭:৩৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি :

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এজেন্ট ব্যাংকিং। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় এ ব্যবস্থায় গ্রাহকের আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাগেরহাট, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ ও গাইবান্ধায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। নওগাঁয় আবার ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের নাটক সাজানোর অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

সর্বশেষ বাগেরহাটের শরণখোলার তাফালবাড়ি বাজারে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের পরিচালক মো. ওমর ফারুক রাজুর বিরুদ্ধে প্রায় ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে আউটলেট বন্ধ রয়েছে এবং রাজু লাপাত্তা। গ্রাহকদের অভিযোগ, তিনি ভুয়া রসিদ ও মুঠোফোনে ভুয়া কনফার্মেশন বার্তা দিয়ে টাকা জমা নিতেন। প্রায় দেড় শতাধিক গ্রাহক এভাবে টাকা জমা দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি ব্যাংকের বাগেরহাট জেলা শাখাকে জানানো হলে কর্মকর্তারা অধিকাংশ রসিদ ভুয়া বলে দেখতে পান।

কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালীতে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অন্তত ১০ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৭ আগস্ট কর্মকর্তারা উধাও হওয়ার পর গ্রাহকেরা মামলা করেন। পুলিশ এজেন্ট মালিক হাকিম উদ্দিন ও ক্যাশিয়ার তাহসিন ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে।

ময়মনসিংহের নান্দাইলে অগ্রণী ব্যাংকের একটি এজেন্ট আউটলেট ২০২৫ সালের জুনে বন্ধ করে দেওয়া হলেও সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রেখে লেনদেন চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া রসিদের মাধ্যমে টাকা ও সঞ্চয়পত্র নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তাঁদের দাবি, এতে কোটি কোটি টাকা খোয়া গেছে।

গাইবান্ধার ধাপেরহাটে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখার দুই কর্মীর বিরুদ্ধে ৪৬ গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাঁদের ভুয়া জমা রসিদ ও এফডিআর চেক দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলেছে, অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং গ্রাহকদের টাকা ফেরতের উদ্যোগ চলছে।

আর নওগাঁর রাণীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিন ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়েছিলেন।

একের পর এক এসব ঘটনায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন করা গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা ও ব্যাংকগুলোর নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।