৩২ বীমা কোম্পানির মোট অনিষ্পন্ন বীমা দাবির পরিমাণ ৩৩৯০ কোটি টাকা প্রকাশিত: ৬:১৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩০, ২০২৪ বিশেষ প্রতিনিধি : দেশে ব্যবসা পরিচালনা করা ৩৬টি জীবন বীমা কোম্পানির মধ্যে ৩২টির কাছে প্রায় ১১ লাখ গ্রাহকের অনিষ্পন্ন বীমা দাবি জমেছে ৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। এরমধ্যে একটি কোম্পানির অনিষ্পন্ন দাবির পরিমাণই দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। বীমা কোম্পানিগুলোর দেখভাল বা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত দাবি সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ৩২টি জীবন বীমা কোম্পানির মোট অনিষ্পন্ন বীমা দাবির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৯০ কোটি ৩২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৮২ টাকা। আলোচ্য সময়ে মোট দাবি উত্থাপন করা হয় ৫ হাজার ৪৪৮ কোটি ৮১ লাখ ২৪ হাজার ৬০৮ টাকা। এরমধ্যে কোম্পানিগুলো পরিশোধ করেছে ২ হাজার ৫৮ কোটি ৪৮ লাখ ৭৮ হাজার ৯২৬ টাকা। বীমা আইন ২০১০ অনুযায়ী, গ্রাহক কোম্পানিতে বীমা দাবির আবেদন করার ৯০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হয়। কিন্তু মাসের পর মাস, বছরের পর বছর পার হলেও কিছু কোম্পানি দাবি পরিশোধ করছে না। বিশাল পরিমাণের বীমা দাবি অনিষ্পন্ন থাকার বিষয়ে খাত সংশ্লিষ্টরা অপরিকল্পিত ও মন্দ বিনিয়োগকে দায়ী করছেন। তাছাড়া এজেন্টদের উচ্চহারের কমিশন দেওয়া ও অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ও দায়ী বলে মনে করেন তারা। তারা বলেন, সময় মতো বীমা দাবি পরিশোধ না হওয়াতে সামগ্রিকভাবে বীমা খাতের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে দেশে জীবনবীমা গ্রাহণের হার বাড়ার বদলে কমছে। আইডিআরএ’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি অনিষ্পন্ন বীমা দাবি রয়েছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের। এককভাবে এই কোম্পানির বীমা দাবি জমেছে ২ হাজার ৩১০ কোটি ৯১ লাখ ৫৮ হাজার ৪০৩ টাকা। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই কোম্পানির বীমা দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল ২ হাজার ৩৪৫ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। পরিশোধ করেছে ৩৪ কোটি ৯৪ লাখ ৩২ হাজার ৫৩৭ টাকা। অর্থাৎ পরিশোধ করা হয়েছে মোট দাবির মাত্র ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অপরিশোধিত বীমা দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে ফারইস্ট ইসলামী লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. শহিদুল ইসলাম প্রতিবেদককে বলেন, আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। এখনো উন্নয়ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসা হয়নি। তবে অনিষ্পন্ন বীমা দাবি নিষ্পত্তি করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। অনিষ্পন্ন বীমা দাবিতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ৯ মাসে এই কোম্পানির ২৩১ কোটি ৮ লাখ ৯ হাজার ১৭৩ টাকা দাবি উত্থাপন করা হয়। নিষ্পত্তি হয় এক কোটি ৮৭ লাখ ৩৯ হাজার ২৭৬ টাকা বা মাত্র ০.৮১ শতাংশ। অনিষ্পন্ন দাবি জমেছে ২২৯ কোটি ২০ লাখ ৬৯ হাজার ৮৯৭ টাকা। এ বিষয়ে পদ্মা ইসলামী লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নূর মোহাম্মদ ভূঁইয়া প্রতিবেদককে বলেন, কোম্পানির কিছু সম্পদ বিক্রি করে বীমা দাবি পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য আমরা আইডিআরএ’র কাছে আবেদন করেছি। অনুমতি পেলেই কার্যক্রম শুরু করবো। আশা করছি, সেগুলো বিক্রি করে বীমা দাবি পরিশোধ করতে পারবো। দাবি পরিশোধে এরপরই পিছিয়ে আছে প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স। তিন প্রান্তিক মিলে এই কোম্পানির বীমা দাবি উত্থাপন হয় ১৭৬ কোটি ৬০ লাখ ৬৪৭ টাকা। পরিশোধ করা হয় মাত্র ৮ কোটি ৩০ লাখ ৮৬ হাজার ১৯৫ টাকা বা ৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। অনিষ্পন্ন দাবি রয়েছে ১৬৮ কোটি ২০ লাখ ১৪ হাজার ৪৫২ টাকা। প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাইদুল আমিন প্রতিবেদককে বলেন, আমরা দাবি পরিশোধে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৩৮ কোটি টাকার দাবি পরিশোধ করা হয়েছে। বছর শেষ হওয়ার আগে আরও অন্তত ২ কোটি টাকা পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে। হিসেবে গত ২৩ ডিসেম্বর বীমা মালিকদের সংগঠনের সঙ্গে আইডিআরএ’র বৈঠক হয়েছে। সেখানে দাবি পরিশোধের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি কোম্পানিগুলো দাবি পরিশোধে অগ্রণী না হয় তাহলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে দুটি বড় বিকল্প আছে। হয় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া নয়তো কোম্পানির নিবন্ধন বাতিল করা। কিন্তু দ্বিতীয়টি বিভিন্ন কারণেই করা কঠিন। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আমরা কোম্পানিগুলোর আর্থিক অনিয়মে জড়িত পরিচালকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে টাকা উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছি। দাবি নিষ্পত্তির জন্য এর আগে স্থায়ী সম্পদ বিক্রির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: