একীভূত ৫ ব্যাংকে অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সংসদে অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১২:৩৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২৬
সংসদে আমীর খসরু মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিনিধি: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, ঋণ জালিয়াতি ও আর্থিক অনিয়ম রোধে সরকার একটি সুসংগঠিত রেজল্যুশন কাঠামো বাস্তবায়ন করছে। এ লক্ষ্যে সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে **‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’** গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব ব্যাংকের অনিয়ম তদন্তে বিশেষ ফরেনসিক অডিট চলছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম জানতে চান, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সীমাহীন লুটপাট, বেনামী ঋণ জালিয়াতি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কারণে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে কয়েকটি শরিয়াহভিত্তিক ও বেসরকারি ব্যাংকে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকারের পদক্ষেপ কী—তা জানতে চান তিনি।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি আর্থিক খাতকে স্থিতিশীল করতে সরকার ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করেছে। এই আইনের আওতায় এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ (এক্সিম ব্যাংক) পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি—এই পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, একীভূতকরণের ফলে পাঁচটি ব্যাংকের সব আমানতকারীর দাবি ও স্বার্থ নতুন ব্যাংকে সংরক্ষিত হয়েছে। একই সঙ্গে ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬ অনুযায়ী সুরক্ষিত আমানতের সর্বোচ্চ সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া রেজল্যুশনের আওতায় অবসায়নাধীন ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত স্কিম অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে তাদের অর্থ ফেরত পাচ্ছেন। আগে এ আইনের আওতায় না থাকা ফাইন্যান্স কোম্পানির আমানতকারীদেরও এখন সুরক্ষার আওতায় আনা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের বিনিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়মে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে বিশেষ ফরেনসিক অডিট পরিচালিত হচ্ছে। অডিট প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের নিয়োগ বাতিলসহ অন্যান্য উপযুক্ত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, ব্যাংক মূলত আমানতকারীদের অর্থে পরিচালিত হয় এবং তাদের স্বার্থ রক্ষা পরিচালনা পর্ষদের প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ঋণ ও বিনিয়োগ সুবিধা গ্রহণ এবং ব্যাংক ও আমানতকারীদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে কয়েকটি ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এর ফলে আমানতকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয় এবং পুরো ব্যাংকিং খাতে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা দেখা দেয়।

এ পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের শেষ দিকে ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (২০২৩ পর্যন্ত সংশোধিত)-এর ৪৭(১) ও ৪৮(১) ধারার ক্ষমতাবলে ১১টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে আইনের ৪৫ ধারার আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক মনোনীত পরিচালক ও স্বাধীন পরিচালক নিয়োগের মাধ্যমে এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়।

অর্থমন্ত্রী জানান, পরবর্তীতে ২০২৫ সালের মার্চ, আগস্ট ও ডিসেম্বর মাসে আরও পাঁচটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।