শেয়ারবাজারে লাল নরক! সর্বস্বান্ত বিনিয়োগকারীরা, নীরব বিএসইসি! প্রকাশিত: ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০২৫ বিশেষ প্রতিনিধি : বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার। একের পর এক দরপতনে বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা। বুকফাটা আর্তনাদে মুখরিত মতিঝিলের ব্রোকারেজ হাউসগুলো, অথচ নীতিনির্ধারকদের টনক নড়ছে না। সাধারণ মধ্যবিত্ত বিনিয়োগকারীরা স্বপ্ন দেখেছিলেন একটু সচ্ছলতার, সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের, কিন্তু এখন তাদের সামনে শুধুই শূন্যতা, ক্ষয় আর কান্না। শেয়ারবাজারের এই ধসের জন্য বিনিয়োগকারীরা সরাসরি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে দায়ী করছেন। তার বিতর্কিত নীতিগুলো বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ধ্বংস করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর মতিঝিলে কান্নায় ভেঙে পড়েন মধ্যবয়সী বিনিয়োগকারী শফিক আহমেদ । চোখ মুছতে মুছতে বললেন, “সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল! সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছিলাম। আজ নিজের ভবিষ্যৎই অন্ধকার।” শুধু তিনিই নন, তার মতো হাজারো বিনিয়োগকারী এখন পথে বসার উপক্রম। মাথায় হাত দিয়ে হতাশায় বসে থাকা বিনিয়োগকারীদের দৃশ্য যেন শেয়ারবাজারের চরম দুর্দশার প্রতিচিত্র এঁকে দিচ্ছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) একের পর এক দরপতনের শিকার। বহু কোম্পানির শেয়ারের দাম তলানিতে ঠেকেছে। ব্রোকারেজ হাউসগুলোর মালিক ও বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএসইসি চেয়ারম্যানের “ভুল নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা” বাজারের এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। এক শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বাজারকে স্থিতিশীল করতে তিনি কোনো কার্যকর উদ্যোগই নেননি। বরং এমন কিছু কঠোর নিয়ম চাপিয়ে দিয়েছেন, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য চরম ক্ষতিকর হয়েছে।” বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, বিএসইসি চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছেন। তার নীতির ফলে তারল্য সংকট তৈরি হয়েছে, শেয়ারের দাম পড়ে গেছে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এক বিনিয়োগকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদি দায়িত্বশীল হতো, তাহলে আজ আমরা পথে বসতাম না। বিএসইসি কি ঘুমিয়ে আছে?” অন্য একজন বিনিয়োগকারী কড়া ভাষায় বলেন, “আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ এভাবে উধাও হয়ে যাবে, আর বিএসইসি নিশ্চুপ বসে থাকবে? তারা কি কেবল বড়লোকদের স্বার্থ রক্ষা করতেই এখানে? সাধারণ মানুষ মরলে কিছু যায় আসে না?” অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, শেয়ারবাজারের এই সংকট শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং জাতীয় অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাজারে তারল্য সংকটের ফলে নতুন বিনিয়োগ আসছে না, বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারাচ্ছেন, আর এর চূড়ান্ত ধাক্কা আসবে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এখনই জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠবে। অনেকে সরাসরি সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন। এক বিশ্লেষক বলেন, “শেয়ারবাজারের এই ধসের কারণে যদি মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলে, তাহলে ভবিষ্যতে বাজারে আর কেউ বিনিয়োগ করতে সাহস পাবে না। সরকারের উচিত এখনই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া!” বাংলাদেশের শেয়ারবাজার আজ হতাশা, ক্ষোভ ও কান্নার প্রতীক হয়ে উঠেছে। মধ্যবিত্ত বিনিয়োগকারীদের স্বপ্নভঙ্গের এই গল্প শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়, বরং নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্বহীনতার প্রতিচিত্রও। শেয়ারবাজারের এই দুর্দশা থেকে মুক্তির কোনো পথ আদৌ আছে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা সন্দিহান। তবে একটাই প্রশ্ন— এই অবস্থা চলতে থাকলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কি একদিন পুরোপুরি শেয়ারবাজার থেকে বিদায় নেবে? নাকি শেষ মুহূর্তে কোনো অলৌকিক সমাধান আসবে? সময়ই দেবে এর উত্তর… কিন্তু ততদিনে কতজন সর্বস্বান্ত হবে? SHARES অর্থনীতি বিষয়: