এক বছরে ছোট ঋণের খেলাপি গ্রাহক বেড়েছে ২৪ লাখ

প্রকাশিত: ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে এক কোটি টাকার কম ঋণের খেলাপি গ্রাহকের সংখ্যা এক বছরের ব্যবধানে ২৪ লাখ বেড়েছে। গত বছরের মার্চ শেষে এ ধরনের খেলাপি গ্রাহক ছিল ২১ লাখ ৬৩ হাজার। চলতি বছরের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫ লাখ ৪৩ হাজারে। অর্থাৎ এক বছরে এ শ্রেণির খেলাপি গ্রাহকের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খুচরা পর্যায়ের ঋণের গুণগত মানের অবনতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, পরিবারের ঋণের বোঝা বৃদ্ধি, এসএমই কার্যক্রমের ধীরগতি এবং কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা কমে যাওয়ায় ছোট ঋণে খেলাপির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ।

এক কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণের মোট স্থিতি ছিল প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। এর ১৫ শতাংশ খেলাপি। টাকার অঙ্কে খেলাপির হার তুলনামূলক কম হলেও গ্রাহকের সংখ্যায় এ শ্রেণিতে খেলাপি দ্রুত বেড়েছে।

অন্যদিকে ৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণের স্থিতি ছিল প্রায় ৫ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। এ শ্রেণির ঋণের ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ খেলাপি। এক বছরের ব্যবধানে বড় ঋণের খেলাপি গ্রাহকের সংখ্যা ১ হাজার ৪৭৮ থেকে বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৩৫।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ থেকে ১০ কোটি টাকার ঋণের ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ, ১০ থেকে ২০ কোটি টাকার ঋণের ৪৫ শতাংশ, ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকার ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ, ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার ঋণের প্রায় ৩৯ শতাংশ এবং ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার ঋণের প্রায় ৪৫ শতাংশ খেলাপি।
খাতভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি খেলাপি রয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে। এ খাতের ঋণের প্রায় ৪৪ শতাংশ খেলাপি। শিল্প খাতে খেলাপির হার প্রায় ৩২ শতাংশ এবং সিএমএসএমই খাতে ৩৪ শতাংশ। সিএমএসএমইর মধ্যে কুটির শিল্পে খেলাপির হার সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৫৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, উচ্চমূল্যের খেলাপি ঋণে আর্থিক ক্ষতি বেশি হলেও স্বল্পমূল্যের ঋণ হিসাব দ্রুত খেলাপি হয়ে পড়া ব্যাংক খাতের জন্য নতুন সতর্কসংকেত।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার ধীরগতির কারণে ছোট ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা কমেছে। এর প্রভাব খেলাপি ঋণে প্রতিফলিত হচ্ছে।

জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবর রহমান বলেন, বড় ঋণের পাশাপাশি কৃষি ও এসএমই খাতেও খেলাপি বাড়ছে। এ কারণে শাখা পর্যায়ে তদারকি জোরদার করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ নীতিমালার আওতায় এসব ঋণ নিয়মিত করার চেষ্টা চলছে।