এক মাসে ইসলামী ব্যাংকের আমানত কমেছে ১৯ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিত: ৭:৪৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে এক মাসে আমানত কমেছে ১৯ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা। গত ৩১ মে ব্যাংকটির আমানত ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। ৩০ জুন তা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬২১ কোটি টাকায়। সেপ্টেম্বর শেষে আমানত কিছুটা বেড়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯২৩ কোটি টাকা হলেও মে মাসের তুলনায় তা এখনো ১৮ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা কম।

ব্যাংকটিতে চার মাসের বেশি সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ নেই। এর মধ্যে পাঁচ অভিজ্ঞ উপব্যবস্থাপনা পরিচালককে (ডিএমডি) ৩০ অক্টোবর বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনায় নতুন সংকটের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গত ১৪ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়। ওই মাসে ব্যাংকটিকে ১৭ হাজার কোটি টাকা তারল্যসহায়তা দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল গ্রাহকের আস্থা ফেরানো ও আমানত উত্তোলনের চাপ সামাল দেওয়া।

অবসরে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া পাঁচ ডিএমডি হলেন মাহমুদুর রহমান, মনিরুল আলম আল মামুন, রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ সাইদ উল্লাহ ও মাকসুদুর রহমান। ২০২৪ সালে তারা এসইভিপি থেকে ডিএমডি পদে পদোন্নতি পান। তাদের নিয়োগপত্রে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরির সুযোগ-সুবিধার শর্ত ছিল বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির কর্মকর্তারা। তবে দুই বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার যুক্তিতে তাদের অবসরে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের কারও বয়সই ৩০ অক্টোবর ৬০ বছর হচ্ছে না।

চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছেন পাঁচ কর্মকর্তা। তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চেয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি দেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান জহির হোসেন। তবে মেয়াদ বাড়ানো ও পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত তার এখতিয়ারে নেই বলে জানান তিনি।

ব্যাংকটির গ্রাহক হামিদুল হক বলেন, আস্থা না থাকায় গত আগস্টে তিনি ২০ লাখ টাকা তুলে দুটি সরকারি ব্যাংকে জমা রেখেছেন।

ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসেনের দাবি, গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকে বড় কোনো সংকট নেই এবং বাংলাদেশ ব্যাংক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।